শীতকালীন ম্যাড়া পিঠা...

Words
526
Reading
3 min
Listen
Play
4y

আমাদের অঞ্চলে শীতকালীন পিঠাগুলোর মাঝে অন্যতম হল এই ম্যাড়া পিঠা। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এটিকে ভিন্ন ভিন্ন নামেও ডাকা হয়। একেক এলাকায় একেক নাম। তবে আমাদের অঞ্চলে এটি যতটা জনপ্রিয়, দেশের আর কোনো অঞ্চলে হয়তো এর জনপ্রিয়তা ততটা নেই।

এই পিঠার অবশ্য নিজস্ব কোনো স্বাদ নেই। তবে বিভিন্ন ধরনের ভর্তার সাথে মিশিয়ে এইটা খাওয়া হয়। কাঁচা মরিচের ভর্তা কিংবা শুটকির ভর্তা, যেটার সাথে মিশিয়েই খাওয়া হোক না কেন, অসাধারন লাগে। আর এই পিঠা বানাতেও তেমন একটা সময় লাগে না বা পরিশ্রম হয় না। অল্প সময়ে অনেক পিঠা বানিয়ে ফেলা যায়।

নানু বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। শীতের সময় অরতি বছরই নানু বাড়িতে বেড়াতে আসা হয়। ছোটবেলায় অবশ্য এখানে আসতাম পিঠা খাবার লোভে। নানু তখন যথেষ্ঠ শক্তিশালী ছিল। আমরা উনার বাড়িতে গেলেই নানা রকমের পিঠা তৈরি করে আমাদের খাওয়াতেন। এখন উনি বৃদ্ধ হয়েছেন। পিঠা বানিয়ে খাওয়ানোর মতো সক্ষমতা উনার আর নেই৷ তাই নানুর বাড়ির পিঠাও আমাদের এখন তেমন একটা খাওয়া হয় না।

তবে এবারের কথা কিছুটা হলেও ভিন্ন। সব খালারা বেড়াতে এসেছেন একসাথে। তাই আজ সকালে সবাই মিলে ম্যাড়া পিঠা বানাতে বসে গেলেন। আর নানু বসে বসে সব দেখছিলেন। উনার শরীর ভাল থাকলে অথবা আগের মতো শক্তি থাকলে হয়তো নিজেই সকলের সাথে পিঠা বানাতে বসে যেতেন।

শীতের সকালে গরম গরম ম্যাড়া পিঠার সাথে শুটকির ভর্তা খেতে ভালই লাগছিল। যদিও ঝাল হয়েছিল অনেক। তবে এই ঝালটাও উপভোগ্য। আগে প্রায়ই এই পিঠা খাওয়া হতো। এখন তেমন একটা খাওয়া হয় না। আর আমাদের গ্রামের বাইরে আর কোথাও কখনো এই পিঠাটাকে বানাতেও দেখি নাই। তবে কিছুদিন আগে ফেসবুকে একজনের পোস্ট দেখে জেনেছিলাম যে এই পিঠাটা আসলে সব জায়গাতে বানানো হয় না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জের দিকে বেশি বানানো হয় এইটা৷ এছাড়া অন্যান্য আরো কিছু এলাকাতেও বানানো হয়। তবে মজার বিষয় হল সেই পোস্টে বেশিরভাগ মানুষের কমেন্ট পড়ে মনে হচ্ছিল যেন বেশিরভাগ মানুষই এই ম্যাড়া পিঠা সম্পর্কে জানে না।

যায় হোক, সকালে ম্যাড়া পিঠা খেয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল রোদ পোহানো। হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের হাই স্কুলের দিকে চলে গিয়েছিলাম। স্কুলটা নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। আগে টিনের স্কুল থাকলেও বর্তমানে এটি ৪ তলা একটা বিশাল বিল্ডিং। স্কুল ভবনের সামনে বিশাল বড় এক খেলার মাঠ। মাঠে কিছু ছেলে ফুটবল খেলছিল। ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও ফুটবল উন্মাদনা এখনো শেষ হয় নি। স্কুল ভবনের ছাদে বসে রোদ পোহাতে পোহাতে তাদের খেলা দেখছিলাম।

সকালের সূর্যটা কিছুটা হলুদ বর্নের থাকে। আর স্কুল ভবনের রঙটাও হলুদ। তাই সূর্য্যের আলোর যখন স্কুল ভবনটির উপর পড়ছিল, তখন নতুন এক অন্য রকম রঙের সৃষ্টি হচ্ছিল। এ যেন এক রঙের মেলা। ছবিতে পুরো দৃশ্যটি পুরোপুরি ভাবে আসে নি। অবশ্য চোখের দেখার সব সৌন্দর্য্য তো আর ক্যামেরাবন্দী করা যায় না।

আমাদের নানু বাড়ির এই গ্রামটার নাম শিকারপুর৷ এই গ্রামের অনেক গল্প আমি আমার আগের অনেক পোস্টেও লিখেছি। তাই নতুন করে আমি আর কোনো গল্প লিখছি না। এছাড়া ব্যাক্তিগত কিছু কাজ ও সময়ের অভাবে আগের মতো কিছু লিখতেও পারছি না। না লিখতে লিখতে হয়তো হাতে ও মাথায় জং ধরে গিয়েছে৷ অনেকদিন পর লিখতে বসেও লেখার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। সব কিছু কেমন জট পাকিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত লিখতে পারলে হয়তো এই সমস্যাটা ঠিক হয়ে যাবে।

চেষ্টা করবো আগামী কিছুদিন নিয়মিত কিছু না কিছু লেখার। নিজের জীবনের গল্পগুলো না লিখতে পারলে তো এমনিতেই হারিয়ে যাবে। অথচ লেখা থাকলে অনেক বছর পর হলেও এইসব লেখাগুলো পড়তে পড়তে স্মৃতির গভীরে চলে যাওয়া যাবে। এই অনুভূতিটা কেমন? হয়তো সেদিনই বুঝতে পারবো...