২০২১ সালের আজকের এই দিনে পৃথিবীতে আলোকিত করে হাজির হয়েছিল আমাদের সাবা৷ পৃথিবীতে এসেই কান্না ভেজা কন্ঠে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছিল সে৷ আজ প্রায় ১ বছর পার হয়ে গেল। সেদিনের সেই পিচ্চি সাবা আজ কিছুটা বড় হয়েছে। এখনো হাঁটতে পারে না পুরোপুরি, তবে ভাঙা ভাঙা পায়ে একটু একটু করে এদিক সেদিক ছুটে বেড়াতে পারে। আর কিছুদিন পর হয়তো পুরোপুরি ছুটে বেড়াতে পারবে এই পৃথিবী জুড়ে।
কিছুদিন ধরে শরীরটা খারাপ যাচ্ছিল সাবার। তাই আজ সকালে কুমিল্লা নিয়ে আসা হলো ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে। সৌভাগ্যক্রমে আজকের দিনটাতেই ওর জন্মদিন। সারাদিন এদিক সেদিক আর হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করে সবাই কম বেশি কিছুটা হলেও ক্লান্ত।
সারাদিনের ব্যাস্ততা শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেই মনে পিড়ল সাবার জন্মদিনের কথা! সাথে সাথে আবার কান্দিরপাড় দৌড়ে গেলাম। সবার প্রথমেই কেক খুঁজে বের করার পালা। তবে মনমতো কোনো কেক খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক খুঁজাখুঁজি শেষে অবশেষে এই কিউট কেকটা খুঁজে পেলাম। ভ্যানিলা ফ্লেভারের কেক আমার ভাল লাগে না। তবে অন্য কোনো ফ্লেভারের কেকের মাঝে মনমতো কিছু খুঁজে পাই নি। তাই শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই এইটা কিনে নিয়ে আসি৷
কেক ছাড়াও কিছু বেলুন, ক্যান্ডেল আর ছোট একটা ছুড়ি কিনে নিই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যতটা সুন্দর করে রুম সাজাবো ভেবেছিলাম, ততটা সুন্দর করে কিছু করতে পারি নি। আজ সারাদিন আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। ট্রান্সমিটার প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এই অবস্থায় কী খুব সুন্দর কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়?
যায় হোক, বাসায় আইপিএস থাকায় কিছুটা বেঁচে গিয়েছিলাম। বাসায় কিছু মরিচ বাতি ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো কাজে লাগাতে পারি নি৷ তবে সবকিছু মিলিয়ে খুব যে খারাপ কিছু হয়েছে, তেমনটাও না৷ সবাই মিলে খুব সুন্দর মজা করতে পেরেছি আমরা। তার উপর এই পিচ্চি মেয়েটার প্রথম বার্থডে আমরা সবাই মিলে উদযাপন করতে পেরেছি, সেটাই তো অনেক বড় একটা বিষয়, তাই না?
জানি না, সাবা কতটুকু বুঝতে পেরেছে৷ তবে কয়েক বছর পর যখন ওর বুদ্ধি জ্ঞান হবে, তখন তো নিশ্চয় আজকের এই ছবি গুলো দেখে খুব মজা পাবে। জীবন বহু জন্মদিবস পাবে, কিন্তু প্রথম জন্মদিনের মতো বিষয়টা আর কখনো পাবে না।
আমার জীবনে খুব বেশি জন্মদিন পালনের সুযোগ পাই নি। প্রথমবার পেয়েছিলাম সম্ভবত যখন ক্লাস সিক্স এ পড়ি৷ কয়েকটা ছোট ছোট মোমবাতি আর ১০ টাকা দামের পাউরুটি দিয়ে সেবার জন্মদিন পালন করা হয়েছিল৷ কলেজ জীবনে? একবার বন্ধুরা মিলে পালন করেছিল, তবে সেবার কেক বা মোমবাতি কোনোটাই ছিল না৷ তবে শেষবার অর্থাৎ এই বছর যখন পালন করা হয়েছিল, তখন পুরোপুরি সুন্দর ভাবেই পালন করা হয়েছিল। আর সবকিছু নিজ হাতে করেছিল আমার স্ত্রী।
যায় হোক, জন্মদিন সবার জীবনে সুন্দর কিছু মুহুর্ত বয়ে আনুক৷ বিশেষ করে আমাদের সাবার জন্য রইলো অসংখ্য দোয়া এবং ভালবাসা। তার সারাজীবন যেন কাটে খুব সুন্দর ভাবে৷ এই কামনায়...