আসসালামু আলাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা সবাই খারাপ সময় পার করছি।করোনার প্রকোপ দিন দিন বেড়ে চলেছে আমাদের দেশে। যার ফলে আমরা কেও আমাদের সেই আগের সময় গুলোর মতো আনন্দ করতে পারছি না।
এখন আর আগের মতো দল বেধে চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়া হয় না, বন্ধুরা মিলে হইহল্লুর করা হয় না, একসাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। খেলার মাঠগুলো বিকেল বেলাতেও ফাকা পরে থাকে। এখন আগের মতো আনন্দ করাতো দূর ঠিক মতো কারো সাথে দেখাও হয় না।
এই সবকিছুর চেয়েও বড় কষ্টের বিষয় হলো কোথাও খেতে যাইতে পারি না।
হ্যাঁ আমি অনেক ফুডি একজন মানুষ। বাহিরে খেতে আমি অনেক পছন্দ করি। কিন্তু বাংলাদেশে লকডাউনের কারণে অনেকদিন বাহিরে খাওয়া হয় না। যার ফলে মনটাও অনেক খারাপ ছিলো।
এরমধ্যে গতকাল সকালে আমার প্রিয় বন্ধু আলভির ফোন। ফোন দিয়ে সে অন্য কোন কথা বলে নি, শুধু একটাই প্রশ্ন করেছে "বিরিয়ানি খেতে যাবো। তুই কি যাবি"? আমি জিজ্ঞেস করলাম "এই অবস্থার মধ্যে বাহিরে খাবি"? তখন আমাকে আবার জিজ্ঞেস করলো "হ্যাঁ নাকি না" ওর গলার স্বর শুনে বুঝতে পারলাম আজকে আর ওকে আটকানো যাবে না, আজকে বিরিয়ানি খেতে যাবেই। তাই ভাবলাম আমি আর কেন মিস করবো, আমিও রাজি হয়ে গেলাম।
দুপুর ১ টার দিকে বাসা থেকে বের হলাম। আমাদের গন্তব্য ছিলো সাভার এনাম মেডিকেলের পাশে শাহজাহান বাবুর্চির দোকান। কয়েকদিন যাবত তার বিরিয়ানির খুব নাম ডাক শোনা যাচ্ছিলো। তাই ভাবলাম একটু খেয়ে দেখা দরকার।
প্রথমে গেলাম আলভির বাসার নিচে। ফোন দিতেই ও বেরিয়ে এলো। এরপর আমরা দুইজন রওনা দিলাম।
বন্ধু আমার অনেক স্বাস্থ্যবান। খেতেও পারে অনেক। আমরা দুইজন হলাম খাদক পার্টনার। যেখানেই খেতে যাই একসাথে।
বিরিয়ানির দোকানে আমাদের আরেক বন্ধু অপেক্ষা করছিলো। সে আমাদের এই খাদক পার্টনারশীপের নতুন মেম্বার।
বিরিয়ানির জন্য অপেক্ষা
বিরিয়ানি হাজির
অনেকদিন পর এমন মজার বিরিয়ানি খাচ্ছিলাম। অনেক সুস্বাদু ছিলো বিরিয়ানিটা। বিরিয়ানির সাথে ড্রিংকস হিসেবে ছিলো বোরহানি।
খাওয়া শেষ করলাম।এরপর পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে কিছুক্ষন আড্ডা দিলাম আমরা।
আমার বন্ধু আলভিকে জিজ্ঞেস করলাম "কেমন লাগছে এখন তোর?" ওর উত্তর ছিলো "অনেকদিন পর তৃপ্তি নিয়ে খেলাম।"