“আমি সিরাজুল আলম খান- একটি রাজনৈতিক জীবনালেখ্য”
বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস নিয়ে কমবেশি সকলেরই জানা আছে। আর এই ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের অবদান। তবে সবচেয়ে বেশি অবদান জড়িয়ে আছে নিউক্লিয়াসের। আচ্ছা, নিউক্লিয়াস সম্পর্কে আপনাদের কতজনের ধারনা আছে? আমারও ধারনা ছিল না তেমন। যতটুকু ছিল, তা শুধুই ভাসা ভাসা।
সিরাজুল আলম খানের জন্ম নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার আলীপুর গ্রামে, ১৯৪১ সালের ৬ জানুয়ারি। তার বাবা খোরশেদ আলম খান ছিলেন স্কুল পরিদর্শক। মা সৈয়দা জাকিয়া খাতুন, গৃহিণী। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। স্থানীয় স্কুলে কিছুদিন লেখাপড়া করে চলে যান বাবার কর্মস্থল খুলনায়। ১৯৫৬ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। তারপর ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৫৮ সালে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হন। থাকতেন ফজলুল হক হলে। গণিতে স্নাতক ডিগ্রি নেয়ার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয় ‘কনভোকেশন মুভমেন্টে’ অংশগ্রহণ করার কারণে। প্রতিদিন রাত করে হলে ফিরতেন। ফলে হল থেকেও একবার বহিষ্কৃত হন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করায় তার পক্ষে মাস্টার্স ডিগ্রি নেয়া সম্ভব হয়নি।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু হুট করে শুরু হয় নি। দীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য স্বাধীনচেতা মানুষদের পরিশ্রমের মাধ্যমে একটু একটু করে স্বাধীনতার সিঁড়ি তৈরি হয়েছে। ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আমাদের মনে কিঞ্চিত নেগেটিভ ধারনা রয়ে গেছে। কিন্তু আপনি যখন এই বইটি পড়বেন, তখন অবাক হয়ে শুধু ভাববেন যে, যে সময়ের ছাত্রনেতারা কতটা মেধাবী ছিল, কতটা আন্তরিক ছিল রাজনীতির ক্ষেত্রে। খাওয়া নেই, ঘুম নেই, পকেটে টাকা নেই... অথচ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকার গণমানুষের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্বাধীনতার স্বপ্ন ছড়িয়ে দেয়ার জন্য। রাস্তাটা সহজ ছিল না। এজন্য নির্যাতনও ভোগ করতে হয়েছে অনেক। তবে তাদের স্বপ্ন ছিল এই যে, ভবিৎষ্যতে যেন রাজনৈতিক কারণে কাউকে নির্যাতিত হতে না হয়। অথচ তাদের কষ্টের স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি নি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে সিরাজুর আলম খান সবচেয়ে রহস্যজনক পুরুষ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সম্মুখ ভাগে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিউক্লিয়াস সংগঠনের মাধ্যমে দেশের তুখোড় সব মেধাবীদের একত্র করেতে পেরেছিলেন তিনি। জাতীয় পতাকা নির্ধারন থেকে জাতীয় সঙ্গীত নির্ধারণ পর্যন্ত সমস্ত কাজগুলোর সাথেই নিউক্লিয়াস জড়িত ছিল।
তবে অন্যসব বইয়ের মতো এই বইটি নিয়েও অনেক বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই জানি যে বাংলাদেশের প্রায় সব ইতিহাস নিয়েই বিতর্ক রয়েছে। তাই আমরা কোনো কিছু জাজ না করে শুধুমাত্র জানার জন্য হলেও তো বইটি পড়তেই পারি।
বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, একাত্তর নিয়ে যাদের জানার আগ্রহ আছে, তারা অবশ্যই বইটি পড়ে দেখবেন। অজানা অনেক কিছুই জানতে পারবেন।