মা তাড়াতাড়ি টিফিন দাও। আজ স্কুলে যেতে খুব দেরি হয়ে গেল। মনে হয় না সামনের বেঞ্চে বসতে পারবো। বাড়ি থেকে বের হয়ে একটা রিকশা পেলাম না হেটে হেটে কোয়াটারের পাশ দিয়ে স্কুলে গেলাম।
ইস!! অ্যাসেম্বলি শুরু হয়ে গেছে আজ আর রেহাই নেই। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে লেট লাইনে দাড়িয়ে পড়লাম। জানিনা ক্লাসে যেতে পারবো কিনা। এদিকে অ্যাসেম্বলি শেষ হতেই হেডস্যার আর সাঈদী স্যার বেতের লাঠি নিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসলেন। দেখছে, সবার জুতা, নেমপ্লেট সল্ডার ব্যাচ ঠিক আছে কিনা। এরপর সবাইকে বেত দিয়ে হাতে ঠাস- ঠাস করে মারলেন। এটা দেখে অমনি চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল আমার।
স্যার আমায় জিজ্ঞেস করলেন -তুমি দেরি করে এসেছো কেন? আমি কি আর বলবো-স্যার একটা রিকশা পাইনি তাই হেঁটে হেঁটে আসতে দেরি হয়েছে। এটা বলে কি আর পার পাওয়া যায়। আমিও দুটো বেতের মার খেলাম। তারপর দৌড়ে ক্লাসে গেলাম। ও নাফি আমার জন্য জায়গায় রেখেছে দুজনে একসাথে বসে ক্লাস করতে পারব। দেখি বাবু স্যার ক্লাসে এসেই নাম প্রেজেন্ট করা শুরু করলেন এরপর সবার হোমওয়ার্ক দেখছিলেন আমি ব্যাগ খুলে দেখি হোমওয়ার্কের খাতা আনি নি। মনে হয় টেবিলের উপরে রাখা আছে।
আজ মনু আমার ব্যাগ গুছিয়ে। ইচ্ছে করেই খাতা রাখেনি। স্যার খুব রেগে গিয়ে বললেন ক্লাস রুমের বাইরে গিয়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকো। এটা কোন কথা ক্লাস রুমের ভিতরেই কান ধরে দড়িয়ে থাকি তা নয় বাইরে গিয়ে কান ধরে থাকতে হবে। বোকার মত জি স্যার বলে বাইরে গিয়ে কান ধরে দাঁড়ালাম। এদিকে দেখি "খ" শাখার ছেলেমেয়েরা আমাকে দেখে হাসতে লাগল। একটু পরে নাফিও ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে এসে কান ধরলো। বাইরে এসেই রাগ করে বলতে লাগল তোর জন্য আমাকেও কান ধরতে হয়েছে। আমি বললাম -আমি আবার কি করলাম? তুই হোমওয়ার্ক করেছিলি স্যারকে দেখালেই পারতি। আমার জন্য তুই কেন স্যারের বকা শুনবি।
ভালোই হয়েছে এখন আর স্যারের ক্লাস করতে হবে না। দুজনে মিলে এখানে গল্প করতে পারব।। স্যার আমাদের গল্প করা দেখে দুজনকে ক্লাসের ভিতরে ডাকলেন। ডাইরিতে লিখে দিলেন আমি ক্লাসে অমনোযোগী।।পরদিন নাকি মায়ের স্বাক্ষর করে আনতে হবে। আজ দিনটাই খারাপ মনে হয়। যাই হোক পরের ক্লাস ভালো করে করব।পিয়ন মামা এসে বললেন খাদিজা ম্যাম অসুস্থ তাই তিনি আজকে স্কুলে আসতে পারেনি। এই সময় আমরা গল্প করে ক্লাসটা পার করে দিলাম।
এরপরে ফৌজিয়া ম্যাম ক্লাসে এসে বললেন ৭ তারিখ থেকে আমাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। তাই ৫-৬ তারিখ স্কুল বন্ধ থাকবে। পরীক্ষা শব্দটা শুনলেই মনে একটা ভয় কাজ করে। কিছুক্ষণ পর ম্যাম ক্লাস থেকে চলে গেল। এখন টিফিন পেরিয়ড অনেকেই মাঠে খেলতে গেছে আমি গালে হাত দিয়ে বসে পড়লাম। ক্লাস টেস্ট পরীক্ষায় খুব খারাপ নম্বর পেয়েছিলাম এবার যদি পরীক্ষায় কম নম্বর পাই তাহলে বাসায় আর থাকাই হবে না।
এজন্য নাফির কাজ থেকে গণিত বুঝিয়ে নিচ্ছিলাম। আর কয়েকটা বই দাগিয়ে নিলাম বাসায় গিয়ে পড়তে বসবো। নীপা বললো উপশহরে নাকি মিনা বাজার বসেছে একথা শুনে আজ স্কুল পালাতে ইচ্ছে করছে।শুধু তিনবারই মতো স্কুল থেকে পালাতে পেরেছি।
নাফি আর আমি ব্যাগ নিয়ে আস্তে আস্তে সিঁড়ি থেকে নামছিলাম। এসময় পকেট গেটে কোন মামা থাকে না। তাই পকেট গেট দিয়ে পালানোর চিন্তা করছি। দেখি অ্যাসিস্ট্যান্ট স্যার বাগানের দিকে হাঁটাহাঁটি করছে। আজ আর পালানো সম্ভব নয়। তাই দৌড়ে আবার ক্লাস রুমে গেলাম আর তিনটা ক্লাস হলে ছুটি এখনো ৪ ঘন্টা থাকতে হবে।টিফিন পিরিয়ড শেষ হতেই রাজেশ স্যার ক্লাসে এসে বই দাগিয়ে দিলেন তারপর ম্যাম ক্লাসে এসে কিছু কথা বলে চলে যান। স্কুল ছুটি হওয়ার সাথে সাথেই আমি আর নাফি মিনাবাজারে যাই ওখানে গিয়ে এক প্লেট ফুচকা খাই কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে আবার বাসায় চলে আসি। তবে কাল থেকে সময়মতো স্কুলে যাবো।
আমি নিহা। বিবিএ ৩য় বর্ষে পড়ছি।মাঝেমধ্যে লেখালেখি করতে ভালোবাসি।