এখন আর অন্ধকার রাতে একা হাটতে ভয় লাগে না। খুব অবাক হচ্ছিস তাই না। হবারই কথা ৫ বছর পেরিয়ে গেলো সময়ের সাথে আমিও হয়তো বদলে গেছি।তাই নিজেই বুঝতে পাই আমি আর আগের মতো নেই।মায়াজালে আটকে থাকলেও জীবনে একাই পথ চলতে হয়েছে।
তোর মনে আছে তুই আমি ছোটবেলায় একসাথেই খালামনির সাথে স্কুলে যেতাম।রোজ টিফিন নিয়ে আমাদের কি ঝগড়াই না হতো। তুই একদিন আম্মুকে এসে নালিশ করেছিলি পরে সরি বলেছিলি বলে মাফ করে দিয়েছিলাম।
এরপরে ২ জনে আবার একসাথে কলেজে ভর্তি হলাম। আমরা ২ জন খুব ভালো বন্ধু ছিলাম তাই না। তবে তুই যখন অন্যকারো সাথে কথা বলতি খুব হিংসে হতো।জানিস তো,ছোটবেলা থেকেই আমি হিংসুটে। তোর খুব হাসি পাচ্ছে তাই না। কেন জানি না হঠাৎ করেই তুই আমার সাথে ঠিক আগের মতো কথা বলতি না। তোর মনে আছে কি না জানি না,২০০৯ সালের ৩ তারিখে ভোর বেলা থেকে হাজার বার তোকে কল দিয়েছিলাম। আর তুই অবশেষে কল রিসিভ করেই এক ধমকে বললি বার -বার কল দিচ্ছিলি কেনো।
আমাকে কিছু বলতেই দিলি না ওমনি কল কেটে দিলি।সে দিন আমার মা বাড়ি থেকে রাগ করে চলে গিয়েছিল। তাই তোকে বার বার কল দিয়েছিলাম কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।পরদিন ক্লাসে ঠিকই তোর সাথে দেখা হলো তুবও কিছু জিজ্ঞেস করলি না। তাই অভিমানে তোর সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দেই।এদিকে মায়ের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারছিলাম না।তাই তোকে মেসেজ লিখতে গিয়ে আবার ডিলিট করে দিতাম।কয়দিন পর বাবার বদলি হওয়ার কথা তাই সব অভিমান ভুলে তোর সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম। আর তখনই দেখি তুই অর্তিকে প্রপোজ করছিলি।
জানি না কেন আমার খুব খারাপ লাগছিলো। হয়তো বন্ধুতের থেকে একটু বেশি ভালোবেসে ছিলাম। তাই তোর সাথে কথা না বলেই বাসায় চলে এলাম। রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে রাখলাম। সকালে বাবা অফিস যাওয়ার আগে বলতে লাগলো- বাবা কোথাও বদলি হচ্ছেন না এখানেই আমরা থাকবো। এ কথা শুনেই আমি নিশ্চুপ হয়ে যাই। কিসের ভয়ে নিজেকে আড়াল করতে চাচ্ছিলাম। তাই এ শহর থেকে অনেক দুরে যেতে ইচ্ছে করছে।
এদিকে সময় আর পরিস্থিতি কোনটিই আমার অনুকূলে ছিলো না। যাই হোক আর মাত্র ২ মাস তাহলেই কলেজ লাইফ শেষ। এটা ভেবেই সান্ত্বনা দিতাম নিজেকে। এরপর হয়তো তোকে ছাড়া বাকি পথ পাড়ি দিবো। এদিকে পরিক্ষা শেষ হলেই আমি বড় খালামনির বাসায় যাই। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার জন্য মন দিয়ে পড়াশোনা করি। কিন্তু তোর সাথে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই একা একা হাসতাম। বাবার স্বপ্ন পূরণ হলো শেষমেশ একটা ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাই। ক্যাম্পাসে নতুন পরিবেশ, নতুন সব মুখ তাই সব গুছিয়ে নিতে কয়েক মাস লাগলো। এখানে সবাই অনেক মিশুক আমার এসাইনমেন্টে, প্রেজেন্টেশনে অনেক হেল্প করে। অনেক বছর পর সব ভুলে আবার ভালোই দিন কাটাতে লাগছিলাম।
তবে সেদিন তোকে ক্লাস রুমের সামনে দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম।তোর সাথে কথা বলার সাহস ছিলো না। জানি না কেন,সব কিছু ভুলে যাওয়ার পর তুই এখানে এসেছিস। আমি জানি দোষটা আমারই তোর কাছে হয়তো সব অজানাই ছিলো।কিন্তু এতো বছরেও একবার কি আমার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলি। আমি আর অতীতের কোন স্মৃতি মনে রাখতে চাই না। তাই আজ তোর কাছে চিঠি লেখা। এ সপ্তাহে বাবা আমাকে নিতে আসবে। আমি বাবার সাথেই এখান থেকে চলে যাবো। একটা কথাই বলতে চাই, আমাকে আমার মতোই থাকতে দে। আর কখনই আমার জীবনে ফিরে আসবি না ।
ভালো থাকিস।
এই গল্পটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তব চরিত্রে সাথে কোন মিল নেই। আর আপনাদের কোন মতামত থাকলে জানাতে পারেন।