বাবা-মা ছাড়া পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অনেক কষ্টকর। আজ বুঝতে পারছি সবার কাছে আমার কোনো মূল্যই নেই। এক সময় আত্মীয়দের আনাগোনায় বাড়িতে উৎসব লেগেই থাকতো।
আজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতেই হচ্ছে কেউ আমাকে চিনে না। তাই নিজেই সবার থেকে দূরে চলে যাওয়ার জন্য পাড়ি জমিয়েছি ছোট্ট এক গ্রামে। গ্রামের মানুষগুলো সত্যি সহজ-সরল বেশ কয়েক জনের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক হয়েছে দেখে গল্প করার সুযোগ পাই।
কিন্তু দিন শেষে নিজেকে খুব একা লাগে নিজের কষ্টগুলো হাজার চেষ্টা করলেও আড়াল করতে পারিনা। জন্মের পর থেকেই আমি মাকে দেখিনি কিন্তু বাবা আমাকে কখনোই মায়ের কমতি অনুভব করতে দেয়নি। মায়ের মত করেই আমাকে ভালোবাসতেন।
আমার মনে আছে,
বাবা ভালো রুটি বানাতে পারত না তাই কোনমতে রুটি বানিয়ে বলতো মা তোর জন্য ত্রিভুজ রুটি বানিয়েছি খেতে আয়।ছোটবেলায় বাবা আমাকে সঙ্গে করে অফিসে নিয়ে যেতেন এ জন্য বসের অনেক কথাও শুনতে হয়েছে।
ছোট ছিলাম বলে বাবা আমাকে কখনোই একা রাখার সাহস পাননি।তবে আমাদের দুজনের দিনকাল ভালই কাটছিল। আমাকে দেখাশোনা করার জন্য বাবা আত্মীয়দের বাসায় আসতে বললেন তারপর থেকেই অনেকে আমরা একসঙ্গে থাকতে লাগলাম। তাদের সাথেই আমি সময় কাটাতাম।
তাদের দেখে কখনোই মনে হতো না একদিন তারাই আমাকে চিনতে পারবে না। তাদের কথা শুনে আমি বাবাকে ছেড়ে হোস্টেলে ছিলাম। তবে প্রায় বাবার সাথে ফোনে কথা হতো। একদিন শুনলাম বাবা খুব অসুস্থ আমি দ্রুত বাড়িতে চলে আসতে লাগলাম। বাড়ি পৌছানোর আগেই রাস্তা থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পারছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছে? কোন দিক থেকেই বা কান্নার আওয়াজ আসছে। বাড়ি যেতে আর মাত্র ৫ মিনিটই বাকি ছিল। কিন্তু এদিকে ধীরে ধীরে আমার পা অচল হয়ে যাচ্ছিল মনে হলো এখনও বহু পথ বাকিআছে। বাড়িতে ঢুকতেই দেখি অনেক মানুষের ভিড় জমেছে। দু-একজন আমার দিকে তাকাতেই আমার মাথায় হাত বুলাতে লাগলেন।
এদিকে মামী দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল কিছু হয়নি তুই ঘরে যা। আমি সবাইকে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু বাবাকে কোথাও দেখতে পারছিলাম না। মামী কে বাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই-মামী আরও কান্না করতে লাগছিলেন। আর যাই হোক বেশ বুঝতে পারছি বাবা আমাকে রেখে এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে। আমার কথা একবারও ভাবলো না। তখন আমি নির্বাক হয়ে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে ছিলাম এরপর প্রায় কয়েক সপ্তাহের মতো আমি কারো সাথে কথা বলিনি। বাবা আর কোনদিনই ফিরবে না আর আমার চুলে বেণী করে দেওয়ার মত কেউ থাকলো না।
কয়েক মাস পরে মামীরা ও বাসা থেকে চলে গেল আমি বারবার বলছিলাম -আমি কার কাছে থাকবো, আপনারাই আমার সবকিছু। এ কথাগুলো তাদের মন গলাতে পারেনি। আর এই বাড়িতে থাকতেও আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আমি সবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলাম তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে দূরে ঠেলে দিয়েছিল।
তবে এখন আমি কষ্টের মাঝে সুখ খোঁজার চেষ্টা করছি আমি জানিনা আমার কাছের মানুষগুলো কেন আমাকে ছেড়ে চলে গেল। সময় পাড় হবার পর কি তারা আমার কথা মনে রাখবে।আমি দিন গুনছি হয়তো খুব শীঘ্রই বাবার কাছে যেতে পারবো। তারপর দুজনে না হয় আবার এক সঙ্গে থাকব।
আমি নিহা। বিবিএ ৩য় বর্ষে পড়ছি। মাঝেমধ্যে লেখালেখি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।