অনেক অনেক আগে, কেউ একজন আমায় একটা উপদেশ দিতে চেয়েছিল, সে বলেছিল, "এভাবে চলতে পারবে না। এখানে কায়দা করে চলতে হবে। নাহলে হোঁচট খেতে খেতে শেষ হয়ে যাবে। " সে সময় তেমন একটা পাত্তা দেয়নি কথাটাকে, এখনও যে আমল করার জন্য ভাবছি সেটা নয়, শুধুমাত্র কেমন যেন মিলে যাচ্ছে সেটাই হঠাৎ মাথায় উদয় হলো। এ বিষয়টা বেশ দারুণ, কোনো একটা বিষয় বর্তমান পরিস্থিতিতে অনর্থক বলে মুহুর্তের মধ্যেই উড়িয়ে দিলেও কোনো একটা সময় এসে সেটাই আবার অবিকল মিলে যায়।
আমার প্রায়শই মনে পড়ে সে ছোট্ট রিকশাচালক ছেলেটার কথা যে মিথ্যা অসহায়ত্বের কথা বলে আমার থেকে বাড়তি টাকা নিয়েছিল, দ্বিতীয়বার যখন একই পন্থা অবলম্বন করতে চেয়েছিলো তখন বুঝতে পেরেছিলাম, সেও এই শহরের কায়দা-কানুন শিখে গিয়েছে।
রেলওয়ের কাউন্টারে গিয়ে আজ পর্যন্ত আমি কখনো টিকেট পায়নি, ব্ল্যাকারদের মহিমা তখনই বোঝা যায় যখন অগ্রিম টিকেট ২ মিনিটেই শেষ কিন্তু যাত্রার ঘন্টাখানেক আগেও স্টেশনে দুগুণ/তিনগুণ দামে তাদের কাছে সেগুলো পাবেন কায়দা করে নিয়েছে, এছাড়া আর উপায় নেই, একদম মূল থেকে উপড়ানো না হলে এসবের থেকে মুক্তি নেই।
হুট করে যখন দেশে একটা পণ্যের মূল্য বেড়ে যায় তখন এর সাথে সম্পৃক্ত কিংবা সম্পৃক্ত নয় সেসবও হুহু করে লাফিয়ে বেড়ে উঠে। ১৫০ টাকার পণ্য পরদিন ১৬০, এর চারদিন পর গিয়ে ১৯০, আমিতো রীতিমতো টাশকি খেয়ে গেলাম, জিজ্ঞেস এর বিপরীতে উওর আসলো, "আনুসাঙিক জিনিসের দাম বেশী, আপনার নেওয়ার হলে নেন নাহলে না।" না নিয়ে উপায় নেই, নিতেই হলো। সবসময় মুনাফায় থাকতে হবে এটাই তাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু এই অধিক মুনাফার দুষ্ট চক্র ঘুরেফিরে আবার তার পিছনেই চিন্তার কারণ হয়ে এসে দাঁড়াবে সে বিষয়ে সন্দিহান, আপাতত নিজের মুনাফার জায়গাটুকু কায়দা করে নিয়েছে।
বিপদে পড়লে অনেক কাছের মানুষও সুযোগ পেয়ে কেটে পড়ে। কথায় নাকি আছে, "চাচা আপন প্রাণ বাঁচা।" এখন আপন প্রাণ বাঁচাবেন ঠিক আছে কিন্তু তার পূর্বে বিপদে সকলের প্রাণ বাঁচাবেন এমন মিথ্যা মাহাত্ম্য দেখাল কেন? ঠিকি তো সুযোগ মতো কায়দা করে বেরিয়ে গিয়েছে।
হ্যাঁ, ভালো খারাপ মিলিয়েই সবাই কায়দা করে বেচে আছে, তাছাড়া তো একের পর এক হোঁচট খেতে হবে। হ্যাঁ, এটা ভিন্ন বিষয় যে একজনের কায়দা করার ফলে অন্যজনকে সেটির ফলাফলস্বরূপ হোঁচট খানা খেতে হয়। তাও সবাই বেচে থাকুক যার যার কায়দা-কানুন নিয়ে।