আমাদের দেশের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে কথা বলতে গেলে শেষ হবেনা। বলেও লাভ নেই, কে শুনবে কার কথা। সবাই যার যার সুযোগ সন্ধানে মহা ব্যস্ত, এমন ব্যস্ত যে ভালো-খারাপ, ন্যায়-অন্যায়ের বিবেক টুকু পর্যন্ত লোপ পেয়ে গেছে। আমি শত ভাগ নিশ্চিত আপনাকে যদি দেশের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে বলতে বলা হয় তাহলে আপনি হাজারটা বিষয় তুলে ধরতে পারবেন। বিষয়টা কি, নেতিবাচক বিষয়গুলো আমাদের সর্বক্ষেত্রে প্রভাবিত করছে, হয় প্রত্যক্ষভাবে কিংবা পরোক্ষভাবে। প্রত্যক্ষভাবে যাপিত বিষয়গুলোর পরই আমাদের কিছুটা টনক নড়ে যে যা হচ্ছে খুব খারাপ হচ্ছে, এইভাবে চলতে পারেনা। কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে পড়ে যে তাতে উপরমহলের কি আসে যায়? কিছুই না, কিন্তু একটা কথা আছে, আমরা যার যার অবস্থান থেকে এগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবো, হোক শারীরিক প্রতিবাদ, হোক মৌখিক কিংবা আত্মিক। হ্যাঁ, নেতিবাচক বিষয়গুলোর বিপক্ষে কিছু করতে না পারি অন্তত আমরা যেন সেগুলো থেকে বিরত থাকি, ধীরে ধীরে তবে একটা পরিবর্তন আসতে পারে।
কেন হঠাৎ এসব পায়চারি?
রিসেন্টলি আমাদের রেল ব্যাবস্থাপনার যে একটা দুর্বিষহ চিত্র উঠে এসেছে এর ক্ষতিকর প্রভাব একমাত্র ভুক্তভোগী যারা তারাই উপলব্ধি করতে পেরেছে। প্রথমেই বলে নেই রেলের চাহিদার তুলনায় সীমিত আসন, আচ্ছা এর দোষ না-ই দিলাম,মেনে নিলাম। যা আছে তাও সঠিক তদারকি নেই, সব টিকিট চলে যাচ্ছে কাউন্টারের বাইরে কালোবাজারিদের হাতে, দুগুণ তিনগুণ টাকা দিয়ে টিকেট নিতে হয় যাদের হাতে আর কোনো উপায় থাকেনা । যেসব কর্মকর্তাদের কাউন্টারে বসিয়ে রেখেছে তাদের হয়তো রেলওয়ে ঠিকমতো বেতন-ভাতা দিচ্ছে এমন একটা অবস্থা। দেশ ডিজিটাল হচ্ছে, আমরা চড়াই-উতরাই পার হয়ে কিছু সুবিধা ভোগ করি। তার মাঝেও যখন গোলযোগ সৃষ্টি হয় তখন আর সহ্য করা সম্ভব হয়ে উঠে না।
আমার চাচাতো বোন, পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকে। শবে-বরাত এর সময় বাড়ি আসে, সমস্যা টা হয়েছে ফেরত যাওয়া নিয়ে, হঠাৎ রেল-মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি আসে যে টিকিটিং এর অনলাইন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালু করার আগে পূর্বের পদ্ধতি বাদ দিয়ে কাউন্টার থেকে শুধু হাতে লিখা ম্যানুয়াল টিকেট দেওয়া হবে। আমার প্রশ্ন হলো, আমাদের নতুন প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ হওয়ার আগেই আমরা আমাদের পূর্বের ব্যবস্থা বর্জন করে ফেলব কেন? ৫/৬ দিন এক বিশাল সময়, মানুষজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকেট নেই, কি এক বিচ্ছিরি অবস্থা, অন্তত যে মানুষগুলো লাইনে দাঁড়িয়ে আছে তাদের ন্যায্য আসনগুলো দিতো, না তারা ওইযে কাউন্টারের বাইরে বিক্রির জন্য যে বড় অংশ পাচার করে দিবে, এবং দিয়েও দিয়েছে, যারা পেরেছে তারা নিয়েছে কয়েকগুণ বেশি দিয়ে কিনছেন।
দুইদিন কাউন্টারে গিয়ে এসেছি, অবস্থা খুবই বাজে, এত্ত এত্ত মানুষ যে তার অর্ধেক ও সেখানে টিকেট পাবেনা খালি হাতে ফেরত যাবে একমাত্র ভেতরে বসা লেকগুলোর অমানবিক কর্মকাণ্ড ও উপর মহলের উদাসীন আচরণের কারণে। বিশ্বাস করেন, আমার যাওয়া ২য় দিন মানুষের অবস্থা ছিল অনেকটা এরকম যে, "টিকেট দেওয়া শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে এসে লাইনে দাড়িয়েছে, সে টিকেট পাবে কিন্তু অনেকেই পাবেনা। হয়তো আমি অবস্থার আচ করতে পেরে লাইনে দাড়ায়নি কিন্তু তাওতো আমার একটা সময় নষ্ট হয়েছে এবং খালি হাতে ফিরে এসেছি, এগুলো কোনো মূল্য নেই। আমার প্রশ্ন হল আমি আমার ন্যায্য টাকা দিয়ে একটি ৩ ঘন্টার জার্নির জন্য আরো তিন ঘন্টা দাঁড়িয়ে কষ্ট করবো কেন? যারা বাস,বা গাড়িতে যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনা, কিংবা সড়ক পথের এত এত দুর্ঘটনায় ভিত তারা সচরাচর রেল পথকে বেছে নিয়ে থাকে।অবশেষে একরকম বাধ্য হয়ে জোড় পূর্বক বাসে পাঠিয়েছে।
অনলাইনে আগে টিকেট কাটতাম, ৫ দিন আগেই কেটে রাখতাম, তাও একদম শুরু থেকে শেষ স্টেশন অবধি কাটতাম নয়তো পর্যাপ্ত আসন নেই, সমস্যা নেই অন্তত একটা আসন পেয়েছি এবং টাকাটা সরকারি খাতে ব্যয় করলাম, আমার আগের স্টেশন গুলোতে হয়তো অন্যকেউ বসে আসবে সে আসনে, কারো একটু উপকারও করা হলো। তাই প্রায়ই রেলকে বেছে নিতাম আর অনলাইনে টিকেট কাটতাম। এখন আসি রেলের নতুন পদ্ধতি নিয়ে, ২৬ তারিখ থেকে ওয়েবসাইট সচল হওয়ার কথা কিন্তু আজকে ২৭ এখনো কোনো খবর নেই, কিসের কি ওয়েবসাইট তারাই যানে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম সহজ নাকি তাদের কয়েক বছর পূর্বের ওয়েবসাইট দিয়েই কাজ চালানোর ব্যবস্থা করেছে, এতোই উদাসীন যে, পূর্বের স্ক্রিপ্টে বাসের অনেক কোড এখন নাকি খোঁজে বের করা যাচ্ছে রেলের ওয়েবসাইটে। এছাড়া ওনাদের সফটওয়্যার কার্যক্রম শেষ করতে নাকি দেড় বছর সময় লাগবে, তো রেলওয়ে কি আগে থেকে এসব বিষয় দেখেনি? আগের প্রতিষ্ঠানের তো ওয়েব+সফটওয়্যার সচল ছিল, তাহলে কেন আমরা অচল ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি?
কালোবাজারি দূর করার জন্য বছরখানেক আগে এক কর্মকর্তা বেশকিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার প্রস্তাব ছিল যে, টিকিটের মধ্যে ক্রেতার এনআইডি/জন্ম নিবন্ধন এর তথ্য থাকবে এবং টিটি সাহেব টিকিটের সাথে এনআইডি তথ্য ক্রসচেক করে মিলিয়ে নিবেন, না মিললে জরিমানা তাহলেই আর কেউ কালোবাজারিদের থেকে টিকেট নিবেনা এবং পরিবর্তন আসবে, পরিবর্তন এসেছে, ব্যবস্থাপনায় নয়, বরং ওই প্রস্তাব প্রদান কারি কর্মকর্তার। এভাবেই চলছে সবকিছু, কাকে মেরে কে খাবে এই প্রতিযোগিতা, এর মাঝে সাধারণ জনগণ পিষে মরছে।