একটি ক্রসফায়ারের আত্মকাহিনী

Words
381
Reading
2 min
Listen
Play
8y

সম্ভবত ক্রসফায়ারের আগ মুহূর্তে উনি বুঝে গিয়েছিলেন দেখে বাসা থেকে আসা ফোনটি তিনি কাটেনি

বা, তিনিই ফোন করে মোবাইলটা অন করে নিজের পকেটে রেখেছিলেন

স্পষ্ট সব শোনা যাচ্ছে

পিস্তল লোডের শব্দ... ট্রিগার চাপার শব্দ

তার গোঙ্গানির শব্দ

‘আব্বা কথা বলো, আব্বা কথা বলো’ চিৎকার

ক্লিপের শেষের দিকে বাহিনীর একজন বলছে লাশের পাশে ২ টা এলএমজি রাখ আর কিছু গুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখ

ওদিকে ফোনে তার মেয়ে চিৎকার করেই যাচ্ছে “আব্বা ঠিক আছো, তুমি কান্না করতেস যে! আব্বা ঠিক আছো?”

সারা রাত ঘুমাতে পারিনি... কাল যখন চিটাগাং এর এই ক্লিপটা শুনছি তখন চিটাগাং-বুলে সবাই হৈচৈ করে সেহেরী নাইট পালন করছি আমরা কয়েকজন

আমার দুই মেয়ে বাসায় শান্তিতে ঘুমাচ্ছে

বাসায় এসে এক ফোটা ঘুমাতে পারিনি

আমি এই হত্যার বিচার চাই... এখন বলতে ইচ্ছে করছে সে যদি আসলে অপরাধীও হয়ে থাকে তাহলেও এভাবে কাউকে কেন হত্যা করা হবে?

জেলে বিচারের পর যে জল্লাদ হত্যার কাজটা সম্পাদন করে সেও একজন খুনি দেখেই সেটা তাকে করতে দেয়া হয়। একটা এক্সিকিউশান করলে তার সাজা কিছুটা কমে কিন্তু সে কিন্তু জেল থেকে বের হতে পারে না

আজ পর্যন্ত তো শুনিনি কেউ কাউকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, ‘মিট মাই মামা, জল্লাদ ছিলেন’

সে যত বড় খুনিরই এক্সিকিউশান পরিচালনা করুক না কেন, সে জেল হতে বের হতে পারবে না

কারণ সে খুনি... তাকে সমাজের বাইরে আলাদা থাকতেই হবে

আর এই সকল ক্রসফায়ারের খুনিরা আমাদের আশেপাশে ঘুরছে... সরকারী ড্রেস পরে... সরকারী পিস্তল কোমরে নিয়ে

যাদের আবার কিনা কোন জবাবদিহিতা নেই

আমি তো নিজেকে সেইফ মনে করছি না

পজিটিভ লিখতে লিখতে আমি ক্লান্ত... আমি আসলেই কোন ভাবেই সেইফ ফিল করছি না

“আমরা এই হত্যাকাণ্ডগুলোর সুষ্ঠ বিচার চাই”

খেলায় আর্জেন্টিনার পতাকা কেন ছাদে উড়ানো হবে সেটার মতো একটা ফাউল ইস্যু নিয়ে কোর্টে উকিলরা অতি উৎসাহী হয়ে মামলা করতে পারলে কেউ কেন এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলা করছে না

কেন সেই বাহিনীর ডিজিকে কোর্ট তলব করে নিচ্ছে না?

এতটা ব্যাকবোনলেস হয়ে গেছি আমরা?

তারা ড্রাগ নির্মূলের নামে যা করছে তা হাস্যকর বলতে দ্বিধা নেই... দ্বিধা থাকতো না যদিনা শুনতাম কাল ইয়াবার গডফাদার বডি ওমরাহ্‌ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি চলে যেতে পারেনি

সাফা মারওয়া পাহাড়ের মাঝে যে দৌড় দিতে হয় তার থেকেও দ্বিগুণ বেগে দৌড়ে সে এয়ারপোর্ট দিয়ে পালিয়েছে

থামানোর কেউ নেই

‘ড্রাগ ডিলার’ কমাও কমাও বলতে আমরা কিছু ‘ব্লাড ডিলার’ তৈরি করছি

যারা আমাদের আশেপাশেই ঘুরছে... সরকারী ড্রেস পরে... সরকারী পিস্তল কোমরে নিয়ে

যাদের আবার কিনা কোন জবাবদিহিতা নেই

আমি তো কোনভাবেই নিজেকে সেইফ মনে করছি না

একটি ক্রসফায়ারের আত্মকাহিনী | Ecency