সুন্দর একটি দিন ও সাথে তৃপ্তিকর খাওয়া-দাওয়া

Words
714
Reading
4 min
Listen
Play
5y

আসসালামু আলাইকুম।আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার বন্ধুর সাথে ঘুরাঘুরি করার একটি মূহুর্ত ও সেই সাথে লিখবো ছোট এইটি খাবারের রিভিউ। তাহলে দেরি না করে শুরু করি,


IMG_20210728_150830.jpg


এইযে দেখছেন হিজাব ও চশমাওয়ালা ওইটা হলাম আমি আর অন্যটি আমার ফ্রেন্ড প্রিয়াংকা।দুজনেই চশমাওয়ালা তাই হিজাব দিয়ে চিনিয়ে দিলাম নিজেকে।দিনটি ছিলো লকডাউনের আগের দিন। যেহেতু লকডাউন পরে যাবে তাই তাড়াহুড়ো করে প্রিয়াংকা কে নিয়েই বেড়িয়ে গেলাম কিছু শপিং করতে আর একটা জম্পেশ লাঞ্চের টানে।আসলে শুধু একজনকে নিয়ে বের হতাম না।সব হারামি ফ্রেন্ড গুলোকেই ফোন দিয়েছিলাম কিন্তু একটাও ফ্রি থাকেনা। তারা আবার আল্লাহর রহমতে মাসের ত্রিশ দিন ই ঘর বসা কিন্তু যেই কোনো কাজে বেরুতে বলবো ঠিক সেইসময়ই একটাকেও আর পাওয়া যাবেনা ঘারে কাছে।সে থাকুক।প্রথমে আমি আর প্রিয়াংকা গেলাম চট্টগ্রামের সানমার শপিং কমপ্লেক্স এ। ওখানে একটা ফ্রেন্ডের জন্য কিছু গিফট কিনলাম এরপর গেলাম আরেকটা শপিং সেন্টারে তার নাম সেন্ট্রাল শপিং সেন্টার। ওখানে যাওয়ার শুধুমাত্র কারণ ছিলো ওই মার্কেটের নিচ তলায় অনেকগুলো ফুচকার দোকান আছে আর সেই দোকানগুলোর ফুচকার স্বাদ কে কতটা অমৃত তা আমি একদম বলে বোঝাতে পারবোনা আর চাচ্ছিওনা বোঝাতে কারণ যত মনে পড়ছে ততই খেতেই ইচ্ছে করছে।


IMG_20210728_150840.jpg


এরপর আমাদের একটা পরিচিত দোকানে ঢুকলাম।পরিচিত বলতে সবসময় ফুচকা খাই ওই দোকানে তাই গিয়ে বসতেই ফুচকাওয়ালা মামাকে বলে দিতে হয়নি আমাদের অর্ডার কি কারণ তিনি আগে থেকেই জানেন আমরা কি খাই।তাই মামা একটু পরেই দুই প্লেট গরম গরম ফুচকা বানিয়ে সামনে এনে দিলেন এরপর আর কি!!সামলে পড়লাম ফুচকার উপর।
প্রতি প্লেট ফুচকার দাম - ৪০ টাকা
কিন্তু যেহেতু আমরা রেগুলার কাস্টমার তাই ফুচকাওয়ালা মামা আমাদের কাছে ৩০ টাকাই রাখেন।আর সাথে নিলাম একটি ঠান্ডা পানি।


IMG_20210728_150738.jpg


এরপর ওখান থেকে খেয়ে সিএনজি চড়ে গেলাম ফিনলে স্কয়ারে। চট্টগ্রামের নামী শপিং সেন্টারের মধ্যে এটি একটি।এরপর ফিনলে স্কয়ারে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ ঘুরলাম এরপর কিছু শপিং ও করলাম। খুব বেশি কিছু কেনা হয়নি।এই টুকটাক। যেমন: ছোট বোনের জন্য চার/পাঁচটা ড্রেস নিলাম আর আম্মুর জন্য একটা নিকাব।আমি আজকাল শপিং করতে গেলে আমার এক বদ অভ্যাস শুরু হয়েছে আর তা হলো আমার ছোট বোনের জন্য কেনাকাটা। সে এক বিরাট সমস্যা কারণ আমি শেষমেষ নিজের জন্য কিছু কিনার সময়ই পাইনা।তাই আজ আম্মু বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ই বলে দিয়েছিলো আমি যেনো একদম আমাদের পিচ্চির জন্য কোনো ড্রেস না কিনি কিন্তু এই দেখেন আমার হাতে!


IMG_20210728_150819.jpg


ঠিক কিনে ফেললাম অনেকগুলো।এরপর ফিনলে স্কয়ারের টপ ফ্লোরে গেলাম কারণ ওখানে সব ফুড কোর্ট।মোট মিলিয়ে হয়তো বিশ থেকে পঁচিশটার ও বেশি ফুড কোর্ট আছে ওনাকে।আর খাবারের মানের তুলনায় দাম ও খুবই রিজনেবল।এরপর আমরা কি খাবো,কই খাবো?এসব ভাবতে ভাবতে ঢুকলাম ফুড ফ্যান্টাসি নামের একটা ফুড কোর্টে।এরপর ওখানে কিছু ছবি তুললাম দুজনে। আমি এখানে দিয়ে দিলাম আমাদের কিছু ছবি।


IMG_20210728_150807.jpg


এরপর খাবার অর্ডার করার পালা।আমরা অর্ডার দিলাম,

দুটি মেক্সিকান ফ্রাইড সেট মেনু (দাম - প্রতি প্লেট ২৩০টাকা করে)
দুই গ্লাস পেপসি ( দাম - প্রতি গ্লাস ২০ টাকা করে)
আর একটা এক লিটার পানির বোতল ( দাম - ২০ টাকা )
মোট দামঃ ৫২০ টাকা।


IMG_20210728_152223.jpg


এখন আসি খাবারের রিভিউ দেওয়ায়,
প্রথমে বলি এতো গুলো ফুড কোর্টের মাঝে আসলে খাবারের মান ঠিক রেখে কাস্টমার ধরে রাখাটা খুবই কঠিন কারণ কাস্টমারদের কাছে অনেক অপশন তাই তারা যেকোনো জায়গায় ই চুজ করতে পারবে।আর এতো গুলো অপশনের মধ্যে অনেকেই দেখলাম এই ফুড কোর্টটাতেই ঢুকছে তার মানে এর খাবারের মান নিশ্চিন্তে ভালো।এরপর আসি তাদের সেট মেনুর কথায়। ছবিতেই দেখতে পাচ্ছেন যথেষ্ট রাইস দেওয়া হয়েছে সাথে অনেক বড় একটা চিকেন গ্রিলের পিস, মেয়োনিজ ও সালাদের মিক্সার এবং রেড চাইনিজ ভেজিটেবল। ১ম এ আসি তাদের রাইসের কথায়।তাদের রাইস আইটেমটা অসাধারণ ছিলো।তারা মেক্সিকান বলে একেবারেই রঙ মাখা ভাত দিয়ে চালিয়ে দেয়নি।রাইসে অনেক ভেজিটেবল দেওয়া ছিলো আর সাথে পারফেক্ট পরিমাণের সস যা খেতে একদম ই অনেক সসী ফ্লেভারের লাগছিলোনা তবে খেতে দারুণ লাগছিলো আর খাবারটা খুব গরম ছিলো।এরপর বলবো তাদের রেড চাইনিজ ভেজিটেবল টার কথা। তারা চাইনিজ ভেজিটেবলে সস ব্যবসার করেছে যা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে কারণ নরনাল চাইনিজ ভেজিটেবলটা আমার কাছে খুব পছন্দের না।তারা তাদের ভেজিটেবল আইটামটাতে অনেকরকমের ভেজিটেবল ইউজ করেছিলো।যেমনঃগাজর,পেঁপে,সবুজ ক্যাপসিকাম, টমেটো,পেঁয়াজ।আর সাথে একদম অল্প পরিমাণে সস যা খাবারের টেস্টকে আরো মজার করে তুলেছিলো এরপর বলি গ্রিল চিকেনটার কথা।তাদের গ্রিল চিকেনটা দেখেন হয়তো বুঝতে পারছেন কতটা মজার হবে আর এই চিকেনের পিসটা মুখে দিয়েই বোঝা গেছে যে একদম বাসিনা কারণ গ্রিল আইটেমগুলো বাসি হলে কেমন সসগুলো ঝোলের মতো হয়ে যায় আর চিকেনের ভেতরটাও তেলতেলে হয়ে যায় কিন্তু এই চিকেনটা একদম এমন ছিলোনা।সব মিলিয়ে বলবো অসাধারণ একটা খাবার ছিলো।একেবারে পেট,মন দুটোই তৃপ্তি করে খেলাম।


IMG_20210728_150726.jpg


আশা করি আমার আজকের লেখা ও ছবিগুলো আপনাদের ভালো লেগেছে।অনেক ধন্যবাদ সকলকে।



সুন্দর একটি দিন ও সাথে তৃপ্তিকর খাওয়া-দাওয়া | Ecency