আজিমপুর কবরস্থান

Words
496
Reading
3 min
5y

আসসালামু আলাইকুম,
যেহেতু আমি এই ব্লগে কবর দেখাবো, সেহেতু সবার প্রথমে কবর জিয়ারতের দোয়া টা পড়ে নিবেন।
উচ্চারণ :" আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর"

অর্থ : হে কবরবাসী! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক ।

মুসলমানদের ধর্ম মতে তাদেরকে মৃত্যুর পর মাটির নিচে কবরে রাখা হয়। অন্যান্য ধর্ম মতে আলাদা আলাদা সংস্কৃতি রয়েছে। তবে ইসলাম ধর্মে এটাই আমাদের নিয়ম। আজিমপুর কবরস্থান হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কবরস্থান। এটি ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত। সপ্তদশ শতাব্দীতে ঢাকা শহরের পত্তনের সমসময়ে এই গোরস্থানের সূচনা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। এটি প্রায় 27 একর জায়গার ওপর অবস্থিত।
IMG20220115144339.jpg

এটা হল আজিমপুর কবরস্থানের ফটক।এটা দিয়ে ঢুকতে হবে এবং এটা দিয়েই বের হওয়া যায়।তবে চাইলে অপর পাশ দিয়েও খুবই চিকোন জায়গা দিয়ে একজন মানুষ বের হতে পারে। আমি মূলত অধিক দিয়ে ঢুকে ছিলাম। ওটা নিউ মার্কেটের পাশে ফাঁকা জায়গা দিয়ে। আমি আজিমপুরে থাকি, এরপরও এর আগে কখনো আজিমপুর কবরস্থানের যায়নি ,কিন্তু আমার এটি দেখার অনেক ইচ্ছা ছিল। কারণ এখানে অনেক আগের মানুষ, পুরাতন ধার্মিক ব্যক্তি, পরিচিত ব্যক্তিত্ব ,সাধারণ মানুষের কবর রয়েছে। মূলত ঢাকায় অধিকাংশ কবর এখানেই দেয়া হয়।এই একটি কবরের উপর প্রায় চার-পাঁচবার মাটি দিয়ে আরও কবর দেয়া হয়েছে। কিছুই করার নেই কারণ ঢাকার জায়গার মূল্য অনেক বেশি।

IMG20220115143635.jpg

কবর গুলো দেখুন খবর গুলো দেখতে সুন্দর কিন্তু ভিতরে যে কি হচ্ছে তা আমরা জানিনা। এটা শুধুমাত্র মানুষের কর্মের উপর নির্ভর করবে। সে যদি তার জীবনে ভাল কাজ করে তবে সে জান্নাত পাবে,কবরের শান্তি পাবে। আর যদি তার কর্ম খারাপ হয় তাহলে তার কবর এবং আখেরাত সবই কষ্টকর হবে।
আমি কবরের ছবি তুলি না,কবরের ছবি তুলতে আমার ভয় করে, কারন কবরকে দেখলেই আমরা আমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে থাকি। তবে আজিমপুরের কবরগুলো দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম কবর এত সুন্দর হতে পারে। কারণ এর আগে আমি খ্রিস্টানদের কবর দেখেছিলাম চার্চের ভেতর, সেগুলো অসাধারণ ছিল। তবে গ্রামের কবরগুলো সাধারণ হয়ে থাকে। কিন্তু আজিমপুরের কবরগুলো দেখে আমি বিস্মিত হয়ে যাই এবং ছবি তুলেছিলাম।

IMG20220115143655.jpg
এখানে অনেক বড় আলেম-ওলামা ,ব্যবসায়ী-শিল্পপতি,কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদের কবর রয়েছে। আমি মূলত কবরের ভিতরে ঢুকিনি মেইন ফটক দিয়ে হাটতে ছিলাম।

IMG20220115143815.jpg
এখানে চলার পথ টাও খুব সুন্দর ছিল। আমি আমার ক্লাস শেষ করে বাসায় ফেরার পথে কবরের ভিতর দিয়ে এসেছিলাম। যদিও এটা আমার ভাষাটা একটু উল্টো দিকে তবুও প্রথম অভিজ্ঞতা আমার খুবই ভাল লেগেছিল। এখানে অনেক পুরাতন কবর ও ছিল। এসব কবরে আর অন্য কারো কবর দেয়া হয়নি। খবর গুলো দেখেই আমার চোখ জুড়ায়া যাচ্ছিলো ছিল।

IMG20220115144131.jpg

আজিমপুর গোরস্থান লাশ দাফন করা ছাড়াও লাশ ধোয়ানো এবং জানাজা পড়ার ব্যবস্থা আছে। এখানে কতটি লাশ দাফন করা হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে এই গণনায় দেখা যায় যে যায়, এখানে প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫টি লাশ দাফন করা হয়। সপ্তাহে প্রায় ২০০-২৫০টি লাশ দাফন করা হচ্ছে।
এখানে লাশ দাফনের সময় বেশি টাকা নেয়া হয় না। মূলত এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দ্বারা সবকিছু হয়ে থাকে। এখানে বীরশ্রেষ্ঠদের কবর রয়েছে এছাড়া কবি-সাহিত্যিক তো আছেই। সবদিক মিলিয়ে আমার আজিমপুর কবরস্থান ভ্রমণটি খুবই সুন্দর ছিল। আল্লাহর কাছে এটাই চাওয়া, আমি যেন পরকালে জান্নাত পাই।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "আমি তোমাদেরকে প্রথমে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে আমি নির্দেশ দিচ্ছি। কারণ এ কবর জিয়ারত করলে তোমার মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে।"

আজিমপুর কবরস্থান | Ecency