বাড়ি থেকে এক পা বের হতে পারলেই সেটা আমার কাছে ছোট্ট ভ্রমণ হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই চায়ের নেশার মত ভ্রমণের নেশা কে সঙ্গী করে নিয়েছে।
এই পৃথিবীতে অনেক কিছুই আমার অদেখা -অজানা আছে। তাই সময় পেলে ভ্রমণে বের হতে ইচ্ছে করে। হ্যাঁ দেশের বাইরে কখনো যাওয়ার সুযোগ পায়নি তবে ইচ্ছে আছে পৃথিবীর প্রত্যেকটা প্রান্তে ঘুরে বেড়াবো। আমার ভ্রমণের গল্পের শুরুটা হয়েছিল সেই ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য ছুটে বেড়াতাম এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। সেই সুবাধে কিছু বিশেষ স্থান দেখা হয়েছে। মাঝে মধ্য পরিবারের সদস্যরা মিলে ঘুরতে বের হই।তাছাড়া বন্ধুদের সাথে বেশ কিছু জায়গা তেও ঘুরতে গিয়েছিলাম -রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুরে সময় পেলেই ঘুরে আসি। ময়মনসিংহে আমরা প্রায় এক সপ্তাহের মত ছিলাম। প্রথম দিন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদীচীর পাড়ে গিয়েছিলাম আর পরের দিন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় আর জাদুঘরে গিয়েছিলাম।
এরপর বছর দুয়েক পরে কুষ্টিয়াতে বেড়াতে গিয়েছিলাম সেখানে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি, লালন শাহ মাজার এবং গড়াই নদীর পাড়ে ঘুরেছি। আর এখন তো আমি কুষ্টিয়া তেই থাকি তাই সময় পেলে মাঝে মধ্যে গড়াই নদীর পাড়ে গিয়ে বসে থাকি। হাজার -হাজার মানুষের আনাগনা এখানে।
আর ভ্রমণের নেশা আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়েছে, মজার ব্যাপার হলো আমি বেশ কিছু আঞ্চলিক ভাষা ও শিখেছি।তবে সিলেটের ভাষা আমি এখনো শিখতে পারিনি।
প্রায় পাঁচ ছয় বারের মত আমি সিলেটে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রত্যেকটা জায়গা দেখতে সত্যিই অসাধারণ সুন্দর। আমরা পরিবারের কয়েকজন মিলে সিলেটের বিছানাকান্দি, জাফলং শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে ঘুরে ছিলাম এই জায়গাগুলোতে গেলে নিজেকে খুঁজে পাই। মনে হয় এখানে সারা জীবন কাটিয়ে দেই। কিন্তু সিলেটের মানুষেরা একটু বেশি দ্রুত কথা বলে তাই এদের কোন কথাই আমি এখনো ঠিকঠাক মত বুঝতে পারি না। তবে তারা অনেক মিশুক।
আর আমার এই বৈচিত্র্যময় প্রকৃতিতে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। তাই মনে হতো আমার কাছে যদি একটা দৈত্য থাকতো আর সে আমাকে সবসময় ঘুরতে নিয়ে যেত। এভাবেই আমি প্রতিদিনই ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু এটা বাস্তবে তো আর সম্ভব নয়,
তাই আমি ভাবছি ট্যুরিজম সেক্টরে চাকরি করব সেই সুযোগে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াবো। কিন্তু চাকরি পেতে এখনও অনেক বছরই দেরি আছে। সেই অপেক্ষায় থাকলে ভ্রমণের স্বাদ মিটে যাবে।
সেই কবে ঘুরতে যাওয়ার জন্য খাতায় লিষ্ট করে রেখেছি কিন্তু পকেটে টাকাও নেই। মাকে বলে যদি কিছু টাকা পাওয়া যায় তাহলে আবার ভ্রমণের যাত্রা শুরু করবো। এবার আর কেউ আমাকে আটকাতে পাড়বে না দরকার হলে আমি একাই ঘুরতে যাবো। আবার আমি নিজেকে হারাতে চাই প্রকৃতির মায়াজালে।