হঠাৎ কোন এক মেঘলা দিনে আবার তোমার সাথে দেখা হবে। তখন না হয় দুজনে অনেক গল্প করবো। এটা কোন সিনেমার গল্প নয় এটা তোমার অপেক্ষায় থাকার গল্প।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তোমাকে অনেক মিস করছি। তুমি কি আগের মতই আছো? নাকি সময়ের সাথে তুমিও বদলে গেছো।
চল আমরা আগের যুগে ফিরে যাই তুমি আমার জন্য একটি চিঠি লিখবে আমি সেই চিঠির অপেক্ষায় থাকবো। আর সময় পেলে আমার জন্য কিছু বকুল ফুলের মালা আনবে। তোমার মনে আছে কি, শেষ কবে আমাদের দেখা হয়েছিল আমি জানি, তুমি কিছুই মনে রাখনি তাই আমিও মনে রাখতে চাই নি।
তোমার সাথে দেখা হলেই কি বলব সেটা বুঝতে পারি না তাই চুপ করে তোমার কথা শুনি। তবে এবার দেখা হলে আমি কথা বলব আর তুমি চুপ করে শুনবে। এ বছরে তোমাকে ছাড়াই পহেলা বৈশাখের দিন কাটাতে হয়েছে। তোমার মনে পড়ে কি, গতবছর তুমি পহেলা বৈশাখের দিনে নীল পাঞ্জাবি পড়েছিলে আর আমি তোমার দেওয়া শাড়ি পড়েছিলাম। সেই সকালে বের হয়ে দুজনে বাংলা মঞ্চে গিয়ে গান শুনছিলাম। তুমি গুনগুন করে এসো হে বৈশাখ গান গাচ্ছিলে। ১০ টার পরে আমরা প্রত্যেকটা খাবারের স্টল ঘুরছিলাম।
আর যখনই ডিপার্টমেন্টের স্টল চোখে পড়ল তখনই দুজনে সেখান থেকে চলে আসার চেষ্টা করলাম। কিন্তু মায়া আপুর চোখে কি আর ফাঁকি দেওয়া যায়। একটা আইসক্রিম হাতে ধরাই দিয়ে ২০০ টাকা নিয়ে নিল।আমি কতবার বললাম -আপু আমি গরিব টাকা পয়সা নাই। আর তখনই আপু বলে উঠলো এই ডিপার্টমেন্টের পোলাপাইনরা কিপটা দেখছি। এক টাকাও ছাড়তে চায় না।
এদিকে সাদিক স্যার আমাদের দেখে বলছিল কি অবস্থা তোমাদের? আমরা মুখে এক ফালি হাসি নিয়ে বলে উঠল "এইতো স্যার গান শুনতে এসেছি "।এটা বলেই দুজনে সেখান থেকে চলে আসলাম। তারপর এক ঝাঁক জুনিয়র এসে সামনে হাজির হলো। আর তোমাকে বলছিল ভাইয়া স্টলে নিয়ে চলেন। বাহ্ দেখছি তোমাকে সবাই চিনে। এটা বেশ ভালো কথা! তবে তুমি আমার কথা ভুলে গিয়ে ওদের ঝাল চত্বরে নিয়ে গেলে। আমি আর বসে বসে কি করতাম তাই নিপা আপুর কাছে গিয়ে আলপনা দিয়ে নিচ্ছিলাম। ঘন্টাখানেক পার হয়ে গেল তারপরও তোমার খোঁজ ছিল না। বিকেলের দিকে এসে বললে, স্যারদের সাথে ঘুরছিলে
এরপর আবার দুজনে টিএসসিতে গিয়ে বসলাম। আকাশ, সাব্বির, তন্বী এরা গান গাচ্ছিলো তাই চুপ করে এদের গান শুনছিলাম। একটু পর প্যারাডাইস রোডে হাঁটতে গেলাম। তুমি আমার কয়েকটা ছবিও তুলে দিলে তবে একটা ছবিও ভালো হয়নি। কিন্তু সেই ছবিগুলো আজও আমার ফোনে আছে। এদিকে কথা বলতে বলতে ডায়না চত্বর থেকে প্যারাডাইস রোডে কতবার হাঁটলাম সেই খেয়ালই ছিল না। প্রায় ৮ টা বেজে গেছে। তাই আমি হলে চলে আসলাম। সেই দিনই হয়তো এক সঙ্গে অনেকটা সময় আমরা কাটিয়ে ছিলাম।
এরপর থেকে তুমি ব্যস্ত হয়ে গেলে। তাই ঠিকঠাক আর তোমার সাথে কথাও হতো না।বেশ কয়েকদিন পর তুমি কল করে বললে, স্কলারশিপ পেয়েছো তাই এখন ভিনদেশে পাড়ি জমাতে চাও। এ নিয়ে আমার কোনো আপত্তি ছিলনা। তাই এ শহর থেকে তুমি চলে গেলে। প্রায় এক বছরের বেশি হয়ে গেল এতদিনে হয়তো এই শহরের রাস্তা অলিগলি ও ভুলে গেছো। সেইসাথে এই শহরের মানুষদেরও কি ভুলে গেছো?
বেশ কয়েক দিন ধরে তোমার সাথে আর কথা হয়না। তাই ভাবলাম তোমাকে আর কল দিব না এবার না হয় একটা চিঠি লিখে পাঠাবো। কষ্ট করে তোমাকে সেই চিঠির উত্তর দিতে হবে না। শুধু আমাকে স্মরণ করলেই হবে। তুমি কি আর ফিরবে না। এ শহরে আবার কি আমাদের দেখা হবে? আমি প্রতিদিনই সকালে প্যারাডাইস রোডে হাঁটতে যাই তবে কিছু একটা কমতি অনুভব করি। তাই ভাবছিলাম এ শহর থেকে চলে যাবো, কিন্তু পিছু টানে আর যেতে পারছিনা। তোমাকে আর কিছুই বলার নেই।
তবে তোমার অপেক্ষায় থাকলাম।
আমি নিহা। বিবিএ ৩য় বর্ষে পড়ছি।লেখালেখি ও ঘুরতে পছন্দ করি।