মনুষ্যত্ব

Words
490
Reading
3 min
Listen
Play
4y

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু আবার এই মানুষই সব চেয়ে নিকৃষ্ট বলে গণ্য হয়। এর কারন যে মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ থাকে না, তাকে মানুষ বলা যায় না। মানুষ বলতে মানুষের ভেতর মানবীয় গুন থাকতে হয়। মানবিক আচরণ থাকতে হয়। নৈতিক শিক্ষা নিতে হয়। কেবল মনুষ্যকুলে জন্ম নিলেই মানুষ হওয়া যায় না। মানুষকে অবশ্যই মানুষ হওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হয়।

মানুষের চিন্তা চেতনা, বিবেক বিবেচনা, বিচার বুদ্ধির ক্ষমতার কারণে অন্যসব প্রানী থেকে মানুষকে মানুষরূপে আলাদা করা হয়। মানুষ মনুষ্যত্বের অধিকারী। আর মানবতা বা মনুষ্যত্ববোধ না থাকলে মানুষ কখনই মানুষ নয়। তাই মনুষ্যত্বের বিকাশ প্রয়োজন। লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, উগ্রতা, স্বার্থপরতা, ক্রোধ প্রভৃতি কারণে মানুষের মনুষ্যত্ব হারিয়ে যায়। মনুষ্যত্ব লোপ পেলে মানুষ আর মানুষ থাকে না, মানুষ হয়ে যায় অমানুষ। গুম, খুন, ধর্ষন, লুটপাট, চুরি,ডাকাতি, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, ঘুষ,অপহরন, দুর্নীতি, অরাজকতা, মিথ্যা বলা, কাউকে বিপদে ফেলা এবং অশান্তি সৃষ্টি ইত্যাদি এগুলো হলো অমানুষের কাজ। সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি, আধিপত্য বিস্তার ও অহংকার মনুষ্যত্ব লোপ পাওয়ার অন্যতম কারন।

মানুষ যেখানে মনুষ্যত্ব কে প্রকাশ করবে ভালো কিছু করার চেষ্টা করবে, সেখানে এমন কিছু মনুষ্যত্বহীন মানুষ আছে যারা এইসব মানুষকে রুখে দিবে। সমাজে কিছু শ্রেনীর মানুষ আছে যারা কেউ কারো ভালোটা দেখতে পারে না। যখন দেখে আশে পাশের কোন মানুষ ভালো একটা কাজ করছে। তখন ওই শ্রেনীর মানু্ষগুলোর মধ্যে হিংসা জাগ্রত হয়ে যায়। তাকে নিয়ে সমাজের মধ্যে সমালোচনা শুরু করে দেয়। যেই মানুষ টা কষ্ট করে ভালো কিছু করার জন্যে চেষ্টা করছে, সেখানে সমাজের এমন কিছু মানুষ তাকে পিছুটানছে। এই মানুষ গুলোই মনুষ্যত্বহীন ভাবে সমাজে প্রভাব ফেলছে। সমাজে এমন আরো অনেক লোক আছে যাদের মধ্যে লোভ-লালসা বৃদ্ধমান। যারা অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ থাকে অন্যের ভালো কিছু দেখলে সেটাকে কেরে নেয়। এর মাঝে বেশি দেখা যায় সমাজের কিছু উঁচু শ্রেনীর লোক থাকে তারা অন্যের জমি ছিনিয়ে নেয় তাদের ক্ষমতা দেখিয়ে। জোরজবরদস্তি করে তাদের থেকে জমিন কেরে নিচ্ছে। এদের টাকা আছে ক্ষমতা আছে নেই শুধু মনুষ্যত্ব। এদের মধ্যে যদি বিন্দু মাত্র মনুষ্যত্ব থাকতো তাহলে এই জঘন্য কাজ গুলো করতে পারতো না।

মানুষের ভেতর ভালো মন্দের দ্বন্দ্ব থাকা স্বাভাবিক ব্যাপার। মন্দকে পরিহার করে ভালোকে বেছে নেয়া, ভালো পথ অনুসরণ করা মনুষ্যত্বের কাজ। আদর, স্নেহ, প্রেম, ভালবাসা, দয়া, উদারতা, মায়া-মমতা, সহযোগিতা, সততা, ধৈর্য,ত্যাগ, ক্ষমা, সহনশীলতা, আদব, ভালো ব্যবহার ইত্যাদি হচ্ছে মনুষ্যত্বের উদাহরণ। প্রতিটি মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব লুকিয়ে থাকে। হিংস্র স্বভাবটাকে দাবিয়ে রাখতে পারলে এবং সহিষ্ণুতার সঙ্গে একটু চর্চা করলেই মানুষের ভেতর থেকে মনুষ্যত্ব জেগে ওঠে। মানু্ষ চাইলেই পারে তার মনুষ্যত্ব টা প্রকাশ করতে, সেটা অনেক মাধ্যমেই পারা যায়। যেমন মানুষ বিপদে পরলে তাকে সহযোগিতা করে বিপদ থেকে রক্ষা করা। সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করে বড়দের সম্মান দেয়া ছোটদের স্নেহ দেয়া। সব সময় নিজের সততাকে রক্ষা করে চলা। এগুলোই তো মনুষ্যত্বের প্রমান। আমাদের মাঝে যে মনুষ্যত্ব গুণটা আছে সেটা সমাজের মাঝে প্রকাশ করতে হবে। সেই মনুষ্যত্বের প্রভাবেই আমদের সমাজ সুন্দর হবে দেশ সুন্দর হবে।

মানুষ শুধু মানুষ হলেই হবে না, মানুষের ভেতর মনুষ্যত্ব থাকতে হবে। কেননা মনুষ্যত্ব মানুষের জীবনকে আলোকিত করে। মনুষ্যত্বহীন মানব জীবন কখনও আলোর মুখ দেখে না। তাই সকল মানুষের উচিত মনুষ্যত্ব অর্জনের সাধনা করা। অনন্ত সুন্দর ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়ে মানুষের ভেতর মনুষ্যত্ব জেগে ওঠবে, দূর হবে সকল জঞ্জাল এটাই কামনা।

IMG_20190929_162942-01.jpeg

মনুষ্যত্ব | Ecency