ভালবাসার গল্প

Words
1005
Reading
5 min
7y

ফাহিম বিকেলবেলা ঘরের মধ্যে
শুয়ে আছে। ফাহিমকে শুয়ে থাকতে
দেখে বলল
-কিরে এই বিকেলে ঘরের ভেতরে
শুয়ে আছিস কেন? একটু বাইরে
গেলেও তো পারিস।
-মা বিরক্ত করো না। বাইরে যেতে
আমার ভাল লাগে না।
-দেখ। দুর্ঘটনা অনেকের জিবনে
আসে।তাই বলে কি সেটা মনে
রেখে পরে থাকলে জিবন চলে?
-রিয়ার সাথে দেখা হওয়া থেকে
প্রেম পর্যন্ত কোনটাকে দুর্ঘটনা
বলবে?আর ছেড়ে যাওয়াকে কি
দুর্ঘটনা বলবে?
-দেখ। রিয়া যদি অন্য কাউকে
ভালবেসে তার হাত ধরে চলে যায়।
সেটা তো তার বেপার। জোড় করে
কি ভালবাসা হয়?
-সেই জন্যই তো প্রেম ভালবাসা
থেকে দুরে থাকি।
-দুরে থাকিস। এখন ছাদে গিয়ে ঘুরে
আয়।ভাল লাগবে।
.
গিটার হাতে ছাদে চলে আসলো।
এটা ফাহিমের বাবার অফিসের
বসের বাসা।এই বাসায় কাউকে
ভাড়া দেয় না।ইভার বাবার বলাতে
ফাহিমরা এই বাসায় এসেছে।
.
দুই
.
ইভা অনেকদিন ছাদে আসে না।
মায়ের সাথে আগে আসতো। মায়ের
মারা যাওয়ার পরে আর আসা হয় না।
মা বলতো
-তোর যখন মন খারাপ ছাদে খোলা
আকাশের নিচে দাড়িয়ে থালকে
মন ভাল হয়ে যাবে। মা মরার পরে
চার মাসে মন খারাপ থাকলেও
ছাদে আসে নি।
.
ছাদে একটা ছেলে বসে গিটার
বাজাচ্ছে। তাও আবার ইভার যেটা
প্রিয় জায়গা সেই জায়গায় বসে।
ইভা রেগে বলল
-এই যে... এই যে শুনছেন.....
-বলুন।
-আপনাকে তো চিনলাম না। এখানে
বসে আছেন কেন?
-আমাকে চিনবেন কিভাবে?আমার
সাথে আপনার পরিচয় হয়েছে?নাকি
আপনার সাথে?
-পরিচয় হলে তো চিনতাম।
-আমি ফাহিম।
-তো আপনি ফাহিম আর যেই হন না
কেন?তাতে আমার কিছুনা।এখানে
এসেছেন কেন সেটা বলুন।
-দেখতেই তো পারছেন এখানে কেন
এসেছি।
-এখানে আর আসবেন না। আর এখানে
বসবেন না।
-আপনার কথা আমার শুনতে হবে
নাকি?
-আমাদের বাসায় আমার কথা শুনতে
হবে।
-আপনাদের বাসা তাই কি আপনার
কথা শুনতে হবে? আর আসবো না
ছাদে। থাকুন আপনার ছাদে।
.
মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল।
মায়ের কথামত ছাদে গিয়ে একটা
মেয়ের কাছে ঝাড়ি শুনতে হল। হোক
তার বাবার অফিসের বস।তাই বলে
কি এভাবে ঝাড়ি মারবে?
.
তিন
.
ইভা আজকে বিকেলে আবার ছাদে
এসেছে। আজকে আর ছেলেটাকে
দেখা যাচ্ছে না।ছেলেটার উপরে
রাগ করা ঠিক হয় নি।
.
ফাহিম একবার ভাবলো ছাদে যাবে
না। আবার ভাবলো "একটা মেয়ের
কথার জন্য ছাদে যাওয়া যাবে না।
সেটা কোন কথা নেই।
.
ফাহিম ছাদে এসে মেয়েটিকে
দেখলো। তার মনে মনে পরিকল্পনা
"আজকে যদি মেয়েটা কিছু বলে
তাহলে। আজকে আমিও গরম ঝাড়বো "
.
ফাহিম ছাদে এসে সেই কালকের
জায়গায় বসলো। কিন্তু মেয়েটি
কিছু বলছে না।তাই গিটার হাতে
নিয়ে বাজাতে শুরু করলো।
.
একটু পরে মেয়েটি এসে বলল
-কালকের ব্যাবহারের জন্য কিছু মনে
করেন নি তো?
-মনে করলে তো আজকে ছাদে
আসতাম না।
-আপনার কি ফুল প্রিয়?সেই কারনে
ছাদে আসেন?
-ফুল তো সবারই প্রিয়।যার ফুল প্রিয়
না তার মন নেই।
-আর গিটার?
-গিটার ও প্রিয়। আর সুখ দুঃখের
সাথি।
-আমারও গিটার ফুল দুইটাই প্রিয়।
-তাই নাকি!
-আমাকে গিটার বাজিয়ে একটা
গান শুনাবেন?
-আপনাকে আমি গান শুনাতে যাবো
কেন?
-যদি বন্ধু হয়ে বলি তাহলে?
-বন্ধু হিসেবে বললে তো আর না করা
যায় না।
-তাহলে বন্ধু ভেবেই গান শুনান।
-তাহলে বন্ধুত্তে কোন আপনি নয়।
ওকে?
-ওকে।
.
চার
.
ইভার বাবা ফাহিমদের বাসার
গেস্ট রুমে বসে আছে। একটু পরে
ফাহিমের মা আসলো।ফাহিমের মা
বলল
-কেমন আছেন? আমাদের বাসায় কি
মনে করে?
-ইভা কি আপনাদের বাসায়
এসেছে?
-হ্যা। ও তো আমাদের বাসায়
দেখলাম। ডেকে দিবো?
-নাহ। ডাকতে হবে না। জানেন
ভাবি চার মাস আগে ইভার মা
মারা গেছে।তারপরে চার মাসের
মধ্যে ইভা কারো সাথে তেমন কথা
বলতো না। কিন্তু ফাহিমের সাথে
পরিচয় হওয়ার পরে আমি ওকে হাসতে
দেখেছি।
-হ্যা। দুইজনের তো ভালই বন্ধুত্ত
দেখলাম।
-ইভা বড় হলেও মাঝে মাঝে বাচ্চা
মেয়েদের মত আবদার করে।মেয়েটি
একরোখা আর জেদি। আপনাদের
বাসায় কোন জেদ করে না তো?
-আরে নাহ!!!কিছুই মনে করি নি।আর ও
আমার কাছে কোন জেদ করে নি।
-আমি আমার মেয়ের খুশির জন্য সব
করতে পারি। সব ওর ইচ্ছামত করে।
-ইভা আমার সাথে ভালই থাকে।
-আচ্ছা ভাবি।উঠি।
.
পাঁচ
.
ইভার ফোন পেয়ে ফাহিম বাধ্য হয়ে
ছাদে আসলো। আজকে চাঁদ উঠেছে।
তাই ছাদে এসেছে। রাতে এই ছাদে
আসার কোন মানে হয়? ফাহিম বলল
-আচ্ছা এই রাতে ছাদে ডাকলে
কেন?
-দেখেছ আজ কত সুন্দর চাঁদ উঠেছে।
-হ্যা। সেটা তো দেখেছি। এই চাঁদ
দেখার জন্য ছাদে ডেকেছ? চাঁদ তো
ঘরের জানালা দিয়েই দেখা যায়।
-আরে বেশি কথা বলো কেন? আমি
কি তোমাকে শুধু চাঁদ দেখার জন্য
ডেকেছি? আমি তো একাই দেখতে
পারতাম।
-তাহলে কেন ডেকেছ?
-আমি তোমাকে ভালবাসি।এই
কথাটা বলার জন্য ডেকেছি।
-বন্ধুকে তো বন্ধু ভালবাসতেই
পারো।তাই বলে ছাদে ডেকে এখন
বলতে হবে?
-আমি বন্ধু হিসেবে তোমাকে
ভালবাসার কথা বলি নি।আমি
বলেছি তোমাকে আমার প্রেমিক
হিসেবে ভালবাসি।
-কি বলছো এইসব?
-তুমিও আমাকে ভালবাসো।
-ইভা। তুমি আমার অতিত সম্পর্কে তো
জানো।আর এটাও জানো আমি কোন
ভালবাসার সম্পর্কে জড়াতে চাই
না।
-আমি জানি রিয়ার সাথে তোমার
সম্পর্ক ছিল।আর রিয়া তোমাকে
ধোঁকা দিয়েছে।কিন্তু আমি তো
তেমন করবো না।তাহলে কেন এমন
বলছো?
-আমি তোমাকে বন্ধু হিসেবেই
ভাববো।প্রেমিকা হিসেবে
ভালবাসতে পারবো না।
-ভালবাসবে না তো?
-না।
-তুমি জানো আমি কি করতে পারি?
-যা খুশি করো।
কাঁদতে কাঁদতে ইভা নিচে চলে
গেল।
.
ছয়
.
সকাল বেলা ফাহিমের মা
ফাহিমকে ডাকছে।
-ঘুম থেকে ওঠ।
-কি হয়েছে? ডাকছো কেন?
-খবর কিছু শুনেছিস?
-এতক্ষণ তো ঘুমাচ্ছিলাম।খবর শুনবো
কিভাবে?
-ইভা নাকি খুব অসুস্থ হয়ে পরেছে।
কালকে রাত থেকে কিছুই খাচ্ছে
না।আর ঔষধ না খাওয়ায় অসুস্থ হয়ে
পরেছে।
-বলো কি!!
-ডাক্তার বলেছে এইরকম হলে বড় কিছু
হয়ে যেতে পারে।তুই একটু যা।তুই কিছু
করতে পারিস নাকি?
-আচ্ছা যাচ্ছি।
.
ইভাদের বাসায় গিয়ে দেখে ইভা
তার বিছানায় নিথর হয়ে পরে আছে।
কাছে গিয়ে বসে ফাহিম ইভার
মাথায় হাত রাখলো।ইভা তাকিয়ে
বলল
-তুমি এখানে এসেছ কেন?
-তোমার কারনেই তো আসলাম। এসব
কি পাগলামি শুরু করেছ? খাওয়া
দাওয়া সব বাদ দিয়েছ কেন?
-আমি খাওয়া বাদ দিলে তোমার
কি। তুমি বলতে আসবে কেন?
-পাগলামি বাদ দাও। আমি বলছি
তুমি খাও।আর পাগলামি করো না।
-তোমার কথা আমি শুনবো না। চলে
যাও।
-যদি তোমার প্রেমিক হয়ে বলি
তাহলে খাবে তো?
-কি বললে!!!
-এতক্ষণ তো বিছানা থেকে উঠতে
পারছিলে না।এখন আমাকে জড়িয়ে
ধরলে কিভাবে?
-আমার ভালবাসার শক্তি আমাকে
ভাল করে দিয়েছে।
-ছাড়ো।তোমার বাবা চলে আসবে।
-আসুক।দেখুক। তাতে আমার কিছুই হবে
না।
.
একটু পরে ইভার বাবা ঘরে ঢুকে তো
অবাক। ইভা সুস্থ হয়ে খাওয়া শুরু
করেছে। ইভা তার বাবা কে বলল
-আব্বু।আমার একটা কথা রাখবে।
-বল মা। সব কথা রাখবো।
-ফাহিমকে রশি আমাদের বেধে
রাখবে। যাতে আমাকে ছেড়ে না
যেতে পারে।
-ফাহিমকে তোর সাথে বিয়ে
দিয়ে দিব।যাতে তোকে ছাড়তে
না পারে।
.
সবাই হেসে উঠলো। ফাহিম ইভা
লজ্জা পেল।তাই তাদের মুখে মুচকি
হাসি।

ভালবাসার গল্প | Ecency