বিদেশী সাহিত্যের মঞ্চনাটক—অ্যারিস্টফ্যানিসের Lysistrata এবং ডিলান থমাসের Under Milk Wood

Words
584
Reading
3 min
Listen
Play
6y

Lysistrata and Under Milk Wood.jpg
Book cover sources Lysistrata, Under Milk Wood

দুটোই নাটক, এ বাদে এ দুয়ের ভেতর দৃশ্যত কোন মিল নেই। কিন্তু যে কোন একটা নিয়ে লিখলে শান্তি পাবো না বিধায় দুটোই টেনে আনলাম। এছাড়া আমার মনে হয় বেচারা ১২ এংরি মেনের উপর থেকে একটুখানি চাপ কমানো উচিৎ। যদিও চমৎকার প্লে, কিন্তু অন্য আরো যে আছে!

লিসিস্ট্রাটা

লিসিস্ট্রাটা গ্রিক নারী। ওই সময়ে এথেন্স আর স্পার্টার ভেতর চলমান যুদ্ধ থামাতে অভাবনীয় এক ফন্দি আটে। নিজ পক্ষ তো বটেই, অপরপক্ষের নারীদের সাথে নিয়ে সে উভয় রাজ্যময় সেক্স স্ট্রাইক জারী করে। যতক্ষণ অব্দি তাঁদের পুরুষ সঙ্গীরা যুদ্ধ না থামাচ্ছে, কোন নারী তাঁর প্রেমিক বা স্বামীর সাথে শুবে না।

উভয় পক্ষের পুরুষেরা এহেন ঘোষণায় স্তম্ভিত! কিন্তু মেয়েরা কোন মতেই পিছু হটছে না। শীঘ্রই নারী-পুরুষের ভীতর এক বিবাদ বেঁধে গেলো। বলা বাহুল্য, কিছুদিনের ভেতরই এথেন্স আর স্পার্টার পুরুষেরা উত্থিত দণ্ড নিয়ে পড়িমড়ি করে সভা করতে ছুটলো! শান্তি চুক্তি করতে হবে!
আর এর মাঝেই পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের ইতি হলো।

নাটকটা পুরুষশাসিত সমাজে নারীর নাজুক অবস্থান চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় এবং এর বিপরীতে নারীরা সফলভাবে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়। সুতরাং খুব স্বাভাবিকভাবেই লিসিস্ট্রাটাকে নারীবাদী প্লে হিসেবে দেখা হয় এবং আধুনিক অ্যাডাপটেশনে সেভাবেই ফুটে ওঠে। কিন্তু গ্রিক থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ যিনি করেছেন, জ্যাক লিডসে আরো কিছু যোগ করেছিলেন অন্যান্য সমালোচকের বরাত দিয়ে। যৌনাকাঙ্ক্ষা, উত্থিত দণ্ড — নাটকের এইসব বিষয় কেবলই হাস্যরসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে তাচ্ছিল্য করা যাবে না, বরং গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে ভাবতে হবে। পশুবৃত্তিক নয়, বরং জীবনের দরকারি অংশ। প্লেটো যেমন বলেছেন,

‘fornication is something immortal in mortality.’

নাটকের লেখক গ্রিক নাট্যকার অ্যারিস্টফ্যানিস এই নাটক দিয়ে সমাজ পাল্টাতে চাননি, বরং ব্যক্তি স্বাধীনতা, হাস্যরস এবং আনন্দের জয়গান গেয়েছেন।

অ্যারিস্টফ্যানিসের আর কোন প্লে পড়িনি কিন্তু লিসিস্ট্রাটা পড়ে অভিভূত হয়ে বেশ ঘাটাঘাটি করেছিলাম। বহুদিন মনে থাকবে।

আন্ডার মিল্ক উড

নাটকের গল্প ওয়েলশের এক গ্রাম ও তাঁর বাসিন্দাদের। মূল ন্যারেটর দর্শক বা পাঠককে আহবান জানান শহরের নিজস্ব কল্পনা, স্বপ্নে ডুব দিতে। বহুদিন আগে জাহাজডুবে অনেকে মরেছিলো ঠিক তীরে পৌঁছনোর আগেই। ওদের আকাঙ্ক্ষায় মজতে হবে।

মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে বেশিরভাগ বাসিন্দা আর তাই ভোরের আলো ফুটলে গ্রাম ব্যস্ত হয়ে যায়। সেই সাথে শুরু হয় প্রাত্যহিক আচার-কলা-অভ্যেসের ঝংকার। একে একে বিভিন্ন চরিত্র সামনে আসে আর তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন বক্তা। এক নারীর দুজন স্বামী, দুজনেই মৃত। দুজনের আত্মা তাঁর সাথে ঘোরে ফেরে, তাঁর ফরমায়েশ খাটে। বোধকরি হ্যালুসিনেশন। একজন আছেন যার নাম বাদ্যযন্ত্রের নামে—কারণ তাঁর সমস্ত সত্তা জুড়েই ঐ বাদ্যযন্ত্র। নাওয়া খাওয়া, দিন দুনিয়া, প্রেম ভালোবাসা ভুলে ঐ যন্ত্র নিয়েই থাকেন। এতে তাঁর বউয়ের আক্ষেপের শেষ নেই। সে যেন তাঁর প্রেম নয়, ওই বাখ আর তাঁর সুরগুলোই প্রেম। আছে এক সদা ব্যস্ত পোস্টম্যান। একজন ক্যাপটেন ক্যাট।

তবে আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র পলি গার্টার। সে গ্রামের দেহপসারিনী। কই কত মানুষের সাথেই তো শুয়েছে কিন্তু কিছুতেই সেই বিশেষ একজনকে ভুলতে পারে না। যে এখন সমাহিত, ৬ ফুট নিচে। গ্রামের দজ্জ্বাল নারীরা ছোট ছেলেমেয়েদের পলির কাছে ভিড়তে দেয় না। তাতে অবশ্য ওর কিছু আসে যায় না। সমাহিত প্রেমিককে নিয়ে গান ধরে পলি—

… I loved a man whose name was Tom
He was strong as a bear and two yards long
I loved a man whose name was Dick
He was big as a barrel and three feet thick
And I loved a man whose name was Harry
Six feet tall and sweet as a cherry
But the one I loved best awake or asleep
Was little Willy Wee and he's six feet deep.

আন্ডার মিল্ক উডের নির্দিষ্ট কোন গল্প বা থিম নেই। বলা যায় কোন এক অনির্দিষ্ট দিবস, কোন এক সময়ের অংশ, খণ্ড যাপিত জীবন কালের গভীর থেকে তুলে এনেছেন ডিলান থমাস। আমি বিবিসির অডিওবুকে শুনেছিলাম নাটকটা। রিচার্ড বার্টন মূল ন্যারেটর। ওর দরাজ গলায় শুনতে দূর্দান্ত লেগেছিলো।

divider 1.png

About Me


hive format 2.jpg


Hive footer notacinephile.gif

Twitter - https://twitter.com/not_a_c1nephile
Youtube - https://www.youtube.com/channel/UCg3TwYk--HKIsRmnvhob1Mg

বিদেশী সাহিত্যের মঞ্চনাটক—অ্যারিস্টফ্যানিসের Lysistrata এবং ডিলান থ... | Ecency