পিরিয়ড এর তীব্র ব্যাথা নিয়ে মেয়েটি যখন হাসপাতালে এল, এমনভাবে কাতরাচ্ছিল যেন মনে হচ্ছিল কেউ ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে।
সাথে সাথে পেইনকিলার ইনজেকশন দিয়ে ভর্তি করালাম। দুদিন পর সে ব্যাথা কমেছিল।
সেদিনই সন্ধ্যার দিকে স্বামীসহ আরেক মহিলা এল... তারও একই কাহিনী... ব্যাথা বেশি তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মত না।
হাসপাতালে থাকলে প্রায়ই এই ধরনের রুগি আসে।
পিরিওডের সবচেয়ে কষ্টদায়ক জিনিস হল প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (পিএমএস)... শুরু হওয়ার আগে তীব্র পেট ব্যাথা, পিঠ ব্যাথা, বমি বমি ভাব, বিষণ্ণতা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, টেনশন করা এগুলো অনেকেরই খুব কমন। অনেকে আছে বিছানা থেকেই উঠতে পারে না।
অনেকের আবার পিরিওডকালীন সময়েও প্রচন্ড ব্যাথা হয় কিংবা অনেক বেশি রক্তপাত হয়... কারো কারো আবার এত বেশি রক্ত বের হয়, কাহিল হয়ে যায়... কিন্তু এ সবকিছুই ঘটে লোকচক্ষুর আড়ালে... তারা এগুলো সহজে কাউকে বুঝতে দিতে চায় না।
কথাগুলো বলা এই কারণে যে, কেন জানি ইয়াং ছেলেরা মেয়েদের পিরিওডের প্রতি বিকৃতভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে... স্কুল কলেজে থাকাকালীন দেখতাম, কোন মেয়ের পিরিওড চলছে কিংবা কার ড্রেসে রক্তের দাগ পড়েছে, সেগুলো নিয়ে ছেলেদের জল্পনা কল্পনার ঠিক নেই।
অনেকে আবার এগুলো কল্পনা করে বিকৃত মজাও পায়।
কিন্তু একেকটি পিরিওড মানে যে কতটা কষ্ট কিংবা অস্বস্তিকর অবস্থা, সেটা যার হয় এবং যারা নিয়মিত সেই অবস্থা দেখে, তারাই শুধু বুঝে। হয়তো আমরাও বুঝতাম, যদি আমাদের পেনিস দিয়ে মাসে মাসে এরকম রক্তপাত হত...
একজনের স্বাভাবিক বায়োলজিক্যাল বিষয় নিয়ে এতো বিকৃত চিন্তা কেন আসে সেটাই মাথায় ঢুকে না... বায়োলজিক্যাল বিষয় প্রসাব পায়খানা স্বাভাবিক হলে, আরেক বায়োলজিক্যাল বিষয় পিরিওড জিনিসটা স্বাভাবিক কিছু হবে না কেন?
এমনো দেখেছি, যে ছেলেটি রক্ত দেখলেই ভয় পায়, সে ছেলেটি পর্যন্ত পিরিওড নিয়ে মজা করতে দ্বিধা করে না... কেন ভাই, রক্তগুলো ভ্যাজাইনা দিয়ে বের হচ্ছে বলে এতো আগ্রহ? অথচ আমাদের সবার জন্মই ঐ জায়গা দিয়ে... ছেলেদের প্রসাবও তো পেনিস দিয়ে বের হয়... সেটা নিয়ে আমরা মজা নেই?
পিরিওড মানে সে একজন সুস্থ প্রজনন ক্ষমতাসম্পন্ন নারী। পুরুষ হয়ে বীর্য তৈরি না হওয়া, আর মেয়েদের পিরিওড না হওয়া একই কথা...
আজ হয়তো আপনি একজন মেয়ের পিরিওড নিয়ে মজা নিচ্ছেন, কাল যখন আপনার স্ত্রীরই পিরিওড বন্ধ হয়ে যাবে, আপনি নিজেই স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে দৌড় দিবেন...
পিরিওড হচ্ছে নারীত্বের অহংকার... এটা তাদের অধিকার... পিরিওড নিয়মিত হয় বলেই, একজন মেয়ে মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করে... আর আমরা হতে পারি পিতা... এতটুকু তো রিস্পেক্ট প্রাপ্য সেজন্য...