গল্পটা না হয় কোন এক ছোট্ট পরিবারের। মা হাজার চেষ্টা করেও কারো মন জোগাতে পারে নি। ৪০ টা বছর ধরে সংসার করলো। কখন ঈদে পায়নি কোন উপহার বছর ঘুরেই একটা -দুটো কমদামি শাড়ি কিনে রাখে দিতো মা নিজের জন্য। মুখ ফুটেও বলতেও শুনিনা আমার এটা লাগবে।
কিন্তু পরিবারের বাকি সদস্যরা কি কখন সেই মায়ের কথা ভেবেছে?
আর সেই মা মেয়ের সুখের জন্য টাকা ধার করে মেয়ের শশুর বাড়িতে পণ দিলো। এদিকে নিজের সংসারেই অশান্তি অন্যদিকে দেনাদারের টাকার চাপ। তাই মা কাউকে না জানিয়ে একটা বাড়িতে কাজ করতে লাগলো। মাস শেষে মাইনে পেলে দেনাদারকে টাকা দিতে পারবে। এদিকে মায়ের যে অসুখ হয়েছে খেয়াল আছে কার। ঔষধ কিনে দেওয়ার মতো কেউ যে নাই তার।
এভাবেই কষ্ট করে দিনের পর দিন কাজ করতে থাকে। আর এদিকে ছেলের বউয়ের অশান্তি দু মুঠো ভাতও ঠিক মতো খেতে দেয় না।মা মাস শেষ না হতেই মাইনে পেলে। ভাবলো দেনাদারকে ধারের টাকা শোধ দিতে পারবে। কিন্তু ঘরে এই টাকা নিয়ে ঝগড়া শুরু হলো। নাতির জন্যে নতুন জামা কিনতে হবে।বউ মা তখনই সব টাকা কেড়ে নিলো । তারপরও ঘরে সুখ মিললো না।
এই তো ১ মাস আগের কথা ছেলের বউ গেছে গ্রামের বাড়ি। বাড়িতে কোন খাবার পানির ব্যবস্থা করে রেখে যায় নি। মা আর কাজেও যায় না । পাশের বাড়ির থেকে কিছু চাল ধার করে আনে। জমানো কিছু টাকা ছিলো সেই টাকা দিতে সবজি কিনে। এগুলো দিয়ে সপ্তাহ খানেক ভালোই চলে। বৃষ্টিতে ভিজে মায়ের খুব জ্বর আসছিলো। অনেকে বলেছিল ডাক্তার দেখাতে। ডাক্তার দেখানোর টাকা কি আর এই অভাগীর আছে। পাড়াপ্রতিবেশিরা ছাড়া আত্মীয় স্বজনেরা কেউ খোঁজ খবরও নিলো না।
জীবনটা বড়ই কঠিন।
আস্তে -আস্তে ঘরের সব খাবারও ফুরিয়ে যাচ্ছিলো। মা ভাবতো ছেলের বউ আসবে কয়দিন পরেই। পাশের বাড়ি বিনুদের ফোন দিয়ে কথা বলতে চাইলো ছেলের সাথে। কিন্তু ছেলে যে কবেই গেছে মাকে ভুলে তাহলে কথা বলবে কিভাবে? এদিকে মা ঘরে না খেয়ে গুমরে গুমরে কাঁদে। হয়তো অনেকে দিন ধরেই কষ্ট বুকে চেপে রেখেছিল। সকাল হওয়ার পরও যখন মায়ের ঘরের দরজা খুললো না। মিলোতি মা কে ডাকছিল বার বার। জানালা দিয়ে দেখে মা মাটিতে শুয়ে আছে। তখনই মিলোতি সবায়কে ডেকে দরজাটা ভেঙে ফেলে। মা তো আর কথাই বলছে না। এবারই সুখের ঘুম ঘুমিয়েছে। গ্রামের সবাই মিলে মা কে যেনো কথায় নিয়ে যাচ্ছে। আর কোন দিনই মা ফিরলো না। শেষ বারের মতো ছেলের সাথেও কথা বলতে পারে নি। কি নিয়তি বাহ!পরিবারের কারো মুখ দেখে যেতে পারলো না। পৃথিবী ছেড়ে একদিন সবাইকে যেতে হবে। মা যেনো ভালো থাকে ওপারে।
আমি নিহা। তেমন কিছুই বলার নেই আমার সম্পর্কে। বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েই লেখার চেষ্টা করি।