বরিশাল এর মেয়ে , নদী বাদে সমুদ্র আমাকে খুব বেশী একটা টানেনা ।সমুদ্র দেখতে যাইনি , বলতে গেলে আবার সুযোগও হয়নি। গ্রামের বাড়ি ঘুরতে গেলে বাড়ির পাশেই পেতাম আরিয়ালখা নদী আর এক পাশে জয়ন্তী নদী ।সমুদ্রে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা আমার হয়নি ।
গ্রামের নদীর পারগুলোতে ছোট ছোট ঘর থাকে , প্রতিবার গিয়ে দেখতাম (সাধারণত এক বছর পার হয়ে যেতো) আগের যেই ঘর সেই ঘর আর এখন নেই । প্রতিবার নতুন নতুন ঘর দেখে অবাক হতাম ! বড় হয়ে বুঝলাম নদী ভাঙ্গনের কারণে নতুন নতুন ঘর দেখতাম , আসলে নতুন ঘর না , পুরাতন বাড়ি নদীতে ভেঙে যাওয়ার ফলে নদীর পাড়ে নতুন বাড়ি এসে পরতো ।
ছোট থেকেই নদী বিলাস আমাকে খুব টানে , আর এই জন্যেই সুযোগ থাকার সত্ত্বেও সমুদ্র বিলাসে যাইনি । পড়ালেখার খাতিরে থাকছি উত্তরবঙ্গে , একবারে পদ্মার পাড়ে ! নদী বিলাস করেই কূল পাইনা , সমুদ্র বিলাস আবার কখন করবো !
এবার বন্ধ পেলাম এক মাস , পারিবারিক যোগসূত্রে গেছিলাম সমুদ্র দেখতে । মাঝে মাঝে সমুদ্র নিয়ে লেখা পড়তাম , দূর থেকে ঘিঞ্জি ঘিঞ্জি হোটেল দেখা যেতো এমন ! লেখার সাথে মিলিয়ে মিলিয়ে দেখলাম সমুদ্র আসলেই অমন !
নদী সর্বদা হাতের নাগালে পেয়েছি বিধায় পাহাড় আমাকে আকৃষ্ট করতো , সেদিন বুঝেছিলাম পাহাড় বাদে সমুদ্রও যে আমাকে আকৃষ্ট করবে তা বুঝে গেলাম , সমুদ্রের স্রোতে অজানা এক বিষাদ পেয়েছি , যা মনের সাথে মিলে গেছে ...বিষাদ সঙ্গ করে হয়েছিলো আমার প্রথম সমুদ্র বিলাস ....পাহাড়ে একাকিত্ব আছে , সমুদ্রে বিষাদ আছে , প্রকৃতি আসলেই মনোমুগ্ধকর !
হুমায়ুন আহমেদ আমার কল্পনার জগৎকে জাগিয়ে তুলেন , কিন্তু সমুদ্র বিলাসে তিনি সেটা পারেননি , অবিবাহিত তাই হয়তো ...! তবে সমুদ্রই পেরেছে আমার সমুদ্র বিলাসকে জাগিয়ে তুলতে !
লেখাটি পড়বার জন্য ধন্যবাদ, আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি, আশা করছি সবাই ভালো থাকবেন।