একটি দেশের সরকারের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিককে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা। বর্তমানে বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে গেছে। কিন্তু দেশের নাগরিকরা উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। আর এখন চিকিৎসা একটি বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তরিত হয়েছে।
যার আছে টাকা তারই মিলবে চিকিৎসা।
সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের ছায়া দেখতে পাওয়াই এখন কষ্টসাধ্য, কিন্তু সেই ডাক্তারই মোটা অংকের ফি নিয়ে নিজস্ব চেম্বার বা প্রাইভেট হাসপাতালে অতিযত্নে এই রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করে থাকে। তাহলে কি সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের কোনো বেতন প্রদান করা হয় না। থাক আমরা সে কথা নাইবা বলি। বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিকদের বিনামূল্যে উন্নত মানের চিকিৎসা প্রদান করা হয় কিন্তু আমাদের দেশে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না।
আমাদের দেশের জনগণ প্রতিদিন সরকারকে ট্যাক্স ভ্যাট প্রদান করছে তাহলে তারা কেন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমি একটি প্রতিবেদনে দেখলাম, উন্নত দেশগুলোর জাতীয় বাজেটের ৩০থেকে ৩৫ % স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ থাকে। সে তুলনায় আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের পরিমাণ খুবই কম। যার ফলে আমাদের দেশের নাগরিকরাই স্বাস্থ্য সেবার ৭০% খরচ নিজেরাই বহন করছে। আর অন্যান্য দেশের সরকারই ৭০-৭৫ % স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় বহন করছে। এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতেই প্রতি বছরে প্রায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে।
তাহলে একটি দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়া অসম্ভব।
আর এদিকে বেশ কয়েক বছর ধরেই স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির খবর শোনা যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একটি প্রতিবেদন দেয়। যেখানে উল্লেখ ছিল স্বাস্থ্য খাতে ১১টি উৎস হতে দুর্নীতি হয়
যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল - নিয়োগ,পদন্নতি ঔষধ ইত্যাদি। এদিকে সাধারণ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সদের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২০থেকে ৪০ শতাংশ।
এজন্য আমাদের দেশ স্বাস্থ্য সংকটে ভুগছে। তাই আমি মনে করি স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করা উচিত। তাছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করে দরিদ্র ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে সেবা প্রদান করতে হবে। কেননা একটি সুস্থ জাতি তাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আর সেই দেশের জাতিরা যদি স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে থাকে তাহলে তাদের পক্ষে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। আর দেশকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নে সাহায্য করতে পারবে না।
শুধু হাসপাতাল নির্মাণ করলে হবে না। এর সাথে স্বাস্থ্যখাতে সকল দুর্নীতি দমন করতে হবে এবং দুর্নীতিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।এছাড়াও গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে। এটা মানতেই হবে গবেষণার অভাবে এখন পর্যন্ত আমরা কোভিড -১৯ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি। তবে সরকার এর জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।
তাই শিক্ষাখাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারলে অবশ্যই চিকিৎসার মান বৃদ্ধি পাবে। আমি সকল ডাক্তারদের অনুরোধ করছি, আপনারা নিজেদের স্বাধ্যমত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করুন। আপনাদের সহযোগিতায় রোগীরা আবার সুন্দর ভাবে বাঁচতে শিখে। তাই কখনই চিকিৎসার অভাবে কোন রোগীকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে না হয় সেটা খেয়াল রাখবেন।
আমি নিহা। বি.বি.এ ৩য় বর্ষে পড়ছি। লেখালেখি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।