ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ।ঈদ বয়ে আনুক সবার জীবনে অনাবিল সুখ। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব গুলোর মধ্যে দুই ঈদ অন্যতম। দুই ঈদের মধ্যে আবার ঈদুল আযহা বেশি উত্তেজনাপূর্ণ। করণ এই ঈদের বাড়তি সংযোজন হলো কোরবানি। সারাদেশে সকল মুসলিম পরিবারে এই ঈদ অনেক আনন্দ ও উৎসবের সহিত পালিত হয়। ধনী-গরীব থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য এই ঈদ সমহারে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী।
ঈদের দিন সবাই খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে। এরপর মহিলারা খাবার রান্না করে। এদিন প্রায় সকল বাড়িতেই মিষ্টান্ন রান্না হয়। সেমাই, পায়েস, সুজি ইত্যাদি মিষ্টান্ন তো থাকেই। এছাড়াও পোলাও নুডুলস সহ আরও ঝাল জাতীয় আইটেম তো থাকেই। এসব খাবার খেয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যগণ নতুন কাপড় বিশেষ করে পাঞ্জাবি-পায়জামা পড়ে ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়তে যায়। নামাজ শেষে সবাই একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এদিন সকলেই শত্রু মিত্র ভেদাভেদ ভুলে সবাই একে অপরকে আপন করে নেয়। নামাজ শেষে সবাই বাড়িতে এসে নিজ নিজ কুরবানীর পশু নিয়ে কুরবানীর উদ্দেশ্যে ময়দানে যায়। এরপর একটা নির্দিষ্ট সমাজের সকল মানুষ তাদের নিজ নিজ কোরবানির পশু কুরবানী করে। কোরবানির এই পশুর মাংস তিন ভাগে ভাগ করা হয়। একভাগ নিজের জন্য,একভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং অপর ভাগ গরীব মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়া হয়। সকল রীতি-রেওয়াজ মেনে মাংস বিতরণ শেষে সবাই যে যার মাংস নিয়ে রান্না করে। বিকেলে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই যে যার মত ঘুরতে বেরোয়। কেউ আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে যাই,কেউবা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠে, আবার কেউবা সারাদিনের পরিশ্রম থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য ঘুমের মাধ্যমে নিজেকে একটু জিরিয়ে নেয়। এভাবেই কেটে যায় ঈদ উৎসব।
ঈদ মুসলমানদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়, এছাড়াও উদারতার ও শিক্ষা দিয়ে থাকে। একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখায়। ঈদের এই শিক্ষা একদিনের নয়। বরং একদিনের গ্রহণ করার শিক্ষা নিয়ে সারা বছর যাতে উদার মন মানসিকতা নিয়েই
চলা যায় তাই শিক্ষা দিয়ে থাকে এই ঈদ।