জীবন -যুদ্ধে হেরে গেলেই আমরা হতাশ হয়ে যাই। কখনো বুঝতে চাইনা ভুলটা কোথায় হয়েছিল। পারবো না কথাটি অনেক সহজেই বলে ফেলি। প্রবাদে বলে, গোবরেও পদ্ম ফুল জন্মে। তাহলে এই ব্যর্থতা থেকেই আমরা কেন নতুন জীবন গড়তে পারি না?
বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি আছেন যাদের এই সাফল্যের পিছনে বহু ব্যর্থতার গল্প লুকিয়ে আছে। যেমন :
টমাস আলভা এডিসন :
বর্তমানে টমাস আলভা এডিসন নামটি জানেনা এমন মানুষ অনেক কমই পাওয়া যাবে। তিনি বৈদ্যুতিক বাতি, অডিও রেকর্ডিং এবং আধুনিক ব্যাটারি ইত্যাদি আবিষ্কার করেছেন। তিনি একবারেই সফল হননি। বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের সময় ১০ হাজার বার ব্যর্থ হয়েছেন।তারপরও হার মানেন নি। অবশেষে তিনি বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের সাফল্য অর্জন করেছেন। টমাস আলভার স্কুল জীবন খুব অল্পসময়ের ছিল কিন্তু মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
জ্যাক মা:
বিশ্ব জুড়ে আলিবাবা প্রতিষ্ঠানটি সাফল্য অর্জন করেছে। এই আলিবাবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার নাম জ্যাক মা। তিনি কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় তিনবার অকৃতকার্য হয়েছেন। কিন্তু চতুর্থবারে পরিক্ষা দিয়ে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারপর তিনি চাকরি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশে ১০ জন পরীক্ষা দিলে ৯ জনই চাকরি পেতেন,আর বাদ পড়ে যায় একজন। সেই একজনই ছিলেন জ্যাক মা কিন্তু অধ্যাবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে আজ তিনি সফল প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ পান। পৃথিবীর সকলেই এখন আলি বাবার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানেন।
জে কে রাউলিং :
জে কে রাউলিং একজন সফল সাহিত্যিক। কিন্তু এই সফলতার পিছনে কিছু ব্যর্থতার গল্প লুকিয়ে আছে। হ্যারি পটারেরপ্রথম বইটি প্রকাশ করতে গিয়ে ১৪ টি প্রকাশনা সংস্থা প্রত্যাখ্যান করেছিল।
অবশেষে ব্লুমসবারি প্রকাশনা সংস্থাটি বইটি প্রকাশ করেছিলেন। তারপর থেকেই তার জীবন বদলে যায়। একের পর এক ভালো বই লিখেন তিনি। বই লেখক হিসেবে তিনি একজন ধনী ব্যক্তি।
লিংকন ওয়াশিংটন :
ইতিহাস বদলে দেওয়া একজন রাজনীতিক হলেন লিংকন ওয়াশিংটন। বারবার জীবন যুদ্ধে হেরে যান তিনি । তারপরও পরাজয়ের ভয় তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। লিংকন ওয়াশিংটন ২৩ বছর বয়সে চাকরি হারান। এরপর থেকেই তার হার মানার গল্প শুরু হয়। কিন্তু রাতের অন্ধকারের পর যেমন সূর্যের কিরণ দেখা যায়। ঠিক সেভাবেই ৫২ বছর বয়সে ১৮৬১ সালে তিনি আমেরিকার ১৬ তম প্রসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
এভাবেই অনেক পরাজয়ের পরেই এই সাফল্য ব্যক্তিরা জয়ী হয়েছেন।
অবশেষে আমি কিছু কথা বলতে চাই, নিজের চিন্তা ধারা কাজে লাগিয়ে কঠোর পরিশ্রমের দ্বারাই খ্যাতি অর্জন করা সম্ভব।
আত্মবিশ্বাস ও পরিবারের অনুপ্রেরণা সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। একবার না পারিলে দেখ সত বার। এই মনোবল নিয়েই যদি কাজ করা যায় তাহলে সাফল্য আমাদের দুয়ারে এসে পৌছাবে। আর হ্যাঁ কোন কাজই ছোট না। আপনি আপনার মতো চেষ্টা চালিয়ে যান। একদিন না একদিন আপনি সফল হবেন।
আমি নিহা। লেখালেখি করতে পছন্দ করি। আশা করছি আজকের লেখাটি আপনাদের ভাল লাগবে।