যেভাবে আমাজনকে ছাড়িয়ে গেল আলিবাবা !!
প্রযুক্তির এই যুগে আপনি নিশ্চয়ই আলিবাবা এবং আমাজন ডট কম এর নাম শুনেছেন। হয়তো ব্যবহারও করেছেন। এক্ষেত্রে আমরা অধিকাংশ সময় মতামত দিই কোন ওয়েবসাইটটি বা অ্যাপ্লিকেশনটি ভালো। আজ আমরা ঠিক এমন বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো। কীভাবে আলিবাবা ই-কমার্স শীর্ষক সাইটটি আমাজনকে পেছনে ফেলে উপরে উঠে গেল? প্রশ্নটা এখন গোলমেলে মনে হলেও নিচের তথ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা আপনাকে বিষয়টা স্পষ্ট করে দিবে ।
নতুন ২০১৮ কিউ২ ডিজিটাল পরিসংখ্যান তথ্য আমদের দেখায় যে, আলিবাবা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রচারমাধ্যম হিসাবে আমাজনকে অতিক্রম করেছে। এমনটা হওয়ার কারণ আমাজন থেকেই আসে যা এই কোম্পানির আলেক্সা বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রদান করে।
টাওবো দশম স্থানে
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ওয়েবসাইট থেকে আলেক্সার সর্বশেষ র্যাংকিং দেখায় Amazon.com ১১ তম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে আলিবাবা মালিকানাধীন Taobao.com দশম অবস্থানে উঠে এসেছে। এর জন্য টাওবোকে প্রতিনিয়ত তাদের ভিজিটর বৃদ্ধি করতে হয়েছে। নতুন কিছু সংযোজন করার মাধ্যমে অথবা হঠাৎ কোনো বিশেষ উপহারের ঘোষণার মাধ্যমে ভিজিটর বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে।
গড়ে দর্শক প্রতিদিন ৮ মিনিটের বেশি আলিবাবার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মে ব্যয় করে। সেই তুলনায় দর্শক Amazon.com এ ব্যয় করে ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।
আলেক্সার নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী, এই র্যাংকিং হিসাব করা হয় দৈনিক গড় ভিজিটর এবং মাসিক পেজ ভিজিটের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে। আলেক্সা প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা কেনাকাটা করেন তারা টাওবোতে বেশি সময় ব্যয় করে। গড়ে ভিজিটর প্রতিদিন ৮ মিনিটের বেশি আলিবাবার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মে ব্যয় করে। সেই তুলনায় ভিজিটররা Amazon.com এ ব্যয় করে ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড। এতে দেখা যায়, ভিজিটর আমাজন এর তুলনায় টাওবোতে ২০ সেকেন্ড সময় বেশি ব্যয় করে। যার ফলে আমাজন র্যাংকিং এ পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়া এই প্রতিবেদনের প্রথম স্থানে রয়েছে গুগল, দ্বিতীয় স্থনে ইউটিউব এবং তৃতীয় স্থানে ফেসবুক। আরও অনেকগুলো ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোর ভিজিটর সংখ্যা অনেক। প্রতিবেদনটি র্যাংকিং এর হিসাবে ২০টি ওয়েবসাইটের নাম প্রকাশ করেছে।
আলীএক্সপ্রেস বিশ্বের জনপ্রিয় কেনাকাটা অ্যাপ্লিকেশন
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আলিবাবার জয়লাভ শুরু হয় যখন এটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশান হিসাবে ভিজিটরদের কাছে আসে। এটা সত্য যে, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশান আলিবাবাকে এক নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করে দিয়েছে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশান আসার আগে খুব কম ক্রেতা বা দর্শক আালিবাবাকে জানতো। অ্যাপ্লিকেশন আসার সাথে সাথে আলিবাবার পরিধি বিশাল ভাবে বিস্তৃত হয়। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশান অ্যানির (App Annie) এর ডাউনলোড আলীএক্সপ্রেসকে মার্চ ২০১৮ তে নবম স্থানে এনে দেয়।
মোবাইল অ্যাপ্লিকেশান এনির সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড আলীএক্সপ্রেসকে মার্চ ২০১৮ তে নবম স্থানে এনে দেয়। এনি অ্যাপ্লিকেশানটি আলীএক্সপ্রেকে এক নতুন পথ দেখায়। এই পথে এগিয়ে আলীএক্সপ্রেস চলে আসে সেরা দশে।
এনি অ্যাপ্লিকেশানটি আলীএক্সপ্রেকে এক নতুন পথ দেখায়। এই পথে এগিয়ে আলীএক্সপ্রেস চলে আসে সেরা ১০ এ। সেরা ১০ এ আনার জন্য কেবলমাত্র এটি ছিল আলীএক্সপ্রেসের নিবেদিত অ্যাপ্লিকেশান। অ্যাপ অ্যানির র্যাংকিং করা হয়েছিল সারা বিশ্ব জুড়ে। iOS এবং Google Play stores এর মাসিক ডাউনলোড পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে। সারা পৃথিবী জুড়ে একমাসে iOS এবং Google Play ষ্টোর থেকে যত অ্যাপ্লিকেশান ডাউনলোড করা হয়েছে তার সকল গণনা থেকে এই স্থান নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ সংখ্যাটি দেখায় যে, আলীএক্সপ্রেস ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ তম স্থান লাভ করে। এই স্থানে আসার জন্য বড় ভূমিকা পালন করে স্ন্যাপচ্যাট। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় এই যে, মার্চ পর্যন্ত ফেসবুকের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ছিল সবচেয়ে বেশি ডাউনলোডকৃত এবং ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন। এই বিষয়গুলো নিয়ে আপনি গভীর বিশ্লেষণ করতে পারেন।
ওয়েবসাইট বর্তমান ই-কমার্স সাফল্যের মূল
আমাদের চলমান ধারাবাহিক রিপোর্টগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলগুলো দেখায় যে, ই-কমার্স অ্যাপ্লিকেশনগুলো জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। ফলাফলগুলো থেকে দেখা যায়, ই-কমার্স অ্যাপ্লিকেশনগুলো অনেকাংশে সফলতা অর্জন করেছে। তবে ২০১৮ সালের সাম্প্রতিক ডিজিটাল প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আরো অনেক বেশি ভিজিটর মোবাইলের মাধ্যমে ক্রয় করছেন। গ্লোবাল ওয়েব ইন্ডেক্সের সর্বশেষ তথ্যটি ধারণা দেয় মানুষ ওয়েবসাইট ভিত্তিক খুচরা সাইটগুলো এখনও পছন্দ করে অ্যাপ্লিকেশান থাকা সত্বেও।
প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ব্যক্তি কেনাকাটার জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেন যদিও তাদের কাছে কেনাকাটার অ্যাপ্লিকেশন আছে। অ্যাপ্লিকেশনের তুলনায় ক্রেতারা ইকমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহারে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। কেননা ওয়েবসাইট বিস্তরভাবে পণ্য সম্পর্কে ধারণা দেয়। এক নজরে সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং বৃহৎ ছবির ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে ভিজিটররা উৎসায়িত বোধ করে। এদিকে, গ্লোবাল ওয়েব ইন্ডেক্সের তথ্যমতে, সারা বিশ্বের প্রায় তিন চতুর্থাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিশ্বের বৃহত্তর ৪০ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে অনলাইনে গত মাসে কিছু না কিছু কিনেছে। ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের শতকরা ৯১ শতাংশ লোক গত মাসে বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে অনলাইন শপগুলো ভিজিট করেছেন। আবার ৭৩ শতাংশ লোক বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করেছে এবং সেবা নিয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে।
প্রতি বছর ওয়েবসাইটগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন শ্রেণীতে। তাদের সাইটের দর্শক বৃদ্ধি করতে এবং সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য তারা এই অর্থ ব্যয় করে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যাশন, সৌন্দর্য, খাদ্য, আসবাবপত্র, খেলনা, ভ্রমণ, সঙ্গীত, ভিডিও গেম ইত্যাদি।
গ্লোবাল ওয়েব ইন্ডেক্সের তথ্যমতে, সারা বিশ্বের প্রায় তিন চতুর্থাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিশ্বের বৃহত্তর ৪০ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে অনলাইনে গত মাসে কিছু না
অনুধাবনের জন্য এখানে ২০১৮ এর ডিজিটাল প্রতিবেদনের একটি স্লাইড রয়েছে। এই স্লাইডে পরিসংখ্যান সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে যা ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শ্রেণীর ভোক্তদের মাঝে ব্যয় করা হয়েছে। এই স্লাইডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফ্যাশন এবং সৌন্দর্যের জন্য সারা বিশ্বব্যাপী ৪০৮ বিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করা হয় যা অন্যান্য শ্রেণী থেকে সর্বাপেক্ষা বেশি।।