এইত সেদিন কোন এক সংবাদ শিরোনামে দেখছিলাম ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে ফেরিতে ওঠার পর ভদ্রলোকের হাতের একটি ব্যাগ পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ভদ্রলোক ওমনি ঝাঁপ দেয় নদীতে ব্যাগটি আনার জন্য। কি এমন ছিল ঐ ব্যাগে যার জন্য সে জীবনের এত বড় ঝুঁকি নিল? না, কাড়িকাড়ি টাকা ছিল না ঐ ব্যাগে, না কোন মহা মূল্যবান জিনিস, ছিল তার সন্তানদের জন্য কেনা নতুন জামাকাপর। তবে ঐ ভদ্রলোকের জন্য ব্যাগটা মহা মূল্যবানই ছিল। কারন ঐ ব্যাগে ছিল তার সন্তানদের ঈদের খুশি আর একজন বাবার কাছে সন্তানের খুশির চেয়ে কি বা বড় হতে পারে?
Image]( )
এরকম ছোট-বড় গল্প হয়ত সব বাবাদের জীবনেই আছে। থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। নিজে ছেঁড়া জামা-কাপড়, ছেড়াঁ সেন্ডেল পরে ছেলেমেয়ের নতুন জামা, নতুন সেন্ডল কিনে দেয়া, ছাতা হাতে সন্তানকে বৃষ্টি থেকে বাচিঁয়ে নিজে বৃষ্টিতে ভিজে ফেরা অথবা নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেয়ার নজির রয়েছে সারা পৃথিবী জুড়ে।
জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাবারা বহির্মূখী হয়ে থাকে তাই সন্তানেরা মায়ের মমতা দ্রুত বুঝতে পারলেও বাবার ত্যাগ বুঝতে কিছুটা সময় লেগে যায়। বাবা মানে রাগী চেহারা, শাসন, মেপে কথা বলা, ধমক খাওয়ার ভয়। কিন্তু এই বাবা ভালবাসায় কতটা কোমল, উদার, কতটা ত্যাগী সেটা আস্তে আস্তে সময়ের সাথে অনুভূত হয়। সব বাবারাই যেন এক, তারা প্রকাশ করে না তাদের অনুভূতি,ভালবাসার কথা।
বাবারা কখনো কাদেঁন না, তাদের চোখের পানি যেন ঘাম হয়ে ঝরে পরে। তারা সংগ্রামী। প্রতিটি বাবা যেন একেকজন যোদ্ধা। সন্তান পৃথিবীতে আসার পর থেকেই যেন সব বাবারা তাদের শখের বলী দেন। সন্তানের শখ মেটাতে পারলে যেন বাবাদের শখ পৃরন হয়ে যায়। সারাটা জীবন লড়াই করে চলে সন্তানের সুন্দর জীবনের জন্য। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই যেন তাদের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা হাজারো ঝড়-ঝাপটা,কষ্টকে হেসে উড়িয়ে দিতে পারেন।
কলেজে পড়ার সময় বাবার সাথে ঈদের শপিং এ গিয়েছিলাম বরাবরের মতনই। দুপুর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত ধানমন্ডির সবগুলো শপিং মল ঘোরা শেষ তবুও কেন জানি কোন কিছু পছন্দই হল না। ইফতার শেষে এবার গেলাম বসুন্ধরায় ওখানেও হল না। এরপর নিউমার্কেটই ছিল একমাএ ভরসা। পরেরদিন নিউমার্কেট গিয়ে অনেক ঘোরাঘুরির পর কেনা হল। ঐদিন আমি ততটা বুঝতে পারিনি আমার বাবার এত হাটঁতে ভীষন কষ্ট হচ্ছে। তবে আজও ঐদিনের কথা মনে পড়লেই মনে হয় আমার পছন্দ বা খুশি বাবার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ন আর আমি কতটাই না নির্বোধ। কয়েক বছর আগে ঘুরে তাকালেই হয়ত মনে পড়বে, আপনার পছন্দের খাবারটি আপনার বাবার ও পছন্দের ছিল কিন্তু সে আপনার জন্য খেতনা। হতে পারে এখনো আপনার প্লেটেই তুলে দেয়।
বাবারা গোটা পরিবারের দ্বায়িত্ব কাধে তুলে নেয় নির্দাধায়। সংসার চালানো থেকে শুরু করে পরিবারকে নিরাপওা দেয়া, যাবতীয় প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় জিনিষ, বিপদ-আপদে বটবৃক্ষ হয়ে ছায়ায় রেখে আসছেন যুগ যুগ ধরে। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মেলে বটবৃক্ষের মত ছায়াদানকারী বাবার বুকে। সন্তানের সুখের জন্য যে কোন করতে প্রস্তুত থাকে সবসময়। বাবারা বুঝি এমনই হয়।
আজকের আমি বাবা তোমার জন্যই। তাদের বৃদ্ধ বয়সে যেন আমরা বটবৃক্ষ হয়ে দাড়াতে পারি প্রতিটি বাবার পাশে। পৃথিবীর সমস্ত সন্তানের প্রতি আহবান। শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসা বাবাদের প্রতি। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবারা।
ধন্যবাদ সবাইকে 🙂
ভাল থাকবেন, সুস্হ থাকবেন।