ক্যাম্পাস জীবনের শেষ রমজান

Words
441
Reading
2 min
Listen
Play
4y

IMG_20220411_181854-01.jpeg

এই বছরের রমজান মাসটাই ছিলো আমাদের ক্যাম্পাস জীবনের শেষ রমজান। কারণ আমাদের ভার্সিটি লাইফ শেষ হওয়ার আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। দেখতে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাও শেষের দিকে। এই বছরের রমজান মাস টা ছিলো আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ক্যাম্পাসে অতিবাহিত করা প্রথম এবং শেষ রমজান। করোনা মহামারীর কারণে ২ বছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিলো। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের রমজানের সময় আমি কঠিন একটা রোগে আক্রান্ত হই। এর জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের রমজান টা ক্যাম্পাসে অতিবাহিত করতে পারি নাই। এই বছর মহামারীর শেষ হওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়।

প্রতি বছর পরিবারের সবাই একসাথে ইফতার করা হয়। এ বছর পরিবারকে ছেড়ে ইফতার করতে হবে এইটা ভেবে প্রথম দিকে খারাপ লাগতো,পরিবারের সবাইকে অনেক মিস করতাম। কিন্তু এ বছর বন্ধুদের সাথে ইফতার করার অনুভূতিটা একদম আলাদা। একসাথে ইফতার করা মানে শুধু খাওয়া দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না, একসাথে ইফতার করা মানে একে অপরের সাথে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরো গভীর হয়। প্রাণের ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে একদিন, শুধু স্মৃতির পাতায় জমা থাকবে বন্ধুদের সাথে কাটানো মধুর সময় গুলো।

সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে আমাদের ড্যাফোডিল ক্যাম্পাস মেতে উঠে বন্ধুদের সাথে ইফতার আড্ডায়। ক্যাম্পাসের মাঠে,বনমায়াতে,আবাসিক হলে,ক্যান্টিনে,ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনের প্রায় সব জায়গা ভরে যায় ইফতার আয়োজনে। এখানে সমবেত হয় বিভিন্ন জেলার ছাত্র ছাত্রীরা,যেন মনে হয় সবাই মিলে একটা পরিবার। ইফতারের সময় হলেই জায়গায় জায়গায় বন্ধুরা মিলে সবুজ মাঠের মধ্যে গোল হয়ে বসে যায় সবাই মিলে ইফতার করবো বলে। ইফতারের আগের মুহুর্তটা আমার অনেক ভালো লাগে। সবাই মিলে একসাথে ইফতার কিনতে যাওয়া,শরবত বানানো, মুড়ি মাখানো এই সবকিছু অনেক আনন্দদায়ক। কেউ ব্যাস্ত পেয়ারা কাটাতে,কেউবা আপেল,কেউবা তরমুজ। আবার কেউ পিয়াজু, বরা, সোলা,বেগুনি সবার মাঝে বন্টন করে দিচ্ছে। কেউবা ব্যাস্ত ছবি তোলার জন্য। সবাই মিলে একসাথে ভাগাভাগি করে ইফতার করার আনন্দ যেন, পরিবারকে রেখে ইফতার করার কষ্টটাকে দূর করে দেয়।

IMG_20220411_181946-01.jpeg

সারাদিন ক্লাস, ল্যাব শেষ করে সন্ধায় সবাই মিলে ইফতারি করার মাঝে একটা আলাদা উত্তেজনা কাজ করে। সিনিয়ার, জুনিয়ার,বন্ধু বান্ধব সবাই মিলে একসাথে ইফতারি করাতে সবার মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন আরো দৃঢ় হয়। মাঝে মাঝে শিক্ষকেরা আমাদের সাথে ইফতার করতে যুক্ত হয়। তখন এক মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়, যেটা সচরাচর দেখা যায় না।প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যাচ এর, কোনো না কোনো ডিপার্টমেন্টের ইফতার এর আয়োজন থাকেই। আবার একই জেলার সব ছাত্র ছাত্রীরা একত্রিত হয়ে ইফতারের আয়োজন করে থাকে। এতে করে নিজ জেলার সবার সাথে একটা ভালোবাসের বন্ধন তৈরি হয়।

এইভাবে হয়তো আর কখনো ক্যাম্পাসে বন্ধুরা সবাই মিলে ইফতার করা হবে না। আর কোনো রমজান বন্ধুরা মিলে সাহরি খেতে ওঠা হবে না। বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসে কাটানো সময়গুলো একসময় স্মৃতিপট হয়ে থাকবে। আবার এটাই হতে পারে আমার জীবনের শেষ রমজান। বছরের সবচেয়ে উত্তম মাস হলো রমজান মাস। মুমিনদের জন্য সবচেয়ে প্রিয় মাস হলো এই রমজান মাস। গুনাহ মাফের মাস,আল্লাহকে রাজি খুশি করানোর মাস। আল্লাহ যেনো এই মাসের রোজা গুলো কবুল করেন এবং এই মাসের উছিলায় আমাদেরকে মাফ করে দেন।

ক্যাম্পাস জীবনের শেষ রমজান | Ecency