আপনি যদি সমুদ্রবিলাসী হন, তাহলে গোপালপুরের শান্ত সমুদ্র ভাল লাগবে নিশ্চয়ই। আর নির্জনতায় ভরপুর এই সৈকত সবার জন্যই আকর্ষণীয়।ওডিশার গোপালপুর সমুদ্রসৈকতবাঙালি পর্যটকদের পছন্দের উইকএন্ড ডেস্টিনেশনের মধ্যে বরাবরই থাকে পড়শি রাজ্যের মুগ্ধ করা জায়গাগুলো। সে রকমই আগামী সপ্তাহান্তের কোনও ছুটিতে ওডিশার গোপালপুর হতে পারে আপনার বেড়ানোর ঠিকানা।শুধু গোপালপুর ঘুরে আসার বদলে হাতে সময় নিয়ে দেখে আসতে পারেন,তপ্তপানি, চিল্কা লেক ইত্যাদি।ওডিশার বিভিন্ন সি-বিচগুলোর মধ্যে গোপালপুরের সমুদ্রসৈকতে সকলে আসেন নিরিবিলির খোঁজে। সমুদ্রের ধারের বালিয়াড়ির অন্যতম আকর্ষণ বিশাল লাইটহাউস। যার উপর থেকে সমুদ্রের ৩৬০ ডিগ্রি ‘ভিউ’ পাওয়া যায়। ভাল করে খেয়াল করলে চিল্কার একটা অংশও দেখা যায় এই লাইটহাউসের উপর থেকে। বিকেলের দিকে ঘণ্টাদুয়েকের জন্য পর্যটকদের জন্য খোলা রাখা হয় লাইটহাউস। ওডিশার পর্যটন উন্নয়ন দফতরের রক্ষণাবেক্ষণে বহাল তবিয়তে রয়েছে প্রাচীন এই লাইটহাউস। হাতে যদি ক্যামেরা থাকে, গোপালপুর সি-বিচের দুর্দান্ত সব ছবি পাওয়া সম্ভব এখান থেকে। প্রায় দেড়শোর বেশি সিঁড়ি ভেঙেউঠতে হবে, এই যা!গোপালপুর বিচের আরেকটা বড় সুবিধা হল, এখানে সমুদ্রতটের একেবারে গা ঘেঁষে থাকার বন্দোবস্ত রয়েছে। মনে হবে, যেন হোটেল থেকে দু’কদম এগোলেই নোনাজল বালি ভেদ করে এসে পায়ে ঠেকবে! গোপালপুর পোর্ট, ডলফিন পয়েন্ট, হিলটপের মতো জায়গাগুলো একটা অটো বা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে দেখে নিতে পারেন। গোপালকৃষ্ণ মন্দির, কাজুবাদাম তৈরির কারখানাও দেখে নিন। অনেকের মতে, এই মন্দিরের নাম থেকেই জায়গাটার নাম রাখা হয়েছিল। যদি গাড়ি নিয়ে যান, নিজেরা ঘুরে আসুন রুশিকুল্যা নদীর মোহনা কিংবা চন্দ্রগিরি পাহাড়। আশপাশের জায়গাগুলো আগে থেকে বাছাই করে, গাড়ির সঙ্গে কথা বলে প্যাকেজ ট্যুরের বন্দোবস্ত করে রাখতে পারেন। গোপালপুরের ব্যাকওয়াটারসফরও মন্দ নয়। খাঁড়ির মধ্যে দিয়ে নৌ-ভ্রমণ!বেশি ঘোরাঘুরি না করে শুধুই যাঁরা সমুদ্রের মুখোমুখি বসে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চান, তাঁরা বেছে নিন বিচের উপরের সি-ফেসিং কোনও রুম। তারপর শুধু বঙ্গোপসাগর আর আপনি! আর মাঝে মাঝে মৎস্যজীবীদের আনাগোনা। পূর্ণিমার সময়ে গেলে রাতের সমুদ্র অপার্থিব! এমনিতেও সমুদ্রের বুকে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত কিছুতেই মিস্ করবেন না। সপরিবার যান কিংবা বন্ধুদের নিয়ে, গোপালপুর সফর আপনার মন জুড়িয়ে দেবে, সেটা নিশ্চিত!কীভাবে যাবেন:****************হাওড়া থেকে বেরহামপুর যাওয়ার কোনও ট্রেন ধরুন। চেন্নাই মেল-সহ অনেক ট্রেনই পাবেন। গাড়িতে গেলে হাতে একটা গোটা বেলা সময় নিয়ে বেরোন। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। বিমানে ভুবনেশ্বর থেকে বেরহামপুর হয়েও যাওয়া যায় গোপালপুরে।কোথায় থাকবেন: ওডিশা পর্যটন দফতরের পান্থনিবাসে থাকতে পারেন। এছাড়া বেসরকারি অনেক হোটেলও রয়েছে। বেশিরভাগ সময়েই পর্যটকদের ভিড়ের চাপ তেমন থাকেনা এখানে, তাই গিয়ে বুকিং পেতে অসুবিধে হবে না।
This content got low rating by people.