মূল্যহীন অমূল্য ০৪

Words
380
Reading
2 min
Listen
Play
8y

IMG_20170509_170845.jpg
সরু পাকা রাস্তা ধরে হেটে চলেছি। কথা নেই। হিয়াকে বললাম হাতটা ধরতে পারি।ইতস্ততায় ঘাড় নেড়ে সম্মতি দিলো। এরপর শুরু হলো হাত ধরে পথ চলা। অবলোকিত হচ্ছিল নানা অজানা।গল্প,ছন্দ,কবিতা আর হাসি তামাশায়। হিয়া একাকীত্ব ভালোবাসে, কথাও কম বলে, ভালো কবিতা লেখে। আমিও একটুআধটু লিখি তবো কখনোই ওর মতো না। ওর থেকেই কবিতা লেখার নতুন প্রেরণা পেয়েছিলাম। চেষ্টা করেছি অনেক তবে ওর মতো করে কখনো লিখতে পারিনি আর কখনো লিখতেও পারবো না। কেননা দুটি ভিন্ন মানুষ আমরা। ভাবনাগুলোও এক হতে পারেনা কখনো। নানান কথার ছলে সময় কাটছিল। আঁধারে পথ চলা, হিমেল হাওয়া, ক্ষণস্থায়ী নিস্তব্ধতা, অজানা আশঙ্কা আরো কত কি।

প্রশ্নের উত্তর ব্যতীত তেমন কোনো কথা বলেনা হিয়া। অগত্যা আমি তার কাছে বাচালে পরিণত হলাম।যদিওবা ও কখনো অভিযোগ করেনি। নির্বাক শ্রোতা হয়ে পাশে থেকেছে। ওর হাসির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। অনেক হাসতে পারে ও।সেই সাথে কাঁদতেও। যদিও আমি কখনো দেখিনি ও বলেছিল। একটা হাসির গল্প বলেছিলাম ও অনেক হেসেছিল। গল্পটা হচ্ছে- এক বাস চালক এক্সিডেন্ট করে হাসপাতালে ভর্তি। কিছু সাংবাদিক এসে তার কাছে জানতে চাচ্ছে কিভাবে সে এক্সিডেন্ট করেছে। তো বাস চালক সব খুলে বলা শুরু করলো। প্রথমে একটা বাস এলো আমি তাকে সাইড দিলাম, পরে একটা ট্রাক এলো আমি তাকে সাইড দিলাম, এরপর একটার পর একটা আসতেই থাকলো। আর আমি যথারীতি আগের মতো ধারাবাহিক ভাবে সবগুলোকে সাইড দিলাম। এভাবে সাইড দিতে দিতে দেখি একটা ব্রিজ আমার দিকে আসতেছে তো আমি যথারীতি ব্রিজটিকেও সাইড দেই। তারপর আমি আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত। তবে স্টিয়ারিং আমি ছাড়িনি এখনো হাতেই আছে। বুঝুন তাহলে হিয়া কেন হেসেছিলো। এতো খারাপ জোকস এ যে কেউ হাসবে। আমি কিছু বলেছি নাকি? আমি তো কিছুই বলিনি! তাহলে কে বলল আমার জোকস খারাপ?দাঁড়ান দাঁড়ান মনে হয় অন্য আমি বলেছে দুঃখিত! (বিদ্রূপ: বাসে শুধু চলক না চালক একাই ছিলো। আরে মিয়া বেশি চাপ নিয়েন না তো বেশি বুঝেন। বাসে যে কয়জনি থাক তাতে আপনার কি। আর গল্পটা আমার এক প্রিয় স্যারের থেকে নেওয়া)।

আরো নানান গল্পের ছলে সময় কেটে গেলো। হাটতে হাটতে এসে পড়লাম আদিবাসী গ্রামে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে। এসেই দেখি সেখানে ছোটখাটো উৎসব মুখর অবস্থা। আদিবাসীরা আমাদেরকে এমন ভাবে দেখছিল যেন ভিনগ্রহী প্রাণী। তবে তারা বন্ধু বৎসল। আপন করে নিলো দুজনকে।সেইসাথে রাজা সীতাংশু চাকমা আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলো।রাতটা এখানেই কাটাতে হবে মাটি আর বুনো ঘাসের তৈরি ঘরে।একদম যান্ত্রিকতা বিহীন সাদামাঠা জীবন। তবে আমাকে থাকতে হবে বাকি ছেলেদের মতো ঘরের বাহিরে মানে মাটির ঘরের বারান্দায়।যাক এই ঝড়বৃষ্টিতে মাথা গোঁজার যায়গা তো পেয়েছি।

মূল্যহীন অমূল্য ০৪ | Ecency