হঠাৎ এক রাতে

mdmunna(46)
Published in
#love
Words
873
Reading
4 min
Listen
Play
9y

রাস্তা যেন শেষ হচ্ছে না, হাটছি তো হাটছিই। খুব খিদে পেয়েছে কিন্তু কি যে করি টাকা নেই তো। হঠাৎ একটা ছেলেকে লক্ষ করলাম, কিভাবে যেন দেখছে আমাকে , নাহ্ খুব একটা সুবিধার মনে হচ্ছে না। জোরে জোরে হেটে বেশ অনেক দুরেই চলে এসেছি। নিচের দিকে তাঁকিয়ে হাটছি, অবশ্য এটা তো হওয়ারই কথা ছিলো, যার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তার রাস্তা কিভাবে শেষ হবে। হাটতে হাটতে মোটামুটি বড় একটা ধাক্কা খেলাম। মাটিতে পরে যাই। একটা হাত আমার দিকে এগিয়ে আসে, চেহারাটা অন্ধকারে তাই বোঝা যাচ্ছে ন। তার মুখে উচ্চারিত হচ্ছে " দুঃখিত আমি বুঝতে পারি নি,আপনার লাগে নি তো! উঠে আসুন "
বাহ্ কণ্ঠটা অসাধারণ, এই কণ্ঠে একটা গান হলে নেহাত মন্দ হতো না। এসব ভাবতে ভাবতেই তার হাত ধরে উঠে গেলাম
: কোথায় যাচ্ছেন এত রাতে?
: জানিনা
: মানে? আরে এত রাতে এভাবে আপনি একা একটা মেয়ে রাস্তায় ঘুরবেন না। বাসায় ফিরে যান।
: আমার বাসা নেই,আর আপনাকে ভাবতে হবে না আপনি যেখানে যাচ্ছেন যান।
: এতরাতে এভাবে একটা মেয়েকে একা ফেলে যাওয়ার শিক্ষা পাই নি,
: ও তাহলে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে যাওয়ার শিক্ষা পাইছেন?
: হা হা
: আমি কি সার্কাসের জোকার?
: আমি কিভাবে বলব? আমি তো চিনি না আপনাকে! হতেও পারেন।
: উফফ যান তো, মেজাজ খারাপ কইরেন না,
: আমি জানিনা আপনি কে, কিন্তু বুঝতে পারছি আপনি কোনো সমস্যায় আছেন।
: উদ্ধার করছেন, যান এখন।
: দেখেন আপনি আমাকে আপনার সমস্যাটা বলতে পারেন
: কোনো দরকার নাই, দৌড়ের উপর থাকেন আর ভাগেন।
: আচ্ছা
ছেলেটা হাটা শুরু করলো, আরে আরে চলে যাচ্ছে তো! দৌড়ে গিয়ে পিছন থেকে ছেলেটার শার্ট টেনে ধরলাম
: লজ্জা করে না? এত রাতে একটা মেয়েকে এভাবে একা ফেলে যেতে?
: আজব আমি তো আপনাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। আপনিই তো
: কি আমিই তো? কি আমিই তো? (ধমক দিয়ে)
: না কিছু না, আমার বাড়িতে যাবেন?
: সে পরে দেখা যাবে, এখন আমার খুদা লাগছে।
: আমার বাড়িতে রান্না হয়।
: আচ্ছা শুনেন।
: জ্বী বলেন,
: আমাকে হ্যাংলা ভাববেন না, নেহাত অনেক খুদা লাগছে আর যাওয়ার কোনো জায়গা নাই, তাই।
: আজব, আমি কখন বললাম আপনি হ্যাংলা?
: বলতেই পারেন অস্বাভাবিক কিছু না।
: আপনি বেশি কথা বলেন,
: সেটা তো আমি জানি, আচ্ছা একটা কথা বলব?
: হ্যাঁ বলেন,
: আপনার কণ্ঠটা চরম। একটা গান শুনাবেন?
: আমার বাড়ি চলে আসছে, চলেন।
দরজা হাট করে খোলা, দেখেই বোঝা যাচ্ছে বাড়িতে কোনো এক অনুষ্ঠান, ঘরে প্রবেশ করার সাথে সাথে সবার চোখ আমার দিকে, কয়েকটা মেয়ে এসে ছেলেটাকে জিজ্ঞেসা করলো " ভাইয়া মেয়েটা কে? তুই কোথায় ছিলি? তারাতারি যা গায়ে হলুদের সময় হয়ে গেছে " ছেলেটা আমার হাত ধরে পা বাড়াবে তখনই পিছন থেকে ডাক এলো " মেঘ কোথায় ছিলে? তুমি জানো না আজ সন্ধ্যায় তোমার গায়ে হলুদ ছিলো?
: বাবা ঐ, আমি একটু
: ঠিক আছে আর বলতে হবে না, মেয়েটা কে?
: বাবা ওকে আমি রাস্তায় পেয়েছি, একা একটা মেয়ে তাই.
: হুম বুঝতে পেরেছি, যাও ঘরে গিয়ে তৈরী হও, এখন হবে গায়ে হলুদ। বৃষ্টি মেয়েটাকে ঘরে নিয়ে যাও আর তৈরী করো, অনুষ্টানের সময় যখন এসেছে। ওর সম্পর্কে বাকিটা পরে জানা যাবে।
বুঝতে আর কোনো সমস্যা হলো না ঐ ছেলেটার নাম মেঘ আর ঐ ছেলেটার বিয়ে, কিন্তু সব কিছুর মধ্যে আমার ভালোলাগছে না, মেঘ ছেলেটার বিয়ে মানতে পারছি না, যাইহোক গায়ে হলুদ শেষ হওয়ার আগেই মেঘের বাবার কাছে একটা ফোন আসে আর তিনি যেন থমকে গেলেন, উচ্চস্বরে অনেক উত্তেজিত হয়ে বললেন " বন্ধ করো সব, এই বিয়ে হচ্ছে না, মেয়ে পালিয়ে গেছে " সবার আনন্দ মাখা মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাসে হয়ে গেলো, সবাই যার যার ঘরে যাচ্ছে আর মেঘের বাবা অনেকটা কষ্ট মাখা মুখ নিয়ে ওখানেই বসে পরলো। বৃষ্টি আপু আমার হাত টেনে নিয়ে গেলো,
: আচ্ছা আপু, কাহিনীটা কি হলো?
: নীলা পালিয়ে গেছে।
: নীলা?
: যার সাথে মেঘের বিয়ে ঠিক হইছে, বরিশাল বাসা।
বৃষ্টি আপু সব বলল, আর আমিও বুঝতে পারলাম ঐ পালিয়ে যাওয়া পাত্রী আমি। নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগছিলো, বিশেষ করে মেঘের বাবার মুখটা যখন মনে পরে।
: আচ্ছা আপু মেঘ কোথায়?
: সাদের দিকে গেলো, কি যে হবে ১ দিন পর বিয়ে আর পাত্রী নাই।
: আপু আমাকে একটু সাদের সিড়িটা দেখিয়ে দিবে?
: হুম চলো,
আমাকে সাদের সিড়ি দেখিয়ে দিয়ে, বৃষ্টি আপু চলে গেলো, আস্তে আস্তে সাদে গেলাম, এক কোনায় দাড়িয়ে আছে মেঘ
: মেঘ?
: আরে আপনি? কি খবর?
: আমি নীলা,
: তাই? দেখছেন আপনারে আনলাম আর আপনার নামটাই জিজ্ঞাসা করা হয় নাই,
: নিচে চলুন,
মেঘের হাত টানতে টানতে নিচে নিয়ে গেলাম, আর বৃষ্টি আপুকে বললাম বাসার সবাইকে ডাকতে, সবাই এলো। মাঝরাতে একটা মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঢুকলো আপনাদের বাসার ছেলে, সেই ছেলে যার সন্ধ্যায় গায়ে হলুদ ছিলো। আপনারা মেয়েটার সম্পর্কে অন্য কিছু তো দূর মেয়েটার নামও জানতে চাইলেন না? ( মেঘের বাবার দিকে তাকিয়ে)
: শোনো মা, আমরা সবাই মেঘকে বিশ্বাস করি। ও যখন তোমাকে এনেছে তখন তোমাকে অবিশ্বাস করার মত কিছু নেই।
: ওহ, আপনি জানেন? আপনার মেঘও কিছু না জেনেই নিয়ে আসছে? এমনকি নামটাও না!
: হয়তো ও প্রয়োজন মনে করে নি।
: আমি কিছু কথা বলব, আমি নীলা, হ্যাঁ ঐ নীলা যে পালিয়ে গিয়েছে। আমি জানি আপনাদের মনে প্রশ্ন ছবিতে যে মেয়ে দেখেছেন সে কে! ওটা তো আমি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে, পাঠিয়ে দিয়েছিলাম, আসলে এখন আমার বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা ছিলো না। তবে পাত্রী পালিয়ে যাওয়ার কথা শুনে আপনাদের অবস্থা দেখে আমার অনুতাপ হয়েছে, আপনারা চাইলে আমি এখন বিয়ে করতে রাজি।
তারপর? তারপর আর কি! বিয়ে হলো, শুধু যে বিয়েটা আমাদের বাড়িতে থেকে হওয়ার কথা ছিলো সেটা এখানে হলো।