আমাদের দেশের নাগরিকরা কত সচেতন সেটা এই মহামারীতেই বোঝা যাচ্ছে। এক পক্ষ দেশকে রক্ষা করার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা টাকা লুটে নেওয়ার ধান্দা করছে।
কিন্তু এসব তথ্য খুব কমই প্রকাশ পাচ্ছে। আমার মা একটি দোকান থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করে।
কয়েকদিন আগে সেই দোকান থেকে একটি স্যাভলন ক্রয় করেছিল। দোকানদার নির্দিষ্ট মূল্য হতে পাঁচ টাকা বাড়তি নিয়েছে। তিনি একটি পণ্যের দামই বৃদ্ধি করে নি তার দোকানের সব পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি একটি কথায় বলেন বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এখন সাধারণ ভোক্তারা আর কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেশি মূল্য দিয়ে পণ্য ক্রয় করছে। তাছাড়া এই মহামারিতে মাক্স, গ্লাফস এর দাম অনেক দোকানদারই বৃদ্ধি করেছে। ভাম্যমাণ আদালত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তারা বলেন পণ্য সরবরাহের সল্পতার জন্য মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। যে দেশের মানুষেরা দু'মুঠো খাবার ঠিকমতো খেতে পারে না তারা কিভাবে অধিক দাম দিয়ে পণ্য সামগ্রী কিনবে। এটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?
এমন অনেক পরিবারই আছে যারা কোন সাহায্য পায়নি। এটা শুধু আপনার, আমার জন্য নয়। হাজার কর্মজীবীর কাজ স্থগিত আছে তাহলে তাদের মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পথই বাকি থাকবে না। দিন -দিন এরকম অসাধু ব্যবসায়ীদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আমাদের জীবন যাপন করা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে।আজ সকালে আমার বন্ধু একটি ভিডিও শেয়ার করেছে সেখানে দেখলাম পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেখে, চট্টগ্রাম হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কিছু দোকানে একটি নরমাল চেয়ার বিক্রয় করা হচ্ছে ১২০০ টাকা। যে চেয়ারের নির্দিষ্ট মূল্য ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
তাহলে ক্রতারা কিভাবে এত মূল্য দিয়ে এই চেয়ার ক্রয় করবে। পুলিশ এ বিষয়ে কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানিয়েছে, মালিক তাদের ১২০০টাকায় চেয়ার বিক্রি করতে বলেছে।
তখন পুলিশ মালিকের সঙ্গে কথা বলে আর মালিক একই কথা জানান যে, বাজারে পণ্যের সল্পতার জন্য দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে ।পুলিশ মালিকের কাছ থেকে যৌক্তিক তথ্য না পেলে পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারন করে এবং সেটা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে। পুলিশ সদস্যরা সেই দোকানের চেয়ার বিক্রি করতে নিষেধ করে। আর তারা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে এবং সরকারের কাছে অনুরোধ করছে এরকম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। একটি হাসপাতালে জরুরি দোকান পাটে দিনে রাতে এভাবে লুট করা হয়।তাহলে বাংলাদেশের হাজার হাজার দোকানে ব্যবসায়ীরা লুট করছে। আজকে এই পুলিশ সদস্যরা জনগণকে সচেতন করছে আর ভোক্তা আইন মেনে চলতে বলছে আমাদের উচিত ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে জানা। কেননা অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী বলা আছে যারা প্যাকেটজাত নির্ধারিত মূল্যে হতে অধিক দামে পণ্য বিক্রি করলে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।এবং অনেক সময় তারা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
তাই শুধু নিজেদের ক্রয় করার ক্ষমতা না দেখিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের কথা ভাবতে হবে।তারা যেন সুলভ মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে পারে এই বিষয়ে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে। দরকার হলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নিতে হবে।আর হ্যাঁ শুধু পণ্যের দামই নিশ্চিত করলে হবেনা পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পণ্য প্রস্তুত করলে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আর আমি প্রত্যেক ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করছি তারা যেন ডেট এক্সপায়ার দ্রব্য সামগ্রী বিক্রি না করে। তাদের একটিমাত্র ভুলের জন্য অনেকের প্রাণহানিও হতে পারে। তাই দেশের কথা ভেবে পণ্য বিক্রি করবেন।
আপনারা চাইলে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ কল দিয়ে
তথ্য জানতে পারেন এবং আপনাদের কোন অভিযোগ থাকলে তা জানাতে পারেন।