গতকয়েক দিন যাবত আলোচনার শীর্ষস্থানে রয়েছে তুরস্কের এবং সিরিয়ার ভূমিকম্পের ভয়াবহতা। এটা আমাদের সারা বিশ্বের কাছে একটি মর্মান্তিক ঘটনা। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভোর ৪:১৭মিনিটে তুরস্ক এবং সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় আচমকা শুরু হয় এই ভূমিকম্প। মাত্র ৪৫ সেকেন্ড স্থায়ী হয় এই ভূমিকম্প। ৭.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্প তুরস্কের এবং সিরিয়ার কয়েকটি শহর করে তুলেছে মৃত্যু কূপে। যা পুরো বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। তুরস্কে এবং সিরিয়ার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে সংবাদমাধ্যমে। আরো কত-শত মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
এতো বড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবে কল্পনাও করতে পারেনি তুরস্কের মানুষগুলো। তারা কল্পনাও করতে পারেনি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সব এলোমেলো হয়ে যাবে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্পে তাদের পরিবার হারিয়ে যাবে না ফেরার দেশে। সবাই তখন ঘুমে ছিলো কেউ জানতেন না তাদের এতো বড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর মুখে পরতে হবে। মাত্র ৪৫ সেকেন্ডর ভূমিকম্পে যে মানুষ গুলো ছিলো একটি বাড়ির মালিক গাড়ির মালিক, কিন্তু কিছু সময় পরেই তাদের রাস্তায় জায়গা খুজতে হচ্ছে। কি এক মর্মান্তিক অবস্থা যা তুরস্ক এবং সিরিয়ার মানুষ ভাবতেও পারে নি।
তুরস্কে এবং সিরিয়ার এমন ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে বিশ্বের কোন দেশ বসে নেই। যে যেভাবে পারছে তুরস্কে এবং সিরিয়ায় সহযোগিতা করছেন। এই মর্মাহত সময়ে ভুলে গেছে নিজেদের মধ্যে থাকা সকল পার্থক্য। সবাই এখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন তুরস্কে এবং সিরিয়ায়। দূর্যোগের কয়েকদিন পরেও আমরা দেখতে পাচ্ছি দংশ স্তুপ থেকে অনেক মানুষ জীবিত উদ্ধার করছেন। অনেক দেশ থেকেই উদ্ধার কর্মী পাঠানো হয়েছে তুরস্ক এবং সিরিয়ায়। আমাদের বাংলাদেশ থেকেও অনেক অনেক মানুষ বাড়িয়ে দিয়েছে সহযোগিতার হাত। উদ্ধার কর্মী পাঠিয়েও সহযোগিতা করছেন আমাদের দেশ। এখানেই আমাদের সার্থকতা যেখানে আমরাও কার বিপদে পাশে দাড়াতে পারছি।
প্রকৃতির কাছে আসলে আমরা অসহায়। এতো উন্নতি আমাদের সারা বিশ্ব, এতো আধুনিকতা কিন্তু সামান্য কয়েক সেকেন্ডের দুর্যোগের কাছে যেনো আমরা মুল্যহীন। আমরা আধুনিকতার দিক থেকে যতো এগিয়ে যাই না কেনো, সব কিছু প্রকৃতির কাছে তুচ্ছ। মুহুর্তের মধ্যে সব বিলীন করে দেয় প্রকৃতি। আজকে তুরস্ক এবং সিরিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব। এতো বড় বড় অট্টালিকা ধনসম্পদ সব মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে গেলো সামান্য কয়েক সেকেন্ডের এক দূর্যোগে।
আমাদের বাংলাদেশও এমন বড় ভুমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন । যদি এমন ভূমিকম্প সংঘটিত হয় আমাদের দেশে। তাহলে দেখা যাবে ঢাকা শহরের ভয়াবহতা এমন দাঁড়িয়েছে যা আমরা কল্পনা করতেও পারবো না। কারন ঢাকার ভিতরে যেভাবে বাড়িঘর করা হয়েছে। অপরিকল্পিত অনেক বাসাবাড়ি রয়েছে যা অনেক বেশি ঝুকিপূর্ণ। ভূমিকম্প এমন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা পূর্বের কোন সংকেত আমরা পাওয়ার আগেই দংশ স্তুপে পরিনত হয়ে যাবো। এরজন্যে আমাদের সব সময় সতর্কতা নিয়ে থাকতে হবে। দূর্যোগ মুকাবিলা করার ব্যাবস্থা থাকতে হবে।