ফুল প্রেমিকদের সমারোহ

Words
455
Reading
3 min
Listen
Play
6y

অনেকদিন পর গতকাল বিকেলে আন্টির বাসায় গিয়েছিলাম। সিড়িতে উঠতেই দেখি ভাইয়া অনেকগুলো ফুলের গাছ নিয়ে এসেছে। তারপর আমি আর আম্মু রুমের ভিতরে গেলাম। আন্টির সাথে কথা বার্তা বলছিলাম ।

IMG_20200625_171431.jpg

তখন হঠাৎ করেই টি- টেবিলের উপর একটি ফুল দেখতে পেলাম। মনে হয় এটি কাঠগোলাপ ফুল।ফুলটি হাতে নিয়েই আমার ফাতেমা আপুর কথা মনে পড়ছিল। ফুলের নাম শুনলেই ফাতেমা আপুর মাথা আর কাজ করতো না। এরকম ফুল প্রেমিক আমি কমই দেখেছি। অনেক সময় আমি আর ফাতেমা আপু বিকেলবেলায় বাজার করতে যেতাম। একবার আমি খেয়াল করলাম ফাতেমা আপু একদৃষ্টিতে হলের ফুল বাগানের দিকে তাকিয়ে আছে। সেদিন আমি আপুর হাত টেনে বলেছিলাম আগে বাজার থেকে আসি তারপর আপনি ফুলের দিকে তাকিয়ে থাকেন।বাজার থেকে আসার পর ফাতেমা আপু দৌড়ে গিয়ে কয়েকটি ফুল ছিড়ে ছিল। আর বলল কেউ আমাকে দেখেনি তো?

তারপর দুজনেই রুমে গেলাম। আর তখনই আপু টেবিলের উপর থেকে কিছু ফুলের টপ হাতে নিলো আর সেগুলোতে ফুল সাজিয়ে রাখলো। শুধু একদিন নয় যখনই আপু বাগানে যাবে তখনই ফুল ছিঁড়ে আনবে। তাই মাঝেমধ্যে শামীমা আপু আর শাওন যদি কোন অনুষ্ঠানে ফুল পেয়ে থাকে তাহলে আপুর জন্য ফুল নিয়ে আসবেই।

আর আমার মা ফুল দেখলেই সেখানে গিয়ে ছবি তুলবে। প্রায় ৪-৫বারের মতো মা হলে আমাকে দেখতে গিয়েছিল।
প্রত্যেক বারই বাগানে যেত আর বলতো ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে আছি ছবি তুলে দে। শুধু হলেই নয় রংপুরে আসলেই মা আর আমি শপিং করতে যেতাম। যদি কাচারি বাজার অব্দি হেটে আসি তাহলে আর কথাই নেই। সেখানে প্রায় হাজারেরও বেশি ফুল গাছ আছে। ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে ছবি তুলে দিতে হয়।
আমি যখন মাকে জিজ্ঞেস করি :তোমার কি ফুল খুব ভালো লাগে? তখনই মা বলে,

যারা ফুলকে ভালবাসতে পারেনা তারা মানুষ কেউ ভালবাসতে পারে না।

আমি জানিনা এই কথাটা কতটুকু সত্য। যাইহোক ফুল প্রেমিক আছে বলেই বিভিন্ন উৎসবে প্রচুর পরিমাণে ফুল বিক্রি হয়। আমি নিজেও ফুল পছন্দ করি।পহেলা বৈশাখে শাড়ি পড়ে আর খোপায় ফুল দিতে বেশ ভালই লাগে। এখন দেখছি ভাইয়া ফুল প্রেমিক হয়ে গেছে। স্বপন ভাইয়া আমাকে মোবাইলে বেশ কিছু ফুলের ছবি দেখালো। আর দেখলাম ফুলের চারার কিভাবে যত্ন নিতে হয় সেগুলোর ইনফর্মেশন সংগ্রহ করে রেখেছে ফোনে। এখন প্রযুক্তি এতই ফাস্ট যে ঘরে বসেই সব তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

IMG_20200625_171525.jpg

আমি একটু পর আবার ছাদে গেলাম তখনই দেখলাম শুধু ফুলের গাছ নয় বিভিন্ন ঔষধি গাছ লাগিয়েছে। তুলসী গাছ, অ্যালোভেরা গাছ ও দেখলাম। সত্যি খুব ভালো বাগান করেছে। কিছুক্ষন পর মা ভাইয়া সবাই বাগানে আসলেন তখনই আমি আর মা বিদায় নিয়ে বাড়িতে আসার জন্য রওনা দিলাম। ৫ মিনিটের পথ তাই হেঁটেই বাসায় আসতে লাগলাম। মাঝপথে ক্যাম্পাসের এক আপুর সাথে দেখা হলো। আপুর সাথে কথা বলে বেশ ভালোই লাগল। আপুর মাস্টার্সে একটা পরীক্ষা শুধু বাকি ছিল তার মধ্যে দীর্ঘ দিনের ছুটি কাটাতে হচ্ছে। কিন্তু কিছু আর করার নেই।

তারপর মা আমি বাড়িতে আসলাম। অনেকদিন পর বাইরে বের হয়ে চেনা মুখগুলো দেখতে পেয়ে বেশ ভালোই লাগছিল।

আমি নিহা লেখালেখি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি। তেমন কিছুই নেই আমার সম্পর্কে বলার।

20200608_115836-3.gif

ফুল প্রেমিকদের সমারোহ | Ecency