পরিবর্তন চাই মানসিকতায়! 😇

Words
443
Reading
2 min
Listen
Play
6y

images 11.jpeg
Image source

নতুনকে গ্রহণ করার ক্ষমতা সবার হয় না। সাধারণত বয়স্কদের বেশিরভাগ নতুনকে গ্রহণ করতে চায় না। তবে এর ব্যতিক্রম ও ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে যুবক বয়সের মানুষও নতুনত্ব গ্রহণ করতে পারে না। আসলে এটা বয়সের সমস্যা নয় এটা মানসিক সমস্যা, পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে না পারার সমস্যা। তাইতো কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন

বার্ধক্য কে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাধা যায় না। বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি- যাহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন।

আমাদের চারপাশেই এমন মানুষ বিচরণ করছে। যারা নিজেদের আধুনিক বলে পরিচয় দেন অথচ পরিবর্তন মেনে নিতে চান না। আসলে এর পিছনে কি কাজ করে? হয়তো নিজের আবেগ আবার কখনো আত্নসম্মানের গরিমা।

এইতো সেদিন এক বন্ধুকে নিয়ে আমাদের হলের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম ও হাঁটা বন্ধ করে হলের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। হলের সামনের দিক দিয়ে একটি প্রকান্ড গেট বানানোর কাজ চলছে। আগে এদিক দিয়ে দেয়াল ছিলো আর তার পাশ দিয়ে ছিলো সারিবদ্ধ গাছ। এই গেট তৈরি করতে গিয়ে দেয়ালটা ভাঙা হয়ছে আর সামনের কিছু গাছ কাটা পড়েছে। আমি তো জানতাম আগেই কাজ চলছে কিন্তু ও তো জানতোনা। সে হঠাৎ দেখে তো নিজেকে সামলাতেই পারছিলো না। পারলে তখনই যারা কাজ করছে তাদের মেরে ধরে কাজ বন্ধ করে দেয়। অনেক কষ্টে তাকে সামলে নিয়ে আসি হলের সামনে থেকে। আসলে বিষয়টা হয়েছে হলের আরো দুটো ছোটো গেট রয়েছে এর মধ্যে একটি আমরা খুব ব্যবহার করতাম আর সেই গেট টি আমার বন্ধুর রুমের নিচ দিয়ে ছিলো বলে তার অনেক স্মৃতি সেখানে।

তাকে আমি যতই বলি গেট টা আসলেই প্রয়োজন সে তা অস্বীকার করে। সে এমন ও বলে সামনে কখনো আসলে তার নাকি মনেই হবে না এটা তার হল ছিলো। সে কিন্তু জানে আমাদের হলের সম্মুখ ভাগে গেট না থাকায় হল সাজানো হলেও তা ফুটে উঠে না। আর বৃষ্টি হলে তো রিকশাও পাওয়া যেতো না গেট ভিতরের দিকে হওয়াতে। সব কিছু জেনেও সে এই পরিবর্তন মেনে নিতে পারেনি সেদিন।

আরও একটি ঘটনা। সে সময় আমরা হলে থাকি। তখন আজকের মত ব্রড ব্যাণ্ড নেট এর ব্যবস্থা ছিলো না। হলের কমন রুমের ওয়াইফাই ব্যবহার করতো সবাই আর নয়তো নিজের মোবাইলের ইন্টারনেট ব্যবহার করতো। আমরা কয়েক জন গেলাম স্যার দের সাথে কথা বলতে যে ব্রড ব্যান্ড নেট আনার ব্যাপারে কথা বলতে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেই ফেলেন “আমাদের সময়ে তো ইন্টারনেট ই ছিল না আমরা পড়া লেখা করেছি না?” শেষ মেশ অনুমতি নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু একজন শিক্ষক যদি এমন ভাবে চিন্তা করেন তাহলে আসলে এই জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববার আছে।

পূরানোকে ধ্বংস না করে নতুন কিছু সৃষ্টি সম্ভব নয়। আমরা আসলে নামেই শুধু আধুনিক হচ্ছি কিন্তু চিন্তা চেতনায় এখনো আধুনিক হতে পারিনি। তাই আমদের আশেপাশে এতো শিক্ষিত মানুষ তারপরও সমাজের মান উন্নয়ন ঘটে নি। আমদের উপরই নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যৎ সমাজ চিন্তা।

পরিবর্তন চাই মানসিকতায়! 😇 | Ecency