একটা ভাবনা বেশ কয়েকদিন ধরে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ভাবনার বিষয় হচ্ছে প্রেম!অনেকেই ভাববে হয়তো অসময়ে প্রেম নিয়ে ভাবনা কেন?ব্যাপারটা যে খুব তুচ্ছ তাও না! ফেসবুকের কল্যাণে আমরা সবাই দূরে থেকেও সবার খোঁজ জানতে পারছি।কয়েকদিন আগে দুইজন আপুর বিয়ের ছবি দেখলাম।একজন আপুকে তার পরিচিত মানুষের সাথে দেখলাম আর অন্যজন কে অপরিচিত একজনের সাথে।তবে দুজনের মুখের হাসিটা প্রাণবন্ত।
আমরা সবাই জানি যে জন্ম,মৃত্যু, বিয়ে তিন বিধাতা নিয়ে।বিয়ে বিধাতার ইচ্ছে হয় তাহলে প্রেমটা কি?প্রথম দেখাতেই প্রেম বা একি পথে চলতে চলতে গভীর প্রনয়। সব কিছু কি তাহলে নিছক কাকতালীয় ঘটনা?!বিয়ের মধ্যেও আবার ভিন্নতা আছে।গভীর প্রেম থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পরিবারের কারণে দুইজনের পথ আলাদা করে ফেলেছে।আবার এই প্রেমের জন্যই পরিবার, সমাজ সব ছেড়ে যায় শুধুমাত্র একসাথে পথচলার জন্য!আবার মেয়েটা হয়তো পরিবারে চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছে,তারপর এই প্রেমই তাকে সংসারে মায়া ত্যাগ করে নতুন পথে যাবার পথে সাহস যোগায়।প্রেম নিয়ে নিজের চোখে দেখা অদ্ভুত দুইটি ঘটনার সাক্ষী আমি নিজেই।আমাদের প্রতিবেশী আপুর বিয়ে।ছেলে পছন্দ করা হয়েছে।কাবিনের তারিখ পছন্দ করা হচ্ছে।এমন সময়ে একরাতে আপু বাসায় ফিরতেছে না দেখে, সবাই তো খুব চিন্তা করতেছে। একটু রাত করেই ফিরলো আপু, সাথে একজন ভাইয়া।ভাইয়া ছিলো সনাতন ধর্মের আর আপু মুসলিম। ভাইয়া এই প্রেমের টানেই নিজের ধর্ম, পরিবার সমাজ সবকিছুকে ফেলে শুধু আপুকেই গ্রহন করেছে!
এটাও কিন্তু প্রেম!
এর পরের ঘটনাটি আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন।ছোটবেলা থেকে যৌবনের প্রথম আকর্ষণে তাদের প্রেমের শুরু।সম্পর্কে তারা ছিলো কাজিন।পরিবারে বাকি সবাই তাদের এই ভালোলাগাকে সমর্থন দিয়েছিলো।প্রাপ্ত বয়স্ক হলে ঘটা করে আয়োজন করে চার হাত এক করে দেয়া হবে,এই আনন্দে সবাই খুশি।এভাবে দিন চলতে লাগলো।বয়সের সাথে সাথে তাদের প্রেমের গভীরতা একটু একটু করে বাড়ছে।হঠাৎ একদিন ভাইয়া এর ছন্দপতন করে, কেমন যেনো আনমনা হয়ে গেল.....। আপুর প্রতি দিন দিন উদাসীন ভাবটা বেড়েই যাছে তার।সবাইকে চমকে দিয়ে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসলো।সে নাকি তাকে অগ্রাহ্য করতে পারেনি।এটাও কিন্তু প্রেম!
আবার কিছু কিছু প্রেম আছে,যা হৃদয়ের এতটা গভীরে থাকে যে, কখনো ব্যক্ত করা হয় না।সেটা আজীবন হৃদয়ে ছোট্ট কুটিরে তালাবদ্ধ হয়েই থাকে।
এবার এই প্রেম নিয়ে আমার নিজের অভিজ্ঞতাই বলি।আড্ডাবাজ হিসেবে বন্ধু মহলে বেশ নামকরা ছিলাম আমি।আড্ডাতেই মেতে থাকতাম দেখে প্রেমে এই বিষয়টাতে বেশী মাথা ঘামাতাম না। এভাবেই কাটছিলো দিন।হঠাৎ করোনা এসে নিজের ঘরে বড্ড একা বানিয়ে দিল।বন্ধুবৃত্তের মধ্যে সবাই ব্যস্ত হয়ে যেতে লাগলো। নিজের মধ্যে একাকিত্বটা ঝেকে ধরলো।তখন প্রথমবারে মতো একজন সঙ্গীর খুব অনুভব করলাম।মনে পরলো এক পুরোনো বন্ধুর কথা।বেশীর ভাগ সময় যার সাথে ঝগড়া করে কাটানো লাগতো।মাঝে মাঝে তো এত ঝগড়া লাগতো যে সহ্যই করতে পারতাম না।এভাবে আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়লো।আবার কোন এক কারনেই হুট করেই কথা বলা শুরু হলো।করোনা ঐ টানা লকডাউনে সবচেয়ে বিরক্তিকর বন্ধু হয়ে গেল প্রিয়।
'হঠাৎ প্রেম' বলে যে একটা কথা আছে সেটা হঠাৎ করেই আমাদের জীবনে সত্যি হয়ে গেল।একসাথে চলার আজ ৩৯৬ তম দিন।
আসলেই এই প্রেম টা বড্ড অদ্ভুত!!