গজনি অবকাশ কেন্দ্র || Gajni Abokash center

Words
619
Reading
3 min
5y

গজনী অবকাশ কেন্দ্র শেরপুর জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে। মধুটিলা থেকে 4- 5 কিলোমিটার দূরে। অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মতো এখানেও একই জিনিস। রিসোর্ট,চিড়িয়াখানা,পার্ক সবকিছু ই রয়েছে। এখানেও মানুষ পিকনিক করতে আসে। এই এলাকাটা অনেক বড়। এখানে হেঁটে ঘোরা সম্ভব নয়, গাড়ি কিনবা মোটরসাইকেল এর মাধ্যমে ঘুরতে হবে।পাশাপাশি এখানে গারোদের দেখা যায়, আমরা জানি, ময়মনসিংহ শেরপুর, জামালপুর জেলায় গারোদের বসবাস।তারা তাদের তৈরি বিভিন্ন জিনিস পাতি এখানে বিক্রি করে। শেরপুর এর মধ্যে গজনী খুবই নামকরা একটি জায়গা। এখানে খুব সহজেই সুন্দরভাবে সারাটা দিন কাটানো যায়।
IMG_20220205_160327.jpg
এটা হল গজনির প্রধান ফটক।এর ভিতর থেকেই গজনীর প্রধান কেন্দ্র শুরু যেখানে টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে। আমি আগেই বলেছি শেরপুরে আসলেই সবকিছুতেই টিকিট,তাই এখানেও ব্যতিক্রম নয়। পাশাপাশি নতুন নতুন বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা আইটেম তৈরী করা হচ্ছে।যাতে করে মানুষ এখানে আসতে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বিশেষ করে যারা চাকুরীজীবী ,এমন কি ঢাকায় থাকে ,তাদের জন্য এই জায়গাটি খুব সুন্দর । কারণ,এখানে আসলেই খুবই সুন্দরভাবে দিন কাটানো যায়।

IMG20220129135942.jpg
তবে এটি হলো গজনীর একেবারে প্রথম গেট। এখানে লেখাই আছে গজনী। গাছপালার উপর ভিত্তি করে ,আমরা বেঁচে আছি গাছপালা আমাদের অক্সিজেন দেয়। এখানে আসলেই বোঝা যায় ,বন কি সুন্দর হয়ে থাকে। এখন দেখুন কিছু গাছপালা।

IMG_20220205_155714.jpg
এসব গাছ কাটলেই আপনাকে মামলার শিকার হতে হবে। এগুলো হল শাল গাছ। ভারতে যেমন তামিলনাড়ু অঞ্চলে চন্দন গাছ কাটা নিষেধ,ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের শেরপুর এর গদনির এই শাল গাছ কাটা নিষেধ। এগুলো কাটলেই পুলিশ আপনাকে ধরবে। দেখুন এই বনগুলো কিন্তু কোনো কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছে না, তবে যদি কেউ কাটে তবেই সে ধরা পড়বে। এছাড়া আশেপাশের সকল গাছ আপনারা কাটতে পারবেন, কিন্তু শাল গাছ কাটলে মামলার শিকার।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এখানে গজারি গাছ,শাল গাছ, সেগুন গাছ রয়েছে।

IMG20220129143109.jpg
এখানে এরকম কিছু ছোট ছোট স্পট তৈরি করা হয়েছে। যেমন এটি হলো ঝুলন্ত ব্রিজ। আমরা জানি,সাজেকে ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে। তাই বলে কি অন্য জায়গায় নেই। গজণিতেও একটি ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে ,এখানে ছবি তোলার জন্য টিকিট কাটতে হয়। এটি অনেক নড়বড়ে ছিল। তবে শক্ত ছেড়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। আমি বিষয়টি খুবই উপভোগ করেছিলাম। এখানে আমি মূলত ছবি তুলেছিলাম।

IMG20220129142723.jpg
পাশাপাশি এই গজনীতে মানুষের তৈরি ডায়নাসোর,জিরাফ এরকম কিছু নিদর্শন ছিল।আমি এই ছবিটি যখন ফেসবুকে আমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি তারা এটি দেখার সাথে সাথে বলে দিচ্ছিল এটা গজনী। বলা চলে গজনীর একটি অন্যতম চিহ্ন হল এই ডায়নাসোর।

IMG20220129143913.jpg
মধু টিলার মতো এখানেও ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে।তবে আমি যেহেতু মধুটিলা ওয়াচ টাওয়ারে উঠেছিলাম। তাই কষ্ট করে,টাকা দিয়ে ,টিকিট কেটে এটার উঠেনি।

IMG20220129145508.jpg
এটার মাধ্যমে লেকের একপাশ‌ থেকে অন্য পাশে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল। মূলত এটার মাধ্যমে লেকের একপাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল ,তবে ফেরত আসার সময় হেটে আসা লাগতো । পাশাপাশি এটা অনেক বিপদজনক ছিল। কেননা আমরা অন্য জায়গায় দেখে থাকি ,সেটায অনেক নিরাপদ ।তার ব্যবস্থা ছিল ,কিন্তু এখানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না ,যদি কেউ নদীতে পড়ে যেত তাহলে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো না।

IMG20220129143204.jpg
এখানে দেখুন টিলা ছিল।মূলত এ টিলার উপরে ঝুলন্ত ব্রিজ এমনকি অন্যান্য অনেক বিষয় তৈরি করা হয়েছিল।
IMG20220129143413.jpg

এটা হল গজনীর চিড়িয়াখানা, যার ভিতর আমি যদিও ঢুকেনি ,তবে বাইরে দেখতে পারছেন একটি জিরাফের স্থাপত্য রয়েছে।

IMG20220129144352.jpg
উপজাতিরা বড়ই, তেঁতুল বিক্রি করে। আমরা এগুলো কিনেছিলাম।তখন তার সাথে কথা বলার সময় জানতে পারি, সে বলে এগুলো নাকি বন থেকে সংগ্রহ করা। এরকম অনেক উপজাতিরা দোকান নিয়ে বসে ছিল।

IMG_20220205_160104.jpg
সবশেষে আমার কিছু ছবি। আমি ছবি তুলতে পছন্দ করি। আমি নতুন নতুন জায়গায় ঘুরতে অনেক পছন্দ। সেসবের স্মৃতি স্বরুপ আমি ছবি তুলে রাখি।

সব মিলিয়ে ‌গজনীর প্রবেশমুখে দেখা যায় মৎস্যকন্যা যার নাম দেয়া হয়েছে জলপরী। এছাড়া আছে ডাইনাসোরের প্রতিকৃতি, ড্রাগন টানেল, দণ্ডায়মান জিরাফ, পদ্ম সিঁড়ি, লেক ভিউ পেন্টাগন, হাতির প্রতিকৃতি, স্মৃতিসৌধ, গারো মা ভিলেজ, কৃত্রিম জলপ্রপাত, কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিফলক অন্যতম। এর মধ্যে গারো মা ভিলেজে লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। তবে আমি এটার ভিতরে ঢুকিনি।কারণ এর ভিতরে নাকি শুধুমাত্র দুই-তিনদিন ছবি রয়েছে।পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু এবং গারোদের নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি করা হচ্ছে।
তো আজ ছিল এই পর্যন্তই। আশাকরি সকলে আমার ব্লগটি পড়বেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

গজনি অবকাশ কেন্দ্র || Gajni Abokash center | Ecency