বেশিরভাগ মানুষ যাদের শ্বাসনালী সংযুক্তকারী নল (ট্রাকিওস্টমি টিউব) রয়েছে তারা স্বাভাবিকভাবে খাওয়া দাওয়া করতে পারবে। যদিও, খাবার গিলতে বা পান করতে অন্যরকম লাগতে পারে।
যখন আপনার শ্বাসনালী সংযুক্তকারী নল করে দেওয়া হবে, তখন প্রথমে তরল জাতীয় বা খুব নরম খাদ্য খেতে হবে। পরে শ্বাসনালী সংযুক্তকারী নলটি চিকন হয়ে যাবে এবং তখন খাবার গিলতে সুবিধা হবে। কিছু ক্ষেত্রে, আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী আপনাকে সাথে সাথে খেতে মানা করতে পারে, যদি গলধঃকরনে সমস্যা দেখা যায়। তার পরিবর্তে, আপনাকে আইভি (IV) (শিরায় প্রদানের জন্য ক্যাথেটার) তে বা খাদ্য নলে পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া হবে। যদিও তা সবসময় করা হয় না।
যখন আপনি সার্জারির পর আরোগ্য হবেন, তখন আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী আপনাকে বলে দিবে কখন মুখ দিয়ে কঠিন ও তরলজাতীয় খাবার খাওয়া নিরাপদ। এই সময়ে, একজন কথা বলার থেরাপিস্ট (speech therapist) আপনাকে শ্বাসনালী সংযুক্তকারী নল দিয়ে কিভাবে গিলতে হবে তা শিখিয়ে দিবে।
• কথা বলার থেরাপিস্ট আপনার সমস্যা দেখার জন্য এবং সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য কিছু পরীক্ষা করবে।
• থেরাপিস্ট কিভাবে খেতে হবে তা দেখিয়ে দেবে এবং প্রথম খাবার খেতে সাহায্য করবে।
• আপনার শ্বাসলালীর গঠন বা এনাটমিতে পরিবর্তন হলে
• অনেক দিন ধরে মুখ দিয়ে না খেয়ে থাকলে
আপনার আর খাবারের প্রতি স্বাদ নাও থাকতে পারে বা মাংসপেশি ঠিকমত কাজ নাও করতে পারে। আপানার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বা থেরাপিস্টকে জিজ্ঞেস করুন কেন গিলতে অসুবিধা হচ্ছে।
এই পরামর্শগুলো আপনাকে গলধঃকরনে সাহায্য করবে।
• আহারের সময় স্বচ্ছন্দ রাখুন
• খাওয়ার সময় সোজা হয়ে বসুন
• খাবারের ছোট ছোট কামড় নিন, প্রত্যেক কামড়ে এক চামচের চেয়ে কম পরিমান নিন।
• ভালভাবে চিবান এবং পরের কামড় নেওয়ার আগে আগেরটি গিলুন।
যদি আপনার শ্বাসনালী সংযুক্তকারী নলে কোন কাফ(cuff) থাকে, কথা বলার থেরাপিস্ট বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী নিশ্চিত করবেন যে খাওয়ার সময় কাফটি যেন চুপসে থাকে। এতে করে গিলতে সুবিধা হবে।
যদি আপনার একটি কথা বলার ভালভ থাকে, তবে খাওয়ার সময় সেটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি গিলতে সাহায্য করবে।
খাওয়ার পূর্বে শ্বাসনালী সংযুক্তকারী নলটি শোষণ করে নিন। এটি খাওয়ার সময় কাশি হতে দিবে না যাতে বমি না হয়।
আপনি এবং আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে ২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:
• গলায় আটকে গেলে ও শ্বাসনালীতে খাদ্যবস্তু চলে গেলে(যাকে শ্বাসগ্রহন বলে) ফুসফুসে সংক্রমন বা ইনফেকশন হতে পারে।
• যথেষ্ট পরিমান ক্যালরি ও পুষ্টি পাচ্ছে না
• খাওয়ার সময় বা পানের সময় গলায় আটকে যাওয়া ও কাশি হওয়া
• কাশি, জ্বর, বা শ্বাসকষ্ট
• শ্বাসনালী সংযুক্তকারী নলের নিঃসরণে খাদ্যকণা পাওয়া
• শ্বাসনালী সংযুক্তকারী নলে অধিক পরিমানে পানি জাতীয় নিঃসরণ হলে
• চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমতে থাকলে বা খুব কম ওজন থাকলে
• ফুসফুস বেশি জমাট মনে হলে
• ঘন ঘন ঠান্ডা বা বুকের সংক্রমন হলে
• গলধঃকরনের সমস্যা আরও বেড়ে গেলে