মধুটিলা ইকোপার্ক শেরপুর জেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত।এটি জামালপুর শহর থেকে 50 কিলোমিটার দূরে এবং শেরপুর শহর থেকে 30 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আমরা আমাদের পড়াশুনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ময়মনসিংহ - শেরপুর এসব অঞ্চলে দেখা যায়, যেগুলো টিলা নামে পরিচিত। এই মধুপুরের পাহাড় গুলো টিলা নামে পরিচিত। এটি একেবারে ভারতের সীমান্তবর্তী। তবে এখানের পাহাড় গুলো বাংলাদেশের অবস্থিত। কিছুটা ভারতীয় রয়েছে। এখানে অনেক বন জঙ্গল রয়েছে।আমরা যে বলে থাকি ,বাংলাদেশের 16 ভাগ বন জঙ্গল রয়েছে, এখানে গেলে আপনারা বুঝতে পারবেন ,এগুলোই হল আসল বন জঙ্গল। মধুটিলা ইকোপার্ক এক আলাদা আনন্দের পর্যটন কেন্দ্র।
এখানে রয়েছে নিঝুম দ্বীপের মতো রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়। পাশেই আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুড়া পাহাড়। মধুটিলা জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় গহিন অরণ্যের গাছ কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে সমশচূড়ায় মধুটিলা ইকোপার্ক। পাশাপাশি এখানে রিসোর্টে ব্যবস্থা রয়েছে এবং উপজাতিদের বসবাস রয়েছে।উপজাতিদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হলো এই মধুটিলা ইকোপার্ক। তারা এখানে বিভিন্ন জিনিস পত্র বিক্রি করে। তারা এসময় তেতুল এবং বড়ই বিক্রি করে। যেটি তারা বন জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে। পাশাপাশি ঝাড়ু বানানোর প্রক্রিয়া টা আমরা দেখেছিলাম। এখানে পিকনিক স্পট রয়েছে।জামালপুর শেরপুর ময়মনসিংহ জেলা থেকে বিভিন্ন মানুষ এখানে পিকনিক করতে আসে।
মধুটিলা ইকো পার্কের ভিতরে প্রবেশ করলে আপনারা এরকম কিছু স্থাপনা দেখতে পারবেন। যেমন হাতি, জিরাফ ,বাঘ,সিংহ প্রভৃতি। পাশাপাশি এখানেও একটি ছোট চিড়িয়াখানা রয়েছে। এখানেও একই ব্যবস্থা অর্থাৎ টিকিট। তবে জায়গাটি অসম্ভব সুন্দর। খোলামেলা জায়গা, পাশাপাশি সেদিন একটু গরম ছিল ,যার ফলে আমার খুব ভাল লেগেছিল।
এখানে প্রায় 5-6 টি বড় বড় পাহাড় রয়েছে যেখানে উঠা নামা করা যায়। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়া যায়। তবে সেটা হেঁটে। আমার জন্য পাহাড় ওঠানামা করা খুবই কষ্টকর হচ্ছিল। তাই আমি বেশি দূর এগোয়নি। এখানে দেখুন পাহাড়ে উঠতে সিঁড়ির ব্যবস্থা।এই সিঁড়ি গুলো দেখে আমার শ্রীলংকার বাবা আদম পাহাড়ের কথা মনে পড়ে গেল। সেখানে জিগজাগ পদ্ধতির মাধ্যমে ফারুকী হুজুর উঠার কথা বলেছিলেন। আমিও একইভাবে মধুটিলার পাহাড়ে জিগজাগ পদ্ধতিতে উঠেছিলাম।
জিকজাগ পদ্ধতি হলো খাড়াভাবে সিঁড়িতে না উঠার বদলে একটু কোনাকুনিভাবে সিঁড়িতে উঠা।অর্থাৎ ক্রসিং এর মাধ্যমে হাটা, যাতে করে মনে হবে যে সোজা হাটতেছি। আপনারা এই ছবিগুলোতে দেখুন একেবারে উঁচু প্রায় 10 তলা বিল্ডিং এর মত।
দেখুন সেখানে বিভিন্ন দোকানপাটও বসেছিল। মেলার মত সবকিছু পাওয়া যাচ্ছিল সেখানে। এখানে উপজাতিরা দোকান দিয়েছিল।পাশাপাশি তাদের বানানো বিভিন্ন জিনিস পত্র সেখানে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
এটা হল ওয়াচ টাওয়ার। যেটা আমি সিলেটের রাতারগুল এ দেখেছিলাম। মধুটিলা ইকোপার্কে ও একই দৃশ্য দেখতে পেলাম। এখন আসি আসল কথায়। এই ওয়াচ টাওয়ারে উঠতে ও টিকিট কাটতে হয়। দশ টাকা করে টিকিট। এর উপরে উঠলে এর উপর থেকে পুরো মধুটিলা ইকোপার্ক দেখা যায়। আবার এর উপর থেকে ভারতের বর্ডার ও দেখা যায়।
মধুপুর ইকো টিলার ভিতরে আমি প্রশাসনকে দেখতে পাইনি। মূলত সেখানকার উপজাতি দোকানদাররা, সাধারণ দোকানদার রাই সবকিছু দেখাশোনা করে।পাশাপাশি সেখানে এসব দোকানে বিভিন্ন ছোট খাটো খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।আরেকটি বিষয় হলো, এখানে বোতল এর মাধ্যমে বাজি খেলার একটি দৃশ্য লক্ষিত হয়েছে। যেটা এই মধুটিলা ইকো পার্কের ভিতর প্রায় 5 থেকে 6 জায়গায় চলছিল।
এবার আমার কিছু ছবি। দেখতে পাচ্ছেন আমি পাহাড়ে গিয়েছিলাম। ওই পিছনে যে পাহাড় টা দেখা যাচ্ছে ওটাও কিন্তু বাংলাদেশের এবং মানুষ যাচ্ছিল। কিন্তু আমার এত সময় ছিল না, যার ফলে আমি ওটায় উঠেনি। ওখানেও দোকানপাট দেখা যাচ্ছিল। মধুটিলা ইকোপার্কের সিঁড়িগুলো উঠানামা করতে আমার একটু কষ্ট হচ্ছিল। পাশাপাশি এটা প্রায় অনেক জায়গা জুড়ে অবস্থিত। যার ফলে এখানে হেঁটে আপনারা পুরোটা দর্শন করতে পারবেন না। আমি বাইক এর মাধ্যমে সেখানে গিয়েছিলাম। এখানে প্যাডেল বোটের ব্যবস্থাও ছিল। এখানে প্রবেশের জন্য 20 টাকা করে নেয়া হয়। পাশাপাশি যানবাহন থাকলে ,সেসবের জন্য আলাদা মূল্য রয়েছে।
আজ ছিল এ পর্যন্তই। ভ্রমণ আমার খুব ভালো লাগে। আপনাদের উচিত ভ্রমণ করা। লেখার মাধ্যমে সকল বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে দিনটি খুবই সুন্দর ছিল।