পদ্মা সেতু, বাঙালির গৌরবের আরেক নাম

Words
448
Reading
2 min
Listen
Play
4y

“তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা” এই শ্লোগানটি কমবেশি আমরা সবাই শুনেছি । সম্ভবত এর মাধ্যমেই আমি সর্বপ্রথম জানতে পেরেছি পদ্মা নদীর নাম। আর এই পদ্মা নদীর বুকে যে সেতু নির্মাণ হয়েছে তার নাম পদ্মা সেতু এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ জুলাই (২৫.০৬.২০২২) পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি আসলেই অনেক প্রশংসার দাবিদার যদিওবা কিছু মানুষ এতে নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছে।

image
image source

বর্তমানে পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু এবং এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.১৫ কিলোমিটার। এটি পরবর্তী অবস্থানে আছে বঙ্গবন্ধু সেতু যার দৈর্ঘ্য **৪.৮ **কিলোমিটার এবং এটি যমুনা নদীর উপরে অবস্থিত।
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের প্রথম দুই তলা বিশিষ্ট সেতু যা এটিকে অনন্য এক বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে। উপরের তলায় সাধারণ যানবাহন চলাচল করবে এবং নিচ তলা রেল এর জন্য বরাদ্দ রয়েছে যা বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক।

image
image source

এবার আসি পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। এই সেতু মাওয়া-জাজিরা পয়েন্ট দিয়ে নির্দিষ্ট পথের মাধ্যমে বাংলাদেশের কেন্দ্রের সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সরাসরি সংযোগ তৈরি করেছে অর্থাৎ তাদের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে। এর কারণে ওইদিখের মানুষগুলোর ভোগান্তির অবসান ঘটেছে । নদী পার হওয়ার জন্য ফেরির উপর ভরসা করে থাকতে হবে না এবং অপেক্ষা করতে হবে না। আর কোনো মানুষকে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে করতে চিকিৎসার অভাবে জন্য জীবন দিতে হবে না। এবং এর কারনে প্রত্যক্ষভাবে তিন কোটির বেশি মানুষ উপকৃত হবে। সমস্যাগুলো খুবই সহজ সরল মনে হলে ও আসলে এতটা সহজ সরল নয়। তারাই এই সেতুর মূল্য খুব ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারবে যারা এ ধরনের সমস্যা গুলো মোকাবেলা করেছেন। পাশাপাশি ধারণা করা হচ্ছে যে এটির কারনে আমাদের দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে যেটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

এবার আসি নেতিবাচক মন্তব্যের দিকে। অনেকের মতামত এই যে পদ্মা সেতু তৈরির ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে দুর্নীতি করা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে আমার উত্তর হচ্ছে দেশের কোন কাজে দুর্নীতি হয় না। বলতে গেলে সব সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হচ্ছে। আর দুর্নীতিকে রাতারাতি নির্মূল করাও সম্ভব নয়। আমাদের প্রত্যেককে এই বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে এবং মেনে নিতে হবে কারণ এতে আমাদের কিছু করার আছে কি?
তার চেয়ে তিন কোটি মানুষের খুশিতে আমাদেরও খুশি থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। তাছাড়া এটিকে ছোট কোন অর্জন বলে দেখার কোন সুযোগ নেই।

.

কিছু তথ্য যা আমাদের জানা উচিত

.

  • এটিই বাংলাদেশের দুই তলা বিশিষ্ট প্রথম সেতু

  • পদ্মা সেতুর পাইলিং এর জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী হ্যামার ব্যবহার করা হয়েছে যেটা জার্মানি থেকে আনা হয়েছিল ।

  • প্রতিটি পাইল এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪২ তলা বিল্ডিং এর সমান।

  • পদ্মা সেতু তৈরিতে প্রচুর পরিমাণ দেশীয় পণ্যের ব্যবহার হয়েছে। যেমন - রড,সিমেন্ট, বালু।

  • এই সেতু তৈরি প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনেক বাংলাদেশী প্রকৌশলী সরাসরি সংযুক্ত ছিল যা ভবিষ্যতে এরূপ সেতু তৈরীর ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • পদ্মা সেতু ৮ রিকটার স্কেলের ভূমিকম্প শোষণ করতে সক্ষম।

পদ্মা সেতু, বাঙালির গৌরবের আরেক নাম | Ecency