মেয়েটির নাম সাহিদা।
তার বয়স এই আনুমানিক 10 বছর। তার পরিবারে সবাই আছে, সে সবার আদর পেয়েছে । পায়নি শুধু দাদা-দাদীর আদর।
[Source](file:///storage/emulated/0/Download/a-toddler-holds-a-baby-doll-and-bottle-KDGWE6.jpg)
তার ভাইয়ের মিনিমাম 20 বছর পর তার জন্ম হয়। তার বরআব্বুর ছেলেদের তো বিয়ে পর্যন্ত হয়ে গেছে। সেই সময় তার জন্ম।
তার বাবা মা অনেক মানত দোয়া খায়ের করে তাকে পেয়েছে, এটা সে ছোটবেলা থেকে শুনে আসতেছে। তার স্কুল ভালো লাগে না। তবে সে পড়ায় অনেক ভালো। সে পুতুল খেলা খেলবে, তবে বাহিরের কোন বন্ধু কিংবা বান্ধবির সাথে নয়। তাকে গল্প শোনাতে হবে, তাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে, তার চুল বেধে দিতে হবে, তার সব আল্লাদ মানতে হবে। এই সব কিছু আল্লাদি কাজ সে একজনের সাথেই করে, তিনি হচ্ছেন তার বড়আব্বু।
তার বড়আব্বুর চুল দাড়ি সব পাকা। জনতা ব্যাংকে চাকরী করতেন, তবে অবসরে গেছেন কয়েকবছর হল। দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে থাকে আমেরিকায় আর এক ছেলে সাথেই থাকে।
ছোট শহরে মেয়েটির খেলার সাথী বলতে তার বড়আব্বু আর বড়আম্মু। মনে হয় যেনো তার দাদা-দাদীর জায়গা পুরণ করছে।
এমন করেই দিন যাচ্ছিলো বেশ।তবে সব কিছু উলট-পালট হয়ে গেলো কয়েকদিনে। মনে হচ্ছে তার পৃথিবী একদিনেই পরিবর্তন হয়ে গেছে।সে স্তম্ভিতো হয়ে গেছে তার বড়আব্বু মারা যাওয়ার পর।
তার গল্প শোনানোর সঙ্গী তার কাছে আর নেই।তবে সে এটা বুঝেছে কয়েকদিন পরে। মারা যাওয়ার দিন সে সাভাবিক ছিলো, তার এটা পুতুলের খেলার মতই মনে হচ্ছিলো । পুতুল নষ্ট হয়ে গেছে আবার নতুন পুতুল আসবে। ঠিক তার বরআব্বুও ফিরে আসবে নতুন করে। কিন্তু যখন উনি আসেন না তখন সে বুঝতে পারে । একাকি ফুপিয়ে কান্না করে। কারো সাথে কথা বলে না। খাওয়া দাওয়ার চাহিদা তার আর নেই।
তাকে ডা: এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ডা বলে তাকে আপনারা সবাই সময় দেন, তার সাথে কথা বলেন, এই সমস্যা ঠিক হইতে কিছুদিন সময় লাগবে।
ঠিক হয়েছে তবে সেই একাকিত্বতা ঠিক হয়নি। সে কথা বলে, তবে অন্য কারো সাথে। অশরীরী কারো সাথে। অশরীরী বলা ঠিক হবে কিনা জানি না, তবে সব সময় সে তার সাথেই কথা বলতো। পুতুল খেলতো। গল্প করতো। এভাবে করেই জীবন কাটতেছিলো তার।
আজকে তার 25 তম জন্মদিন। আগামীদিনের জন্য শুভকামনা রইলো। সবাই মিলে কেক কাটবে তার সাথে, কিন্তু সে ডাকছে অন্য কাউকে,,,,
“ বড়আব্বু আসো কেক কাটবো”