ঈদ আনন্দে নতুন আপদ

Words
426
Reading
2 min
Listen
Play
4y

সুখ দুঃখ , আনন্দ ,হাসি কান্না, নিয়েই প্রতিটি মানুষের জীবন।মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র।তেমনি প্রত্যেকটি মানুষের আনন্দ বা কান্না বিভিন্ন রকম পন্থায় আসে।আমরা প্রত্যেকেই হাসিখুশি থাকার কাঙাল। আমরা প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো ছোট বড় কারণে খুশি হই।তেমনি প্রতিবার প্রতিবছরই ঈদ আনন্দ ছোট বড় সবার কাছেই আনন্দ ও খুশির কারণ।ঠিক তেমনি আমার কাছেও ঈদ মানেই খুশি।

আমি প্রতিবছরই চেষ্টা করি সকাল বেলায় নামাজ আদায় করে পরিবার কে সময় দেয়ার এবং বিকেলে ঘুরতে যাওয়ার।এবছর ও তার কোনো বেতিক্রম হয়নি কারণ আমার এলাকায় বিকালে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় আমি ঘুরতে বের হই।ঘুরতে বের হয়ে আমি রাস্তায় দেখতে পাই একটি পিকআপ। প্রায় ১৫-২০ জন ছেলেরা মিলে সেই পিকআপের উপর উঠে দাঁড়িয়ে নাচানাচি করছে, সাউন্ডবক্সের উচ্চ আওয়াজের গানের তালে তালে। এরসাথে তারা মেয়ে মানুষ দেখলে ঠিক সেই মুহূর্তেই হইচই আরো বেশি করে করছে। দেখলাম পিকআপের ছেলেদের বয়স অনেক কম। তারা এই প্রজন্মের টগবগে তরুন।দেখে খুব খারাপ লাগলো।কিন্তু কিছুই করার নেই ,কারণ তারা পিকআপ নিয়ে তাদের নিম্নস্তরের আনন্দ নিয়ে ছুটে চলেছে।

ঈদের পরের দিনই ফেসবুকে দেখতে পেলাম প্রায় অনেক জায়গায় তরুণরা এমন পিকআপ নিয়ে সাউন্ডবক্সের গানের তালে তালে নাচানাচি করছে এমন ছবি ও ভিডিও। আমার আবারও খারাপ লাগা শুরু হলো। কারণ এই যুবকেরা যেভাবে ঈদের দিন তারা উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে চলন্ত পিকআপের ওপর নাচানাচি করেছিল যা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। ঈদের সময় এবং ঈদের সময় ছাড়াও আমাদের চলাফেরা করার সময় প্রতিনিয়ত কতো দুর্ঘটনা ঘটে। শত শত হাজার হাজার প্রাণ ঝরে যায় প্রতিবছর।

একটি জীবন্ত মানুষকে নিয়ে তার পরিবারের কতো খুশি ও আনন্দ আরো কত কি! কিন্তূ এই প্রজন্ম যদি আমরা না বুঝি আমাদের জীবনের মূল্য কি ও পরিবারে আমাদের মূল্য কত টুকু এবং দেশও জাতির ভবিষৎ আমরাই।তাহলে একাধারে আমরা হারাবো আমাদের উজ্জ্বল ভবিষৎ ও জীবন ।

বর্তমান পিকআপ নিয়ে এই ধরনের আনন্দ করা যেমন জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ তেমনি একইভাবে নিন্দনীয়। এছাড়াও অতিরিক্ত শব্দ দূষণের ফলে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা (মাথা ব্যাথা,উচ্চরক্ত চাপ,কানের পর্দা ফেটে যাওয়া ,হৃদরোগ ইত্যাদি) দেখা দিতে পারে।
এই ধরনের কাজ আমরা তরুণরা সাধারণত ঝোঁকের বশে করে থাকি।কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে আমাদের জন্য তা কতো টুকু যথার্থ এবং জীবনের ঝুকি আছে কিনা ?এই কাজ সামাজিক ব্যাধি হওয়ার আগে আমাদের সবার উচিত তাদের অভিভাবকদের অবগত করা এবং তাদের খুব সুন্দরভাবে বিষয়টি নিয়ে বোঝানো। প্রয়োজনে প্রশাসনের সাহায্য নেই।

received_1683046092046940.jpeg
Source Facebook
তবে, ঈদের দুইদিন পর আবারও একটি ভিডিও দেখলাম, আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কাজ।তারা এরকম গানবাজনা ও নাচানাচি করা চলন্ত পিকআপ গুলো থামিয়ে সেই পিকআপে থাকা ছেলেদের এই হুমকিস্বরূপ কাজ নিয়ে ও জীবনের মূল্য নিয়ে বোঝাচ্ছে। আমার খুব ভালো লাগলো ভিডিওটি দেখে এবং গর্বও হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। সেই তরুণরা আইন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কথা দিল তারা দ্বিতীয় বার এমন কাজ করবে না।
আসুন আমরা তরুন প্রজন্মকে ভালো কিছু শিখাই ও ভুল পথ থেকে বাঁচাই ।
ধন্যবাদ

ঈদ আনন্দে নতুন আপদ | Ecency