মাছ ধরার নেশা

Words
605
Reading
3 min
5y
নিলয় তার বাবামার আদরের ছোট সন্তান। তার একবছরের বড় একটি বোন আছে যার নাম নীলা। তাদের বাবা একজন সেনাকর্মকর্তা। তারা তার পরিবারের সাথে টাঙ্গাইল শহরে বসবাস করে। নিলয় অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র, শুধু যে সে লেখাপড়াতেই ভালো এমন নয়, লেখাপড়ার পাশাপাশি লেখাধুলা ও স্কুলের বিভিন্ন প্রকার কারিকুলাম একটিভিটিসে অংশগ্রহণ করে। সুযোগ পেলে ঘরের কাজে মাকে সাহায্য করে। এজন্য ঘরের সবাই তাকে ভীষণ পছন্দ করে। ছোটকাল থেকেই নিলয় তার বাবার একটি শখ দেখে আসছে এবং তা হলো মাছ ধরা। সে ছোটকাল থেকে দেখে আসছে তার বাবার অফিস যখন বন্ধ থাকত তখন তিনি মাছ ধরার জন্য ছিপ নিয়ে বেড়িয়ে পরতেন। যখনই টিকিট কেটে মাছ ধরার প্রতিযোগিতার কথা শুনতেন তখনই কোনোভাবেই মাছ ধরার সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাইতেন না। এমনও অনেক দিন গেছে, সারাদিন অফিস করে রাতের বেলা মাছ ধরার আয়োজন নিয়ে বেরিয়ে পরতেন। একটা মূলত উনার শখ, উনার জন্ম যে গ্রামে হয়েছিল, বর্ষাকালে সে গ্রামের চারপাশ পানি ধারা পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এ থেকেই উনার মাছ ধরার শখ।

একদিন নিলয়ের বাবা, ছিপ দিয়ে মাছ ধরবে বলে ৫০০০ টাকার টিকেট কিনল, বাজার থেকে মাছ ধরার বিভিন্ন আয়োজন কিনে আনল এবং পরেরদিন মাছ ধরতে যাবে বলে রাতেরবেলা সবগুলো উপকরণ গুছিয়ে রাখল। পরেরদিন যেই মাছ ধরতে যাবে, সে সময় নিলয় বায়না করে বসল যে সে তার বাবার সাথে মাছ ধরা দেখতে যাবে। তারপর তার বাবা নিলয়কে তার সাথে নিয়ে গেল। নিলয় তার বাবার সাথে গিয়ে দেখল, বিশাল এক পুকুর, সেই পুকুরপাড়ের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মানুষ বসে ছিপ দিয়ে মাছ ধরছে এবং তার বাবা ও মাছ ধরা শুরু করছে। সিফাত তার বাবার সাথে পুকুরপাড়ের সবুজ ঘাসে বসে মাছ ধরা দেখছে। মিনিট পাঁচেক পর সে লক্ষ্য করল তার বাবার ছিপে একটি বড় মাছ লেগেছে। পাশে থেকে মাছ ধরতেছিল একজন লোক উঠে এসে তার বাবাকে মাছটি টেনে পাড়ে আনতে সাহায্য করছিল, সে এক বিশাল বড় কাতলা মাছ। এটিই ছিল সে পুকুর থেকে ধরা সবচেয়ে বড় মাছ। এই দৃশ্যটি তার ভীষণ ভালো লাগল।

নিলয় যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত তখন ঈদের ছুটিতে সে তার পরিবারের সাথে দাদা বাড়ি বেড়াতে গেল। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ হবার পর শুরু হয় আড্ডা। তার বড় ফুপি, তার বাবার মাছ ধরার নেশা নিয়ে একটি ঘটনা বলে, তার বাবা যখন যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত, তখন একদিন গ্রামের কাঁচা সড়ক দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে যাচ্ছিল, তখন ছিল বর্ষাকাল রাস্তার চারপাশ পানি ধারা পরিপূর্ণ ছিল। বর্ষার পানিতে সম্পূর্ণ বিল ডুবে গেছে। স্কুলে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশের একটি ডুবার কাদার মধ্যে একটি মাছ লাফাতে দেখে সে সাথে সাথে তার হাতের বইগুলো রাস্তার একপাশে রেখে কাদার মধ্যে নেমে পরে মাছ ধরার জন্য। সে মাছটি ধরে, তার বইগুলো নিয়ে বাড়ি চলে আসল।

বাবার মাছ ধরার এসব গল্প শুনতে শুনতে, সিফাতের মধ্যেও মাছ ধরার কৌতুহল জেগে উঠল। একদিন সিফাত স্কুল থেকে বাসায় ফিরে দেখে ঘরে কেউ নেই, ঘর তালা, পরে পাশের বাসার আন্টি থেকে চাবি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করল। ঘরে প্রবেশ করার পর, সে ঘরের এককোনে তার বাবার মাছ ধরার ছিপ গুলো দেখতে পেল। তা দেখে হঠাৎ তার মাছ ধরার ভীষণ ইচ্ছা জাগল। ঠিক সে সময় বাইরে প্রচুর বৃষ্টি পরতে লাগল। সে কিছু আটা দিয়ে কাই বানিয়ে তার বাবার ছিপ নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বেড়িয়ে পরল। রাস্তার পাশে সে একটি ডোবা দেখতে পেল, সে ডোবাতে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে মাছ ধরার পর সে মাত্র একটি ছোট পুটি মাছ ধরতে পারল। এটি তার জীবনের প্রথম মাছ ধরা তাই সে ভীষণ খুশি। বাড়িতে গিয়ে দেখে তার বাবা অফিস থেকে এসেছে এবং তার হাতে মাছ ধরার ছিপ দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাস করলঃ এই বৃষ্টির মধ্যে ছিপ নিয়ে কোথায় গিয়েছিলে?

সিফাত বললঃ বাবা, আমি মাছ ধরতে গেছিলাম। দেখো, আমি এই মাছটি ধরেছি!

IMG_20201004_111900.jpg

সে মনে করেছিল যে তার বাবা এ দেখে খুশি হবে। ছোট একটি পুটিমাছ তা দেখে তা বাবা হেসে দিল! বললঃ তিন ঘন্টা এই বৃষ্টিতে ভিজে তুমি এই ছোট একটি পুটিমাছ ধরেছ! যাও গোসল করো গিয়ে, এভাবে আর কখনো না বলে মাছ ধরতে যেও না।

মাছ ধরার নেশা | Ecency