কার্পাস তুলার কথা বলতে গেলে আমাদের সর্বপ্রথম মাথায় চলে আসে জগৎ বিখ্যাত মসলিন কাপড়ের কথা। যা যুগের পরিবর্তন সাথে হারিয়ে গিয়েছে আমাদের মাঝ থেকে। আর এই জগৎ বিখ্যাত মসলিন কাপড় তৈরি হতো কার্পাস তুলা থেকে। কার্পাস তুলা ছিলো মসলিন কাপড়ের মূল উপাদান। আমরা অনেক বইয়ে পড়ে আসছি এবং আমাদের দাদা-দাদির কাছে গল্প শুনে আসছি এই মসলিন কাপড়ের কথা। অতীতের সেই মোগল আমল যুগেই খ্যাতি ছিলো এই মসলিন কাপড়। আমরা এই কাপড়ের কথা আরো শুনে আসছি যে এই কাপড় এতো টাই পাতলা ছিলো যা একটি আংটির ভিতর দিয়ে পুরো শাড়ী টেনে বের করা যেতো। আবার এই মসলিন শাড়ী একটি দিয়াশলাই প্যাকেটের ভিতর তুলে রাখা যাতো। এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি ছিলো।
এতো নামীদামী মসলিন কাপড়ও বর্তমান সময়ে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো। যা এখন আর আমরা তেমন দেখি না কোথাও। আর মসলিন কাপড়ের প্রধান উপাদান কার্পাস তুলাও চাষ করতে খুব একটা দেখতে পারতাম না কোথাও। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় এই কার্পাস তুলা চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। এবং চাষ করে লাভ করছেন কৃষকরা। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান চাষ করার জায়গা হলো গাজীপুরে। এক সময় গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এই কার্পাস তুলার অনেক বেশি চাষ হতো যার কারনে এই এলাকার নাম করা হয়েছিলো কাপাসিয়া। বর্তমান সময়ে কাপাসিয়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুইজনের সার্বিক প্রচেষ্টায় কাপাসিয়া উপজেলায় উৎপাদিত হচ্ছে কার্পাস তুলা। হারিয়ে যাওয়া সেই ঐতিহ্য টা ধরে রাখতে উনারা কার্পাস তুলা চাষের উদ্বেগ নেন।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নে সর্বমোট ১২০ বিঘা জমিতে চাষ করা হচ্ছে কার্পাস তুলা। এই কার্পাস চাষে যাবতীয় সার,বীজ, কীটনাশক সহ সকল খরচ বহন করছেন কৃষি অফিস এবং যার ফলে কৃষকেরা ভালো লাভবান হচ্ছেন। দেখা যায় একটি কার্পাস গাছ থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম তুলা পাওয়া যায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে যদি কার্পাস চাষের উদ্বেগ নেয়া যায় তাহলে আমরা সেই হারিয়ে যাওয়া মসলিন কাপড় নতুন করে উৎপাদন করতে পারবো। যা বাহিরের দেশেও রপ্তানি করা যাবে। এতে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক দিক থেকেও অনেক উন্নতি হবে। কার্পাস তুলা থেকে আমরা যে কটন সুতা পেয়ে থাকি সেটার গুনগতমান অনেক ভালো হয়। তাই আমাদের দেশে কার্পাস তুলা চাষ করার উদ্বেগ গ্রহন করা খুবই কার্যকরী হবে বলে আমার ধারনা।
কিছুদিন আগেই গিয়েছিলাম গাজীপুরে কাপাসিয়া উপজেলায়। কাপাসিয়া অনেক জায়গায় কার্পাস তুলা চাষ করেছেন। সেখানে গিয়ে দেখলাম এতো পরিমান জায়গায় চাষ করা হয়েছে আমরা ঘুরে শেষ করতে পারিনি পুরো জায়গা। কিছু কিছু জমিতে কার্পাস গাছে ফুল ধরেছে। আবার কিছু কিছু জমিতে ফুল থেকে যে ফল দেখা যায় তা ফেটে তুলা বের হয়েছে। যেই জমি গুলাতে তুলা বের হয়েছে সেখানে দেখলাম স্থানীয় কিছু লোক তুলা গুলো গাছ থেকে তুলে নিচ্ছি। তাদের কাছে আমরা জিজ্ঞেস করলাম তারা তুলা তুলে দেয়ার বিনিময়ে কি পাবে।তারা বললেন তাদের কে তুলার পরিমাণ অনুযায়ী টাকা দেয়া হয়। মানে কে কতটা পরিমাণ তুলা উঠিয়েছে সেই পরিমাপ অনুযায়ী তাদের কে কর্তৃপক্ষ টাকা দেন। এই বিষয় টা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।
এবং সেখানে দেখলাম অনেক ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্করাও সেখানে তুলা তুলছেন। আমাদের দেশের অনেক স্থান যেখানে কিছু চাষ করা হয় না এমন অনেক জায়গা রয়েছে। সেখানে যদি তুলার চাষ করা হয় তাহলে দেখা যাবে আমাদের দেশের হারিয়ে যাওয়া সেই বিখ্যাত মসলিন কাপড় ফিরে পাবো। এবং কার্পাস তুলা থেকে বাহিরের দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবো।