আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

Words
420
Reading
2 min
Listen
Play
4y

''আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি'' আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে কথা বলতে গেলেই এই সুন্দর গানটি আমাদের মুখে চলে আসে প্রথমেই। গানের মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস বাঙালি জাতির অনেক কষ্টের ফল। ১৯৫২ সালে যখন পাকিস্তান উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষার স্বীকৃতি দিতে চায় পূর্ববাংলায় । তখন আমাদের দেশের দামাল ছেলেরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নিয়ে রাজপথে নামেন এবং তীব্র প্রতিবাদ করেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি যখন আমাদের দেশের তরুণ ছেলেরা রাজপথে নামেন। তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের উপর গুলিবর্ষণ করেন। এতে আমাদের দেশের অনেক তরুণ ছেলেরা তাদের প্রান বিসর্জন দেন সেই আন্দলোনে। সেই আআন্দোলনে শহীদ হয় সালাম, বরকত, রফিক,জব্বার সহ নাম না জানা আরো অনেক দামাল সন্তান।

সেইদিনের সেই তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। তাদের সেই জীবন বিসর্জনের ফলেই আমরা আজ আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলতে পারছি। তাই আমাদের বাংলাদেশে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবেও পালন করে থাকি। শুধু আমরাই নয় ১৯৯৯ সালে ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়। যা আমাদের জন্যে গর্বের একটি বিষয়। সারা বিশ্বে এই দিনটা কে মাতৃভাষা হিসেবে পালন করেন। ২০০০ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ১৮৮ টি দেশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করেন। সারা বিশ্বের কোন দেশই আমাদের দেশের মতো ভাষার জন্যে শহীদ হননি। নিজের ভাষাকে পেতে এতোটা ত্যাগ স্বীকার করেন নি যা বাঙালি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে।

ফেব্রুয়ারী মাসটি আমাদের দেশের জন্যে একটি শোকের মাস হিসেবেও পালন করা হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারী রাত ১২.০১ মিনিটে সারা দেশের সকল জায়গায় শহীদের স্মরণে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া হয়। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল স্তরের রাজনৈতিক দল সহ সাধারণ জনগন সকলেই এই দিনে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে থাকেন। আমাদের ভার্সিটি প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে থাকেন। প্রতি ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রতিটি ক্লাব থেকে সকলেই মিলে শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে থাকেন। ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের জন্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির দিন।

আমি যখন কলেজে পড়াশোনা করি তখন ২১শে ফেব্রুয়ারির এই দিনে আমরা সকল ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে রেলি করে শহীদ মিনারে ফুল দিতাম। আমাদের কলেজে প্রতিবছর এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং শহীদের স্মরণে শোক রেলি করে শহীদ মিনারে ভোরবেলায় ফুল দেয়া হতো । এবং সারা দিন কলেজে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো। সেখানে আমরা সকলেই অংশগ্রহণ করতাম। দিনটি অনেক ভালো কাটাতাম আমরা সকলেই। এই দিন টা আমাদের কাছে এখন যেমন আনন্দের একটি সময় আবার এই দিনই ছিলো আমাদের বাঙালির জন্যে অশ্রু ঝরানোর। হইতো আমাদের দেশের দামাল ছেলে গুলো প্রান বিসর্জন দিয়ে মাতৃভাষা বাংলা কে রাষ্টভাষা না করলে। আমাদের এই বাংলা ভাষার কোন মুল্য পেতো না। বিশ্ব দরবারে এখন বাংলা ভাষার মর্যাদা অনেক। যা আমাদের কাছে অনেক বড় গর্বের একটি বিষয়।

received_1215917159063970.jpeg

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | Ecency