আমি একা, প্রতিদিন অক্সিজেন নিয়েও জীবন্ত লাশের মতো বেচেঁ থাকার নাম একাকীত্ব। আমার চারপাশে অনেক বন্ধু বান্ধব তারপরও আমি একা। আমার ফ্যামিলি আত্বীয়স্বজন এর মাঝে থেকেও আমি একা।পৃথিবীতে সাড়ে সাতশ কোটি মানুষ, এর মাঝেও আমি একা। অনেক মানুষের ভিরে, অনেক টাকার মাঝখানেও আমি একা অনুভব করি,প্রতিদিন প্রতিটা মুহুর্ত। আবার কখনও আমার ভালবাসার মানুষটি আমার কাছে থাকা স্বত্তেও আমি একা অনুভব করি, আবার কখনও আমার চারপাশে কেউ নেই তাও আমি একা অনুভব করি। জীবনকে মাঝে মাঝে খুব অসহ্য মনে হয়, নিজেকে অসহায় লাগে। এমনকি অনেকে নিজেকে শেষ করে দেয়ার রাস্তাও বেছে নেয়। এই একাকীত্ব হল মানুষের জীবনে ক্যান্সারের মতো যেটা আস্তে আস্তে একটা মানুষকে মানসিক ভাবে শেষ করে দেয়। কিন্তু ক্যান্সারের ওষুধ না থাকলেও একাকীত্ব থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসা যায় সেই ওষুধ ঠিকই আছে।
একাকিত্ব নিয়ে অনেকের ভুল ধারনা থাকে যে একটা সফল মানুষ বা অতিরিক্ত টাকা থাকলে হইতো কেউ একাকীত্বে ভোগে না। এটা একদম ভুল কথা। সমাজে অনেক প্রতিষ্ঠিত মানুষ আছে যাদের অনেক টাকা আছে। এরাও এক সময় একাকীত্বের পথ বেয়ে আসছে। টিভি,নিউজপেপার খুললে দেখা যায় একাকীত্বে মানুষিক যন্ত্রণায় ভুগে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে হাজারো মানুষ। আমরা সবাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে কম বেশি যুক্ত আছি। তার পরেও আমরা সামাজিক ভাবে একদম একা। কারন আমরা নিজেদের পিছনে ছুটে চলেছি শুধু,আমরা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক বেশি সময় ব্যয় করি। তবে এটা এখন শহরের যান্ত্রিক জীবনযাত্রার মত গ্রামেও এর প্রকব অনেক বেড়ে চলেছে দিন দিন।
শহরের জীবন যাত্রা অনেক ব্যাস্ত, একজন আর একজনের খোঁজ নেয়ার মত সময় নেই তাদের। মানুষ এখন অনেকটা যন্ত্রে পরিনত হয়ে যাচ্ছে। মানুষ অর্থের পিছনে ছুটতে ছুটতে এতোটা পাগল হয়েছে যে একবার ভেবে দেখে না যে,যখন সে একাকীত্বে ভুগবে তখন তার অর্থ কাজে আসবে না। বাবা মা এবং তাদের ছেলে সন্তানদের মধ্যে এখন অনেক দূরত্ব তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আর এখন সবার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হলো ইন্টারনেট দুনিয়া। আর আমাদের পরিবারের সাথে, আশেপাশের মানুষদের সাথে আমরা এই ইন্টারনেট দুনিয়াতেই কথাবার্তা বলি। সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দেওয়ার সময় টা আমাদের নেই। একে অপরের দুঃখ কষ্ট ভাগাভাগি করে নেওয়ার মত সময় টা নেই। মানুষিক যে অবসাদ,মনের মধ্যে যে চাপা কষ্ট গুলো, একাকীত্বের মুহূর্ত গুলো, এগুলো শেয়ার করার মতো মানুষ নেই। কারন আমাদের বন্ধুত্বটা এখন ভার্চুয়াল। আমরা এখন দুবেলা করে প্রেমিক প্রেমিকার খবর নেই। কিন্তু কখনও পাশের রুমে একাকী থাকা দাদা-দাদীকে গিয়ে একবারো জিজ্ঞাস করি না,তারা কেমন আছে? তাদের সাথে বসে গল্প করার মতো সময় নেই আমাদের। বাইরের মানুষের সাথে আমরা যে সময় নষ্ট করি সোশ্যাল মিডিয়াতে, তার অর্ধেক যদি আমরা আমাদের নিজের মানুষদের সাথে আমরা সময় পার করি। তাহলে হইতো কেও একাকীত্বে ভুগবে না। আমরা নাকি সামাজিক জীব! আমরা নাকি মানুষ হিসেবে উন্নত জীব!
পৃথিবীতে যে মুহুর্ত থেকে আমরা শ্বাস নেয়া শুরু করেছি,তখন থেকেই আমরা একা,এবং একটা সময় আমাদের একাই চলে চলে যেতে হবে দুনিয়া থেকে। আমরা সবাই একা পৃথিবীতে। আমাদের মনে একটা প্রশ্ন আসে আমরা সবাই কিভাবে একা? যখন আমরা কোন খুশির খবর শুনি আমাদের সাথে ভালো কিছু ঘটে তখন আমাদের প্রথম হাসিটা আমাদের মাঝে দেখা যায়। তার পর সেটা আমরা আশেপাশের সবার সাথে শেয়ার করি। আবার যখন আমরা কষ্ট পাই তখন আমাদের নিজের মনের মধ্যে যে কষ্ট পাই। তখন সেই কষ্টটা আমাদের নিজেকে যতটা আঘাত করে, সেটা আমাদের চারপাশে সবাই অনুভব করতে পারে না। তারা শুধু আমাদের শান্তনা দিতে পারবে। মা-বাবা, ভাই বোন, বন্ধুবান্ধব এগুলো একটা সর্ম্পক, এগুলো কখনই কারো থাকে না, চিরোজীবন থাকবে না। জীবনের এমন একটা সময় আসবে যেখানে আমাদের একাই থাকতে হবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। আমাদের দুক্ষে মানুষ শান্তনা দিতে পারবে, কিন্তু আমাদের দুক্ষের অর্ধেক কেউ নিজের মনের মধ্যে অনুভব করে আমাদের নিজের দুঃখটা কমাতে পারবে না।
আমাদের চারপাশে অনেক মানুষ আছে যারা একাকীত্বে ভোগে,তাদের অনেক কথা তারা সেয়ার করতে চায়। আমাদের উচিত তাদের সময় দেওয়া তাদের কথা শোনা।আমরা যখন একাকীত্বে থাকি সেই সময় টাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি, সেই সময় আমরা আমাদের স্বপ্ন নিয়ে ভাবতে পারি,কিভাবে আমাদের স্বপ্ন কে বাস্তবায়ন করতে পারি সেটা নিয়ে ভাবতে পারি। আমরা আমাদের কিয়েটিভিটি গুলোকে কাজে লাগাতে পারি। যে কাজ গুলো করতে আমাদের বেশি ভালো লাগে সেই কাজ গুলো আমরা করতে পারি।
আসলে আমরা পৃথিবীতে সবাই একা। পৃথিবীতে আমরা একা আসছি আবার একাই আমাদের পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে। এটাই চরম সত্য। তাই নিজেকে কখনো একা অনুভব না করা।