এত এত নেতিবাচক পরিবর্তনের মাঝে যখন নিজের মধ্যে মাঝে মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পায় তখন অনেকটা স্বর্গসুখের ন্যায় অনুভব হয়। গতকাল এবং আজ, দুটো বিষয়ের সম্মিলিত ভাবনা এই পরিবর্তনটা আমার সামনে তুলে ধরেছে।
গতকাল একজনের একটি লেখা পড়লাম, তারপর বুঝতে পারলাম আমার তেমন করে গান শুনা হয়না অনেকদিন, অনেকদিন নয় অনেক বছর হয়ে গিয়েছে। আগে একটা সময় ছিল যখন বাসায় থাকলেই সারাক্ষণ স্পীকারে গান চালানো থাকতো। গান ছাড়া অংক করা জমতো না আমার, আম্মুর সাথে যে কতবার এটা নিয়ে গোল টেবিল বৈঠকে বসতে হয়েছে তার হিসেব নেই। বাসায় শখানেক ক্যাসেট ছিল শুধুমাত্র এসব অডিও-ভিডিও গানের। ক্যাসেটের পর পিসির হার্ডডিস্ক, আলাদা পার্টিশন করা ছিল শুধুমাত্র গানের জন্য। আর আজ, আমার পিসিতে ভুলেও একখানা গান নেই, হ্যাঁ এটা ঠিক এখন আর কেউ ওইরকমভাবে অফলাইনে গান ডাউনলোড করে রাখে না তাও কিছু পছন্দের গান সংগ্রহে রাখে অনেকে যা আমার মাঝে একদমই নেই। কিন্তু কেন?
কেন এর উওর আমার কাছে নেই, হয়তো এখনের অনলাইন স্ট্রিমিং একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ তবে আমি সেরকম অনলাইন প্লার্টফর্ম গুলোতেও নেই গান শোনার জন্য। একটা সময় আর্টিস্ট ভেদে সবকিছু মুখস্থ ছিল, আর এখন মাঝে মাঝে গুটিকয়েকটা আছে সে গুলোই প্লেলিস্টে বারবার আসে অথবা এলগরিদম তার জাদু দিয়ে কিছু রিকমেন্ড করলে সেটা বাজানো হয়। তবে হ্যাঁ, আগে দৈনিক যতটুকু শোনা হতো এখন পুরো মাসে মিলিয়ে তাও হয়না। আফসোস? মোটেও নেই।
এবার আসি পরিবর্তন এর ব্যাপারে। আগে কোনো ভ্রমণের প্রধান সঙ্গী ছিল আমার ইয়ারফোন এবং ওইযে গুটিকয়েক গানের প্লেলিস্ট খানা। কিন্তু এবার রোজাতে আমি একটা ভালো সিন্ধান্ত নিয়েছিলাম। পুরো কুরআন তেলাওয়াত নিজের ফোনে ডাউনলোড করে রেখেছিলাম। কিছু একটা কারণে তখন এটা করেছিলাম। এরপর থেকে কয়েকবার ট্রেনে কিংবা বাসের দীর্ঘ সফরে গিয়েছি, প্রতিবারই গানের বিপরীতে এবার কুরআন তেলাওয়াত শুনেছি, কি যে প্রশান্তি তা বলে বুঝানো সম্ভব না। মাঝে মাঝে এমনও অনেক হয়েছে যে বাসায় শুয়ে আছি, কিচ্ছু ভালো লাগছে না, ফোন ফ্লাইট মোডে দিয়ে দুই কানে ইয়ারফোন গুজে তেলাওয়াত ছেড়ে দিয়েছি, কেমন যেন সবকিছু নিমিষেই পরিবর্তন হয়ে যেত, এইযে একটু আগের এত এত অশান্তি সবকিছু ভুলে যাওয়া সম্ভব।
এইযে একটা বিশাল পরিবর্তন, আমি নিজে নিজের প্রতি অসম্ভব পরিমাণে কৃতজ্ঞ।