প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই আমার বাবা-মাকে যাদের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা আমাকে সুন্দর একটা জীবন দান করেন। আজকে আমি আমার জীবনের এমন একজন মানুষের কথা বলবো, যার জন্যে আমার জীবনের পথ চলাটা পালটে গেছে। তার জন্য আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। আমার আজকের পড়াশোনার এই পর্যায়ে আসার পিছনে কয়েকটা মানুষ বিশেষভাবে জড়িত তার মধ্যে একজন হচ্ছেন আমার বড় বোন জামাই (দুলাভাই)। বোন জামাই বললে ভুল হবে সে ছিলো আমার বড় ভাই এর মত।
আমার জীবনে প্রতিটা ক্ষেত্রে কি সিদ্ধান্ত নিবো সেটা আমি কখনোই বুঝে উঠতে পারি নি। কিন্তু আমার সেই বড় ভাই আমাকে যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতো। আমার লাইফের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে পড়ি আমার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সময়। উচ্চ মাধ্যমিক এর পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শেষে আমি অনেক ডিপ্রেশনে চলে যাই, কারণ আমার তখন কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হয় না। আমার প্রতিটা মুহুর্ত অনেক ডিপ্রেশনে কাটে। আমি তখন বুঝতেছিলাম না কোথায় ভর্তি হব, কি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবো!? সেইসময় আমার সেই ভাই আমাকে অনেক সাপোর্ট দেয়, তিনি আমাকে অনেক ভালো একটা পরামর্শ দেন।
তখন তিনি আমাকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হওয়ার কথা বলেন। আমার বাবা মার সাথে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তির বিষয়ে কথা বলেন,তাদের রাজি করান। তারপরের দিনেই তার সাথে চলে যাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য।
তার সকল ব্যাস্ততার মধ্যেও তিনি আমাকে সময় দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেওয়া থেকে শুরু করে থাকা খওয়ার ব্যাবস্থাও তিনি করে দেন।
কিন্তু যে ভাই আমার সব কাজে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতো,আমার অভিভাবক ছিলেন যিনি, সেই ভাই আজ আমাদের মাঝে নেই 😢... আমাকে ভর্তি করিয়ে দেয়ার এক বছর পরেই আমার ভাইটা আমাদের ছেড়ে চলে যান, না ফেরার দেশে। যা আমি এখনও মেনে নিতে পারি না। আল্লাহ আমাকে বড় ভাই দিয়েছিলো কিন্তু তা ছিলো ক্ষনিকের জন্যে। আমি এখন প্রতিটা মুহূর্তে তার অনুপস্থিতি উপলব্ধি করি। আমি তার জন্য সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।
আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। পরকালে যেনো ভালো থাকেন, সব সময় এই দোয়া করি।