"ছেলেবেলার স্মৃতি"

Words
443
Reading
2 min
Listen
Play
6y

IMG20210106175039.jpg

প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন সবাই, আশাকরি প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের সাথে ছেলেবেলার এমন স্মৃতির কথা শেয়ার করবো, যেটা পড়ে আপনাদের প্রত্যেকের ছোটোবেলা, স্কুল জীবনের কথা মনে পড়ে যাবে।

ছোটোবলা যখন আমি স্কুল যেতাম তখন কিন্তু এখনকার মতো এতো রকমারি টিফিন পাওয়া যেতো না, বাড়ি থেকেও তেমন টিফিন দিতো না, মাঝে মাঝে ১/২টাকা দিতো সেটা দিয়েই খাবার খেতাম ৩/৪ দিন। তখন অবশ্য ১/২টাকায় অনেক কিছু পাওয়া যেতো।

তখনকার খাবার বলতে যেটা প্রথমেই মনে পরে সেটা হলো আচার। বিভিন্ন রকমের আচার তখন পাওয়া যেতো,এক এক দিন এক এক রকম আচার খেতাম, তাছাড়াও আলুকাবলি, ঝালমুড়ি, ফুচকা এগুলো তো ছিলোই। তবে যাই খাইনা কেনো ছুটির পর আচার খেতে খেতে হেঁটে বাড়ী ফেরার মজাই আলাদা ছিলো।

এখনকার দিনের বাচ্চারা সেই মজা কোনদিন বুঝতেই পারবে না, এখন তো কতো অপশন, ম্যাগী, চিপস্, বার্গার, এগরোল, চাউমিন আর ও কতো কি।
এতকিছুর মধ্যে আচারের জায়গা প্রায় নেই বললেই চলে।

আমার মনে পরে স্কুল এর বাইরের আচার কাকু আমাদের মুখ চিনত, গেলেই বলতো আজ কিসের আচার দেবো, কাকুদের নাম জানতাম না, আমাদের জন্যে তারা ছিলো ফুচকা কাকু, আচার কাকু, ঝালমুড়ি কাকু। এখনো যখন স্কুল এর সামনে দিয়ে যাই, চোঁখের সামনে ভেসে ওঠে সেইসব দিনগুলো।
কাকুরা কে কোথায় আছে জানিনা, দেখা হয়না বহু বছর।

এরপর সবাই স্কুল ছাড়লাম, আর সেইসব দিনও হারিয়ে গেলো, তারপর মাঝে মাঝে খাওয়া হতো,তবে সেই মজাটা থাকতো না, তবে "চালতার আচার"আমার ভীষণ প্রিয় ছিল, আমার শাশুড়ি মাও ভীষন ভালো আচার করে, সারাবছর কিছু না কিছুর আচার আমাদের বাড়িতে থাকে। যখন আমি আচার খাই এক মুহুর্তের জন্য ছোট্টবেলায় ফিরে যাই।এখন তো চালতার সময় মা কাল আচার করলো,তাই ভাবলাম আপনাদের সাথেও শেয়ার করি, যদি কারোর ছোটোবেলার স্মৃতি মনে পরে, যদি কেউ একটু আনন্দ পায়,

সেদিন বাজার থেকে মা নিজেই চালতা কিনে এনেছে।সেগুলো কেটে, সারারাত জলে ভিজিয়ে রেখেছিল। যাতে কষটা বেরিয়ে যায়, পরের দিন সেগুলো হালকা সেদ্ধ করে,জল ঝরিয়ে, শিলনোড়ায় থেঁতো করে নুন হলুদ মাখিয়ে রোদে দিয়েছে, একদিন রোদ দিয়ে পরের দিন আচার করেছে।

প্রথমে কড়াইতে তেল দিয়ে মা তেজপাতা আর পাঁচ ফোড়ন দিয়েছে, আর তারপর রোদে দেওয়া চালতা গুলো দিয়ে তার মধ্যে চিনি দিয়েছে, চিনি গুলো মিশে গেলে অল্প জল দিয়েছে যাতে পুড়ে না যায়। তারপর একটা মশলা করে মা আচারের জন্যে সেটা ছড়িয়ে দিয়ে জল শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে, আর তারপর নামিয়ে দিয়েছে, ব্যাস আচার রেডি, ভীষণ ভালো হয় খেতে, ভীষণ সুস্বাদু। বেশ ঝাল ঝাল, মিষ্টি মিষ্টি, টক টক অসাধারণ।

বাজার থেকে আনা চালতা-
IMG20201224220937.jpg

মা চালতা কাটছে-
IMG20201224220958.jpg

সব চালতা কাটা হয়ে গেছে-
IMG20201224221021.jpg

সারারাত ভিজিয়ে রাখার পরের দিন উনুনে চালতা সেদ্ধ হচ্ছে-
IMG20201225095325.jpg

সেদ্ধ করার পর জল ঝরিয়ে নেওয়া হচ্ছে-
IMG20201225095301.jpg

থেঁতো করার পালা-
IMG20201225103223.jpg

নুন হলুদ মাখিয়ে রোদ দেওয়া হবে-
IMG20201225103540.jpg

আচার তৈরির পর্ব চলছে-
IMG20201227142721.jpg

আচারের মশলা (জিরে,ধনে মৌরি, তেজপাতা, শুঁকনো লঙ্কা শুঁকনো খোলায় ভেজে গুড়ো করা)-
IMG20201227142752.jpg

আচার রেডী-
IMG20201227193912.jpg
IMG20210106175007.jpg

আশাকরি, আপনারাও তৈরী করবেন, এবং খেতে আপনাদেরও ভালো লাগবে।
ভালো থাকবেন, ধন্যবাদ।

"ছেলেবেলার স্মৃতি" | Ecency