- হেলোও,আসসালামু আলাইকুম হাইভ ব্লগারগণ।সবাই কেমন আছেন?আশা করছি সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন।আমিও আলহামদুলিল্লাহ মন্দ নেই।*
- আজ আমি হাইভ ব্লগে বিডি-কমিউনিটির জন্য একটি পোস্ট করছি।পোস্টটি হলো গল্প সম্পর্কীয়। অর্থাৎ আজ আমি একটি গল্প লিখছি।
গল্পের নামঃ-শেষ থেকে শুরু
সন্ধ্যা প্রায় ৭ টা বাজতে চলল।আজ রিক্সা চালিয়ে খুব ইনকাম হয়নি।বাসায় যেতে হবে মোক্তার মিয়ার।এদিকে ঘরে পোয়াতি বউ।আসার সময় বায়না করেছিলো একটা নতুন শাড়ির।আজ সারাদিন তাই মোক্তার মিয়া রিক্সা চালিয়েছে,দুপুরে ২০ টাকার ভাত খেতে গিয়েও আর ভাতের দোকানে ঢোকেনি।
এসবই ভাবছিলো মোক্তার মিয়া চায়ের দোকানে বসে বিড়ি হাতে নিয়ে।কিছুক্ষণ ভেবেই পকেট থেকে টাকা বের করলো, গুণে দেখতে হবে কত টাকার ভাড়া আজ মারলো।প্রায় ৭০০ টাকা কিন্তু রিক্সার মালিককে পাক্কা ৩০০ টাকা দিয়ে দিতে হবে, এক পয়সা এদিক অদিক করলেই যাচ্ছে তাই গালাগালি। এখন আবার এখনতখন বেদনা উঠবে, সেখানেও প্রচুর টাকা খসবে।কি যে করার!!
এক্কেবারে তার মাথা খারাপের জোগাড়। বিড়িতে শেষটান দিতেই পিছন থেকে বিকট শব্দে ডাক পেলো, " ও মোক্তার মিয়া, তুমি এনে!তোমার বউয়ের যে বেদনা উঠলো । "
শুনেই মোক্তার মিয়ার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেলো,হায় হায় হাতে মাত্র ৩০০ বাদ দিয়ে ৪০০ টাকা।করবে কি এখন? পরক্ষণেই ভাবলো " দাই ডাকি,খরচ কম হবে,ডাক্তারখানায় মেলা খরচ "।
দাই ডেকে ঘরে নিলো, দাই পেটে হাত দিয়েই বললো, " এইডা আমার কাম না, ডাক্তর লাগবো "।মোক্তার মিয়া দাইয়ের পা ধরে ফেললো,ধরেই বললো," ও দাই, পারলে তুমিই পারবা। আর কেও পারবোনা কামডা কইরা দাও "।দাই বললো,"করমু কিন্তু তোর বউ মরলে আমার দোষ দিতো পারবিনা "।মোক্তার মিয়া এক কথাতেই রাজি হয়ে গেলো।কারণ তার পকেটে আছে ৪০০ টাকা আর এক পয়সাও নেই।হঠাৎ দাই ওমাগো, বাবাগো বলে দৌড়িয়ে বের হয়ে আসলো আর বলতে লাগলো, " ও মোক্তার, তোর বউয়ের পেটে দানো দানো,বড় দানো।এরে মাইরা ফালান লাগবো।ও মোক্তার মিয়া, মুখে নুন দিয়া মাইরা ফালাই?
মোক্তার মিয়া মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো, আর বলতে লাগলো, " দাই একটু দাড়া, একটু দাড়া!ভাবতে দে।আমারে একটু দেহা "।দাই দৌড়ে কাঁপা হাতে কাথা বিছিয়ে ফুটফুটে ফর্সা এক বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে আসলো, মুখটা যেনো ফুলের মতো নিষ্পাপ কিন্তু কাথা আরেকটু সরাতেই দেখলো পেটের কাছে বেলুনের মতো কি জানি একটা আর হাত-পা ও কেমন বাঁকা বাঁকা।
মোক্তার মিয়ার যেনো সব শেষ হয়ে গেলো!!
এ খবর চারদিকে বাতাসের আগে ছড়িয়ে পড়লো।মানুষের ঢল নেমেছে দানোর মত এই বাচ্চাকে দেখতে। কিন্তু মোক্তার মিয়া! মোক্তার মিয়া হঠাৎ দরজার সামনে হাত মেলে দাঁড়িয়ে বললো,আমার মাইয়ারে দেখতে হইলে ২০ টাহার টিকিট কাটন লাগবো!
সবাই বাস্তবেই শিশুটিকে দেখতে টিকিট কাটতে লাগলো।পরক্ষণেই মোক্তারের হাতে ৪০০ থেকে ৪০০০ টাকা হয়ে গেলো।
এ যেনো শেষ থেকে শুরু!...........
- গল্পটি আমি একটি বাস্তব ঘটনা থেকে লিখেছি তবে অনেককিছুই কল্পনাবিলাস। নিজস্ব কল্পনা থেকেই লিখা। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।ভুলত্রুটি শুধরে দিবে এবং ধন্যবাদ সকলকে।
From,
@nusuranur