কুমিল্লার ময়নামতি গিয়েছিলাম। সেখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য এত সুন্দর যে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ঐতিহ্য এবং প্রকৃতির কি এক অপূর্ব সম্মিলন!
আমরা ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে ঘাসের উপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হটাৎ চোখে পড়লো একটা গাছ। একটা নয়, আসলে দুটো।
তারা পারস্পরিক কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে ঠায় দাড়িয়ে আছে। কিন্তু আমরা যেখানে বসেছি, সেখান থেকে দেখলে মনে হয় তারা যেন একটাই গাছ। একটার মাথার উপরে আরেকটা। আমি এই এংগেলে তাদের কম্বিনেশন দেখে মুগ্ধ!
সাথে সাথে কয়েকটি ছবি তুললাম। ছবিতেও যেন মনে হচ্ছে একটা আরেকটার উপরে। ঠিক যেন প্রেমিকা হাটতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেছে। আর বেচারা প্রেমিক কাধে তুলে নিয়েছে প্রিয়াকে। কি রোমান্টিক!
তখন মাথায় একটা কল্পনা খেলে গেলো। গাছ দুটির এই এংগেল জনিত দৃষ্টিবিভ্রম দেখে একটা কথা মনে পরে গেলো।
আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এমন কিউট রোমান্টিক কাপল ফটো আপ্লোড দেই অনেক সময়, দেখে সবাই ভাবে, আহা! কি রোমান্টিক জুটি। না জানি কত ভাব ভালোবাসা! কত সুখ তাদের সংসারে-সম্পর্কে। অথচ হয়তো তারা ভেতরে ভেতরে ভীষণ অসুখী।
যেমন ধরেন নব্বইয়ের আলোচিত তারকা জুটি ছিল হুমায়ুন ফরিদী ও সুবর্না মোস্তফা। তখনকার নাট্যপ্রেমী মানুষজন তাদেরকে আদর্শ কাপল মনে করতো। অথচ পরে দেখা গেলো...
এরপরে ধরেন এই যুগের তাহসান মিথিলা। কি রোমান্টিক জুটি মনে হত! অথচ পরে জানা গেলো এটা ছিলো আমাদের ভুল পারসেপশন!
এই দুটি উদাহরনের বাইরে এরকম আরো অসংখ্য দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজে ছড়িয়ে আছে। আমরা বাহির থেকে তাদের সুখি সুখি মুখ দেখে ভাবি, তারা কতনা কাছের.. কত না আপন! অথচ গাছ দুটির মত তারাও আসলে পরস্পরের থেকে দূরে...
আমি রিমু। গৃহিণী এবং অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। ব্লগিং ভালো লাগে।