মনে পড়ে কি সেই দিনের কথা। প্রায় ২ বছর হয়ে গেল শাওন, হায়াদ আর এশা মিলে যশোর যেতে চেয়েছিলাম। সবকিছু ঠিকই ছিল কিন্তু যাওয়ার আগের দিন এশা বিশেষ কাজে খুলনাতে চলে যায়। তারপর কি আর আমরা তিন জনই যশোর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সেই রাতে আমাদের ঘুমই হয়নি।
ভোর বেলা উঠেই ফ্রেশ হয়ে ব্যাগ গুছালাম। হায়াদ বাসের সিট ধরার জন্য মুজিব চত্তরে ৮ টার আগেই চলে গেল। আমি আর শাওন হলের গেটের সামনেই দাড়িয়ে ছিলাম। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই বাস আসলো কিন্তু হায়াদ বাসে উঠতেই পারে নি। তাই আমি শাওন বাসে উঠেই হায়াদ এর জন্য সিট রাখলাম। তারপর হায়াদ এসে বাসে উঠলো। ঝিনাইদহ পর্যন্তই ক্যাম্পাসের বাস যায়। তাই এখানেই নেমে পড়লাম। শাওন কয়েক জনের কাছে শুনলো যশোরে যাওয়ার জন্য কোন বাসে উঠতে হবে। একটু পরেই একটা বাস আসলো কিন্তু আমরা তিন জন ঠিক মুত্তির মতো দাড়িয়ে ছিলাম। সেই বাসে এতো ভিড় দাড়ানোর বোধ হয় জায়গা ছিল না তারপরও যাত্রীরা দৌড়ে বাসে উঠছে।
এভাবে ৩-৪টার বেশী বাস আসতেই থাকলো তবে আমাদের আর বাসে উঠা হচ্ছিলো না। তাই এবার সিদ্ধান্ত নিলাম, যেই বাস আসবে সেটাতেই উঠে পড়বো। তখনই গড়াই-রুপসা বাস এলো হায়াদ দৌড়ে গিয়ে বাসের সিট ধরলো। তবে ও ২ টা সিটই রাখতে পেয়েছিল। যাইহোক বাসে উঠতে পেয়েছি এটাই বিশাল। একটু পর আরেক টা সিট ফাকা হয়েছিলো হায়াদ সেখানে গিয়ে বসলো।হঠাৎ বাসে একটা ছোট্ট বাবু দেখতে পেলাম ওর মায়ের কোলেই ছিল। ওনারা বাসে দাড়িয়ে যাচ্ছিলো তাই আমি আর শাওন বাবুটিকে আমাদের কাছে নিয়ে রাখলাম।
ও এতোই শান্ত যে কান্নাকাটি করেনি। এরপর যশোর ক্যান্টনমেন্ট এরিয়াতে আমরা নামলাম। শাওনের মামী ক্যান্টনমেন্টে জব করে তাই ওনার ইনফরমেশন দিয়েই কোয়ার্টার এ আসলাম। আজ রাতে এখানেই থাকবো।
শাওনের নানি ও ২ দিন আগে এখানে এসেছে। আমরা ফ্রেস হয়ে একটু বিশ্রাম করলাম। দুপুরে সবাই একসাথে খেলাম। মনে সব আমার পছন্দের খাবার রান্না করেছে। বিকালে মামী অফিস থেকে বাসায় এলো। আমাদের দেখে অনেক খুশি হয়েছিলেন। আমাদের সাথে গল্প করলেন। তিনি কিছু জায়গার নাম বললেন যেখানে আমরা ঘুরে আসতে পারি। তাই ভাবলাম কাল সকালেই ঘুরতে বের হবো। রাতে সবাই মিলে গল্প করে তারপর ঘুমালাম। তারপর ঘুম থেকে উঠেই আমরা ফ্রেস হয়ে ব্রেকফাস্ট করলাম। ৯ টার দিকে বোর্ড ক্লাবে যাওয়ার জন্য রওনা হই। হঠাৎ বৃষ্টি এসে গেলো তাই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর একটা অটো রিসার্ভ করে বোর্ড ক্লাবে গেলাম। জায়গাটা অনেক সুন্দর কিন্তু এতো বেশি বৃষ্টি হচ্ছিলো তেমন ঘুড়তে পারিনি। তবে স্প্রিড বোর্ড উঠে খুব ভালোই লাগছিলো। বেশ কয়েকি ছবিও তুলেছিলাম।
এরপর বিনোদিয়া পার্কে গেলাম। পার্কের ভিতরে প্রবেশ করতে ৫০ টাকার টিকেট নিতে হয়েছিলো। এখানে দেখার মতো তেমন কিছুই নেই। আমার বোর্ড ক্লাবটাই বেশী ভালো লেগেছে। তারপরও কয়েক ঘন্টা ঘুরলাম। মামী বাড়িতে যাওয়ার জন্য কোন অটো পাচ্ছিলাম না। প্রায় ২০ মিনিটের পথ কতক্ষণ আর রিকশা অটোর জন্য অপেক্ষা করবো। তাই পায়ে হেঁটে -হেঁটেই সেখানে এলাম।অর্ক কল করে বললো আজ ও বাসা থেকে ক্যাম্পাসে যাবে। ওর বাসা খুলনাতে। ও বললো আমরা যশোর থেকে একসাথে ক্যাম্পাসে যেতে পারি।
তাই বিকালে ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য আমরা রওনা হলাম। বাসস্টপ গিয়ে দেখলাম অর্ক দাড়িয়ে আছে। আমরা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। ৩০ মিনিট হয়ে গেলো একটা বাস ও পেলাম না। তাই আমি বলতে লাগলাম মিসিক কোথায় লেখা আছে তোমরা খুজে বের করো। এভাবেই সময়গুলো পার করছিলাম। অবশেষে ভাগ্যক্রমে একটা বাস পেলাম আর এই যাত্রায় আমরা ৪ জনই ক্যাম্পাসে গেলাম। এই ২ দিনের ঘুড়তে যাওয়ার গল্পটা ২ মাস ধরে হয়তো সবাইকে বলেছিলাম। সত্যি জায়গায়টা অসাধারণ সুন্দর । আজ সেই দিনের কথা খুব মনে পড়ছিলো তাই আপনাদের সাথে সেই দিনের কিছু বিশেষ মুহূর্ত গুলো শেয়ার করলাম।
আমি নিহা। আমি লেখালেখি করতে আর ঘুরতে পছন্দ করি। আশা করছি আমার লেখাটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।